অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া
এ সপ্তাহের রাশিফল (২৮ ফেব্রুয়ারি–৬ মার্চ ২০২৬)
আপনার সপ্তাহটি কিছুটা চাপযুক্ত ও রূপান্তরমূলক হতে পারে। বিশেষ করে কাজের জায়গায় আপনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন, যেখানে নিজের অবস্থান, দায়িত্ব ও সম্মান নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। যাঁরা উচ্চপদে আছেন বা নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁদের ওপর কাজের চাপ বাড়তে পারে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতের অমিল, সিদ্ধান্ত নিয়ে টানাপোড়েন সামনে আসতে পারে। আপনি যেভাবে এত দিন কাজ করে এসেছেন, সেই পুরোনো পদ্ধতি আর কার্যকর না–ও থাকতে পারে। তাই চাইলে বা না চাইলে নিজেকে নতুনভাবে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হবে।
সপ্তাহের শুরুর দিকে আপনার মন অনেক বেশি আবেগপ্রবণ থাকতে পারে। ঘরসংক্রান্ত বিষয়, পরিবারের কারও আচরণ বা পুরোনো কোনো স্মৃতি আপনাকে অস্থির করে তুলতে পারে। কাজের চাপের সঙ্গে মানসিক চাপ একসঙ্গে চলতে পারে বলে ভেতরে–ভেতরে ক্লান্তি আসতে পারে। এ সময় নিজের মনের যত্ন নেওয়া জরুরি।
মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা হালকা হবে। নিজের ভেতরের সৃজনশীল দিকটি প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। কেউ কেউ লেখালেখি, পরিকল্পনা বা নতুন আইডিয়া নিয়ে ভাবতে পারেন। সন্তান বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে—কখনো আনন্দের, কখনো দুশ্চিন্তার। তবে এই সময়টাতে আত্মবিশ্বাস কিছুটা ফিরে আসবে, যা আপনাকে মানসিকভাবে শক্ত রাখবে।
সপ্তাহের শেষ দিকে আবার বাস্তব জীবনের চাপ সামনে আসবে। কাজের পরিমাণ বাড়তে পারে, দায়িত্ব বাড়তে পারে এবং শরীরও তার প্রভাব বুঝিয়ে দিতে পারে। হালকা শারীরিক অসুবিধা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা বা কাজের প্রতি বিরক্তি দেখা দিতে পারে। যাঁরা নিয়মিত নিজের শরীরের যত্ন নেন না, তাঁদের জন্য এই সময়টা একটু সাবধানতার।
এ সপ্তাহ আপনার চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের সময়। জীবনের কিছু বিশ্বাস, আদর্শ বা সিদ্ধান্ত নিয়ে মনে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই অনুভূতি অস্বস্তিকর হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি আপনাকে আরও পরিণত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।
কাজ, পড়াশোনা বা ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। যাঁরা উচ্চশিক্ষা, বিদেশযাত্রা, আইনি বিষয় বা গুরুজনের পরামর্শের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিশেষভাবে এই চাপ অনুভব করতে পারেন। আগে যেসব সিদ্ধান্ত ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন, এখন সেগুলোর বাস্তব ফল চোখের সামনে আসতে পারে। তাই এই সপ্তাহে ভাগ্যের ওপর ভরসা না করে বাস্তব পরিকল্পনায় জোর দেওয়াই ভালো।
সপ্তাহের শুরুতে নিজের কথা বলার ইচ্ছা বাড়বে। সাহস করে কিছু সিদ্ধান্ত জানাতে বা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাইবেন। ছোট ভ্রমণ, ফোনকল বা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে, যা ভবিষ্যতের জন্য দিকনির্দেশনা দেবে। তবে কথা বলার সময় একটু কড়া হয়ে গেলে সম্পর্কের টানাপোড়েন হতে পারে, এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
