
প্রচণ্ড গরমে আরাম পেতে আইসক্রিম খেতে চান অনেকেই। এ সময় আইসক্রিমের কেনাবেচাও বাড়ে। এ কথা ঠিক যে প্রচণ্ড গরমে আইসক্রিম খেলে কিছুটা স্বস্তি মেলে। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে আইসক্রিম কি সত্যিই উপকারী? বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মতলেবুর রহমান-এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম।
গরমে আইসক্রিমের ঠান্ডা বেশ আরামদায়ক। তবে এই স্বস্তি সাময়িক। লম্বা সময় স্বস্তি পেতে শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখার বিকল্প নেই। আইসক্রিমে যদি পানির পরিমাণ বেশি থাকে, তাহলে কিছুটা বেশি সময় পর্যন্ত স্বস্তি পাবেন।
অধিকাংশ আইসক্রিম তৈরি হয় দুধ দিয়ে। সাধারণত অনেকটা চিনি থাকে। চকলেটের মতো ভারী উপাদানও থাকে অনেক আইসক্রিমে।
এসব উপাদান হজম ও বিপাকের জন্য বেশ খানিকটা পানির প্রয়োজন হয়। তাই আইসক্রিম খাওয়ার পর পিপাসা লাগতে পারে।
আর বিপাকের পর যে তাপ উৎপন্ন হয়, সেই তাপের কারণে কিছুটা গরমও লাগতে পারে।
বেশ কিছুদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যালরিসম্পন্ন আইসক্রিম খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকিও থাকবে।
এ ছাড়া প্রচণ্ড গরমের সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা যেকোনো খাবার বা পানীয় খেলে সহজে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়।
গরমে আইসক্রিম খেতে চাইলে এমন আইসক্রিম বেছে নিন, যাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে। চিনি বা চকলেটের মতো উপাদান এড়িয়ে চলতে পারলে ভালো। শুধু ফলের রস দিয়ে তৈরি করা আইসক্রিম সবচেয়ে উপকারী।
ফলের রসের মিষ্টতা চিনির মতো ক্ষতিকর নয়। ফলের রস সহজে হজম হয়। ফলের রস থেকে পাওয়া ক্যালরির মাত্রা তুলনামূলক কম।
অর্থাৎ ফলের রস বিপাকের পর দেহে খুব বেশি তাপ উৎপন্ন হয় না। আর ফলের রস দেহের পানির চাহিদাও মেটায়। তাই অন্যান্য আইসক্রিমের চেয়ে গরমের সময় শুধু ফলের রসের আইসক্রিম বেশি স্বস্তিদায়ক।
চাইলে বাড়িতে আইসক্রিম আকৃতির ছাঁচে কাঠি বসিয়ে ফলের রস জমিয়ে খেতে পারেন, যেটাকে বলে পপসিকল। লেবু বা পুদিনাপাতার মতো সতেজ স্বাদের আইসক্রিম বেছে নিতে পারেন।
এ ধরনের স্বাদে গরমে আরাম পাবেন। তবে খুব গরম পরিবেশে আইসক্রিম না খেয়ে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসক্রিম খাওয়া ভালো।
ধরুন, আপনি বাইরে প্রচণ্ড গরমে কাজ করছেন। ওই সময় মন চাইলেও আইসক্রিম খাবেন না; বরং কাজের মধ্যে বিরতি নিয়ে ছায়ায় কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর আইসক্রিম খেতে পারেন। তাহলে হুট করে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।