সপ্তাহের মধ্যভাগে ঘর ও পরিবারের দিকে মন বেশি যাবে। বাড়ির পরিবেশ, মায়ের স্বাস্থ্য বা গৃহস্থালি বিষয় নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে। দাম্পত্য জীবনের জন্য সপ্তাহটি ইতিবাচক নয়। কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন।
সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হবে। মনোযোগ যাবে পড়াশোনা, সম্পর্ক বা নিজের পছন্দের কাজে। যাঁরা পরীক্ষার্থী, শিক্ষার্থী বা সৃজনশীল পেশায় যুক্ত, তাঁরা তুলনামূলক ভালো সময় পাবেন। প্রেমের সম্পর্কে সংবেদনশীলতা বাড়বে, কারও সঙ্গে আবেগপূর্ণ কথাবার্তা হতে পারে।
আপনার জীবনে কিছুটা ভেতরের পরিবর্তন ও অদৃশ্য চাপ নিয়ে আসতে পারে। এমন কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে, যেগুলো আপনি সাধারণত এড়িয়ে চলেন, যেমন ভয়, অনিশ্চয়তা বা মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা দুশ্চিন্তা। হঠাৎ করে মনে হতে পারে, সবকিছু আপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তবে বাস্তবে এটি আপনাকে ধীরে ধীরে আরও সচেতন করে তুলবে।
আর্থিক দিক থেকে সপ্তাহের শুরুটা কিছুটা চিন্তার হতে পারে। আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে অথবা পরিবারের কোনো সদস্যকে নিয়ে অর্থসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। কথা বলার সময় আবেগ জড়িয়ে গেলে ভুল–বোঝাবুঝির আশঙ্কা থাকে, তাই ভাষা ও স্বর নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাবে। নিজের মত প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন, সাহস বাড়বে এবং যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক জট খুলে যেতে পারে। যাঁরা লেখালেখি, মিডিয়া, শিক্ষা বা যোগাযোগভিত্তিক কাজে যুক্ত, তাঁরা এই সময় নিজেদের দক্ষতা ভালোভাবে দেখাতে পারবেন।
সপ্তাহের শেষ দিকে মন আবার ঘরের দিকেই বেশি ঝুঁকবে। কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত ক্লান্তি একসঙ্গে অনুভূত হতে পারে। নিজের জায়গা, নিজের শান্তি—এই বিষয়গুলো তখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হবে। কেউ কেউ এ সময় পুরোনো স্মৃতি বা মানসিক বোঝা নিয়ে ভাবতে পারেন, যা সাময়িকভাবে মন ভারী করে তুলতে পারে।
স্বাস্থ্যের দিক থেকেও সপ্তাহের শেষভাগে একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিন্তা, অনিয়মিত ঘুম বা মানসিক চাপ শরীরে প্রভাব ফেলতে পারে। নিজেকে সময় দেওয়া এই সপ্তাহে খুবই জরুরি।
আপনার জীবনের সম্পর্ক ও অংশীদারত্বের বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। কাছের মানুষ, জীবনসঙ্গী বা যাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করেন, তাঁদের আচরণ ও মনোভাব আপনাকে ভাবিয়ে তুলতে পারে। কখনো মনে হতে পারে, সম্পর্কের ভারসাম্য ঠিক নেই বা কেউ আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। আবার কখনো নিজের ভেতরেই এমন অনুভূতি আসতে পারে যে আপনি অতিরিক্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন।
সপ্তাহের শুরুতে নিজের আবেগ খুব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেতে পারে। আপনি যেভাবে ভাবছেন, সেটি অন্যদের কাছেও বোঝাতে চাইবেন। কিন্তু আবেগ বেশি হলে ছোট কথাও বড় হয়ে যেতে পারে। তাই এই সময় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেও সংযম বজায় রাখা খুব জরুরি। আত্মসম্মান ও সম্পর্ক—এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রাখার পরীক্ষা হতে পারে এই সময়টা।
অর্থ ও নিরাপত্তার বিষয় সামনে আসবে। খরচ বাড়তে পারে বা ভবিষ্যৎ নিয়ে হিসাব-নিকাশ করতে হতে পারে। পরিবারের প্রয়োজন বা নিজের আরাম–সুবিধার জন্য কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এ সময় বাস্তববাদী হলে লাভ হবে, আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিলে চাপ বাড়তে পারে।
সপ্তাহের শেষ দিকে সাহস ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। যেসব বিষয় এত দিন ঝুলে ছিল, সেগুলো নিয়ে কথা বলার বা এগিয়ে যাওয়ার মানসিক শক্তি পাবেন। ছোট ভ্রমণ, গুরুত্বপূর্ণ আলাপ বা নতুন পরিকল্পনার সূচনা হতে পারে। নিজের ওপর বিশ্বাস কিছুটা ফিরবে, যা আপনাকে মানসিকভাবে হালকা করবে।
আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে কাজের চাপ, দায়িত্ব ও শারীরিক–মানসিক ক্লান্তি। এমন অনুভূতি হতে পারে যে আপনাকে অনেক কিছু একাই সামলাতে হচ্ছে, অথচ প্রত্যাশিত সহযোগিতা ঠিকভাবে পাচ্ছেন না। কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, কেউ কেউ আপনার কাজের সমালোচনা করতে পারেন বা অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি করতে পারেন। এ সময় ধৈর্য না রাখলে বিরক্তি ও রাগ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
সপ্তাহের শুরুটা একটু ভারী হতে পারে। মন ভালো না থাকা, ঘুমে ব্যাঘাত বা অজানা দুশ্চিন্তা আপনাকে অস্থির করে তুলতে পারে। অনেক কিছু মনে জমে আছে, কিন্তু সেগুলো কাউকে বলতে ইচ্ছা না–ও করতে পারে। নিজের ভেতরে চেপে রাখলে মানসিক চাপ আরও বাড়বে, তাই নির্ভরযোগ্য কারও সঙ্গে কথা বলা উপকারী হবে।
মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করবে। নিজের ওপর বিশ্বাস বাড়বে, আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস আবার ফিরে আসবে। আপনি চাইবেন নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে এবং অন্যদের দেখাতে যে আপনি দুর্বল নন। এ সময় নিজেকে উপস্থাপন করার সুযোগ পেলে ভালো ফল পেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যেন অহংকারে পরিণত না হয়, এটা খেয়াল রাখা জরুরি।
সপ্তাহের শেষ দিকে অর্থ ও পারিবারিক বিষয় সামনে আসতে পারে। খরচের হিসাব, সঞ্চয় বা পরিবারের কারও প্রয়োজন নিয়ে ভাবতে হতে পারে। কাজের চাপের পাশাপাশি এসব দায়িত্ব মানসিকভাবে আপনাকে ক্লান্ত করতে পারে। শরীরও তখন কিছুটা সতর্ক সংকেত দিতে পারে, যেমন ক্লান্তি, মাথাব্যথা বা পেটের সমস্যা। নিয়ম মেনে খাওয়া ও বিশ্রাম নেওয়া খুব দরকার।
আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, আবেগ ও সৃজনশীল দিকটি। এমন কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে, যা আপনাকে ভাবতে বাধ্য করবে—আপনি আসলে কী চান এবং কোথায় নিজের সীমা টানতে হবে। সম্পর্ক বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মনে একধরনের চাপ কাজ করতে পারে। কেউ কেউ অনুভব করতে পারেন যে তাঁরা নিজেদের মতো করে আনন্দ করতে পারছেন না। ব্যক্তিগত সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। অনেকেই দাম্পত্য জীবন কিংবা রোমান্টিক সম্পর্কে জটিলতার সম্মুখীন হতে পারেন।
তবে সপ্তাহের শুরুতে সামাজিক যোগাযোগ ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ আসতে পারে। কোনো পুরোনো পরিচিতের সঙ্গে কথা বা হঠাৎ কোনো সুখবর মন ভালো করে দিতে পারে। ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু আশা তৈরি হবে, যদিও তার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বের কথাও মাথায় আসবে। আপনি বুঝতে পারবেন, সব আনন্দের সঙ্গেই দায়িত্ব জড়িয়ে থাকে।
মাঝামাঝি সময়ে মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে। নিজের ভেতরে একধরনের চাপ বা একাকীত্ব অনুভূত হতে পারে, যদিও বাইরে থেকে সব ঠিকঠাক মনে হবে। কাজের চাপ, অন্যদের প্রত্যাশা বা নিজের পারফেকশন ধরে রাখার চেষ্টা আপনাকে ভেতরে–ভেতরে ক্লান্ত করে তুলতে পারে। এ সময় নিজের জন্য একটু নিরিবিলি সময় না পেলে বিরক্তি বাড়তে পারে।
সপ্তাহের শেষ দিকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আপনার নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিজের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা পরিষ্কারভাবে ভাবার সুযোগ পাবেন। শরীর ও মন—দুটোই আগের চেয়ে সক্রিয় হবে। যেসব কাজ আটকে ছিল, সেগুলো নতুন করে শুরু করার শক্তি পাবেন। নিজের ওপর বিশ্বাস বাড়বে এবং আপনি বুঝতে পারবেন, সব চাপ সত্ত্বেও আপনি ঠিক পথেই আছেন।
আপনার জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে মা–বাবা, সন্তান, ঘর ও মানসিক শান্তি। বাইরে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে–ভেতরে অস্থিরতা কাজ করতে পারে। পারিবারিক কোনো বিষয়, পুরোনো মতভেদ বা দায়িত্ব নিয়ে চাপ বাড়তে পারে। এমনও হতে পারে যে আপনি সবার জন্য ভাবছেন, কিন্তু নিজে কোথাও গিয়ে শান্তি পাচ্ছেন না। প্রোপার্টি–সংক্রান্ত ইস্যুতে দুশ্চিন্তা বাড়তে পারে। মা-বাবা, সন্তান কিংবা পারিবারিক কারণে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া সপ্তাহের শুরুতে কাজের দিকটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দায়িত্ব বাড়তে পারে, কারও নজর আপনার কাজের ওপর বেশি পড়তে পারে। কেউ কেউ আপনার কাছ থেকে বেশি প্রত্যাশা করতে পারেন, যা আপনাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলবে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আপনি চাইলে এই সময় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগও পাবেন। শুধু আবেগের বদলে যুক্তিকে সামনে রাখাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
বন্ধু, সহকর্মী বা পরিচিত মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে। সামাজিকভাবে আপনি কিছুটা স্বস্তি পাবেন এবং মনে হবে, আপনি একা নন। কোনো পুরোনো ইচ্ছা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নতুন করে মাথায় আসতে পারে। এই সময় অন্যদের সহযোগিতা পাওয়া সম্ভব।
সপ্তাহের শেষ দিকে আবার নিজের ভেতরের জগৎ সক্রিয় হয়ে উঠবে। অপ্রয়োজনীয় খরচ, মানসিক ক্লান্তি বা একা থাকতে চাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। অতীতের কোনো ঘটনা বা কথা হঠাৎ মনে পড়ে যেতে পারে, যা মনকে ভারী করে তুলবে। এই সময় নিজেকে বেশি চাপ না দিয়ে একটু বিশ্রাম নেওয়া খুব দরকার।
আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে কথাবার্তা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন ও সাহসী পদক্ষেপ। আপনি আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পষ্টভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে চাইবেন। তবে এই স্পষ্টতা কখনো কখনো কড়া বা তীক্ষ্ণ হয়ে উঠতে পারে, যা কাছের মানুষের সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। তাই কী বলছেন, তার চেয়ে কীভাবে বলছেন, এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সপ্তাহের শুরুতে ভাগ্য কিছুটা সহায় হতে পারে। পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ, আইনি বিষয় বা দূরের কোনো সুযোগ নিয়ে ইতিবাচক খবর আসতে পারে। কারও পরামর্শ বা অভিজ্ঞতা আপনাকে সঠিক দিক দেখাতে পারে। এ সময় মানসিকভাবে আপনি আগের চেয়ে স্থির থাকবেন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা আশাবাদী বোধ করবেন। সপ্তাহজুড়ে কাজ ও দায়িত্বের চাপ বাড়বে। নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অন্যদের নজর থাকবে, ফলে একটু বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন হবে। কেউ কেউ পদোন্নতি, নতুন দায়িত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে পারেন। চাপ থাকলেও এই সময় নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ আছে, শুধু অহেতুক শক্তি প্রদর্শন না করাই ভালো।
সপ্তাহের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগ ও লাভের দিকটি সক্রিয় হবে। বন্ধু, সহকর্মী বা পরিচিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে উপকার পেতে পারেন। কোনো পুরোনো পরিকল্পনা থেকে ফল আসতে পারে বা ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার আলো দেখা দিতে পারে। তবে একই সঙ্গে প্রত্যাশাও বাড়বে। সবাইকে খুশি করতে গিয়ে নিজেকে ক্লান্ত করবেন না।
এ সপ্তাহে আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে অর্থ, পরিবার এবং নিজের মূল্যবোধ। টাকাপয়সা নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে, কিংবা পরিবারের কোনো বিষয় আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে। এমন অনুভূতি হতে পারে যে আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন, সবকিছু আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে না। তবে এই সময়টাই আপনাকে শেখাবে, কীভাবে আরও দায়িত্বশীল ও বাস্তববাদী হতে হয়।
সপ্তাহের শুরুতে হঠাৎ কিছু বিষয় সামনে আসতে পারে, যা আপনাকে একটু অপ্রস্তুত করে তুলবে। অপ্রত্যাশিত খরচ, গোপন কোনো বিষয় প্রকাশ পাওয়া বা মানসিক চাপ বাড়ার আশঙ্কা আছে। এই সময় ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কোনো কিছু নিয়ে বেশি ভয় না পেয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই ভালো।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, পড়াশোনা, প্রশিক্ষণ বা দূরের কোনো সুযোগ নিয়ে ইতিবাচক ভাবনা আসতে পারে। নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের ওপর আস্থা ফিরবে। কেউ কেউ এই সময় ভ্রমণ, নতুন জ্ঞান অর্জন বা গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেতে পারেন, যা মনকে হালকা করবে।
সপ্তাহের শেষ দিকে কাজের চাপ বাড়বে। দায়িত্ব বাড়তে পারে, সময়ের অভাব অনুভূত হতে পারে। অন্যদের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে নিজের ক্লান্তি উপেক্ষা করার প্রবণতা থাকবে। কাজের সঙ্গে বিশ্রামের ভারসাম্য না রাখলে চাপ আরও বাড়তে পারে।
আপনার জীবনে নিজেকে নতুনভাবে বোঝা ও পুনর্গঠনের সময় এটি। আপনি আগের তুলনায় নিজের পরিচয়, সিদ্ধান্ত ও পথচলা নিয়ে বেশি সচেতন হবেন। এমনও মনে হতে পারে, আপনি আর আগের মতো থাকতে পারছেন না—ভাবনার গভীরতা বেড়েছে, দায়িত্বের ওজন বেড়েছে। এটি হালকা সময় নয়, কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়।
সম্পর্কের বিষয়গুলো আপনাকে ভাবাবে। কাছের মানুষ বা কাজের অংশীদারদের সঙ্গে মতের অমিল দেখা দিতে পারে। কেউ আপনাকে চাপ দিতে পারে, আবার কখনো আপনিই অজান্তে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে পারেন। এই টানাপোড়েন আপনাকে বুঝিয়ে দেবে, সব সম্পর্কেই সীমা ও ভারসাম্য দরকার।
নতুন বিনিয়োগ করার পূর্বে সতর্ক থাকুন। ঝুকিপূর্ণ বিনিয়োগ না করাই উত্তম।
এ সময়টা খুবই সংবেদনশীল, তাই নিজের অনুভূতিকে অবহেলা করবেন না। বাইরে থেকে আপনি শক্ত দেখালেও ভেতরে–ভেতরে বিশ্রামের প্রয়োজন আছে।
সপ্তাহের শেষ দিকে দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসবে। জীবনকে একটু বড় পরিসরে দেখার চেষ্টা করবেন। পড়াশোনা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বা কারও পরামর্শ আপনাকে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করবে। মনে হবে, এই কঠিন সময়ের মধ্যেও কিছু শেখার আছে, কিছু বোঝার আছে। মানসিকভাবে আপনি ধীরে ধীরে স্থির হতে শুরু করবেন।
এই সময়টাকে বলা যায় দৃশ্যমান সাফল্য থেকে অদৃশ্য পরীক্ষার সময়। আগে যেসব কাজের ফল সবাই দেখত, যেখান থেকে স্বীকৃতি, সম্মান বা অবস্থান পাওয়া যেত—সেগুলো হঠাৎ করে ঝাপসা হয়ে যেতে পারে। মনে হতে পারে, আপনি আগের মতো পরিশ্রম করছেন, কিন্তু তার ফল ঠিকমতো চোখে পড়ছে না। কাজ আছে, দায়িত্ব আছে, কিন্তু প্রশংসা নেই।
কর্মক্ষেত্রে এই সময়টা মানসিকভাবে খুব চাপের হতে পারে। অফিসে নিজের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে বা মনে হতে পারে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আপনাকে আড়ালে ঠেলে দিচ্ছে। কখনো কখনো এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে আপনাকে এমন কাজ করতে হচ্ছে, যেগুলোর কৃতিত্ব অন্য কেউ নিয়ে যাচ্ছেন। এতে আত্মসম্মানে আঘাত লাগা স্বাভাবিক।
এ সপ্তাহে সম্পর্কের দিকটি সামনে আসবে। কাছের মানুষ বা সঙ্গীর সঙ্গে গভীর আলোচনা হতে পারে। কেউ কেউ অনুভব করতে পারেন, সম্পর্কে স্পষ্টতা দরকার। যেসব বিষয় এত দিন চেপে রেখেছিলেন, সেগুলো প্রকাশ করার ইচ্ছা জাগতে পারে। তবে আবেগের বশে কথা বললে ভুল–বোঝাবুঝি হতে পারে, তাই শান্তভাবে নিজের কথা বলা সবচেয়ে ভালো।
বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গমন কিংবা বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনায় কিছুটা দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে।
আপনার জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে একাডেমিক ক্যারিয়ার, আইনি জটিলতা, সামাজিক যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ লাভের বিষয়গুলো। অর্থ ও বিনিয়োগে সতর্ক থাকা জরুরি। বন্ধুর পরামর্শে বা দ্রুত লাভের আশায় সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। পুরোনো বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা ভালো।
যাঁদের সঙ্গে আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন বা একসঙ্গে এগোনোর কথা ভেবেছিলেন, তাঁদের আচরণ হঠাৎ বদলে যেতে পারে। কেউ হয়তো নিজের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেবে, কেউ আপনার আদর্শকে গুরুত্বহীন বলে মনে করাতে পারে। এতে করে মনে হতে পারে, আপনি ভুল জায়গায় আশা রেখেছিলেন। প্রত্যাশিত লাভ, সমর্থন বা সুযোগ আসতে দেরি হতে পারে বা একেবারেই না-ও আসতে পারে। শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। অন্যদের পথ অনুসরণ না করে নিজের সক্ষমতা ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিন।
আইনি বিষয়ে মৌখিক আশ্বাসে ভরসা করবেন না। সবকিছু লিখিত ও পরিষ্কার রাখলে ঝামেলা এড়ানো যাবে।
সপ্তাহের শেষ দিকে সম্পর্কের বিষয়গুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কাছের মানুষ, জীবনসঙ্গী বা কাজের পার্টনারের সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। কিছু সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিষ্কার ধারণা আসবে, কোনটা এগিয়ে নেওয়া দরকার আর কোনটা থেকে সরে আসা উচিত, সেটা বোঝা যাবে। এই সময় আবেগের বদলে বাস্তবতা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিলে পরে অনুশোচনা কম হবে।