তীব্র শীতে রুম হিটার এক আরামদায়ক সমাধান। তবে এটির ব্যবহারবিধি মেনে না চললে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। আর সবার পক্ষে এ ধরনের যন্ত্রের ব্যবস্থা করা সম্ভব না-ও হতে পারে। রুম হিটারের কি বিকল্প আছে? অন্য কোনো উপায়ে কি ঘর গরম রাখা যায়? এ বিষয়ে সৃষ্টি আর্কিটেকচার অ্যান্ড কনসালট্যান্সির প্রতিষ্ঠাতা, স্থপতি তাসনিম তূর্যি-র সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।

রুম হিটারের মতো করে ঘরকে গরম করে তুলতে না পারলেও বেশ কয়েকটি উপায়ে ঘরকে কিছুটা উষ্ণ রাখা সম্ভব। এসব বিষয়ে যত্নশীল হলে ঘরের পরিবেশ হয়ে উঠতে পারে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।
শীতের সময় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন অন্দরে। শীতের বিকেলের শেষেই ঝুপ করে সন্ধ্যা নেমে আসে। তাই শেষ বিকেলেই ছড়িয়ে রাখুন এই ভারী পর্দা।
ভারী পর্দা না থাকলে জানালা বা দরজার কাচ ভেদ করেও ঠান্ডা হাওয়া চলে আসে অনেকটাই। যখন রোদ থাকে, তখন ভারী পর্দা সরিয়ে ঘরে রোদ ঢোকার সুযোগ করে দিন।
অনেক সময় জানালা বা কাচের স্লাইডিং দরজা আটকানোর পরও সামান্য ফাঁকা অংশ রয়ে যায় ফ্রেমের দিকটায়। রাবারের সাহায্যে এই ফাঁকা অংশগুলো পূরণ করে নেওয়া যায় সহজেই।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর জানালা বা দরজার ফ্রেম এবং দেয়ালের মধ্যে কিছুটা অংশ ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। এসব অংশ প্লাস্টার করিয়ে নিতে পারেন।
দেয়ালের কোথাও ছোট ছিদ্র বা ফাঁকা অংশ থাকলে সেটিও প্লাস্টার করিয়ে ফেলুন।
ঘর অন্ধকার থাকলে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। মৃদু আলোতেও ঘর তেমন উষ্ণ হয় না। তাই উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করুন শীতের সময়।
পড়ালেখা বা অন্য কাজের সময় মাথার ওপর একটা বাড়তি বাতির ব্যবস্থা করতে পারেন। বাড়তি আলোর উৎস থেকেই কিছুটা উষ্ণতা পাবেন।
আসবাবে বাড়তি কাপড়ের পরত ব্যবহার করতে পারেন। বিছানায় একটা বাড়তি চাদর যোগ করতে পারেন। সোফায় রাখতে পারেন থ্রোস। তবে খেয়াল রাখবেন, সুতি কাপড় ঠান্ডা হয়ে যায় খুব সহজে। তাই শীতে স্বস্তি পেতে আসবাবে পশমি বা উলজাতীয় কাপড় ব্যবহার করা ভালো।
আসবাবের অবস্থান পরিবর্তন করেও উষ্ণতা পেতে পারেন। শীতের সময় জানালা বা দরজার খুব কাছে বসার ব্যবস্থা রাখবেন না। এ সময় ঘরের ভেতরের দিকেই হোক বসার আয়োজন।
রান্নার সময় রান্নাঘরের দরজা খোলা রাখুন, যেন উষ্ণতা অন্য ঘরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শতরঞ্জি বা কার্পেটের মতো অনুষঙ্গ ব্যবহার করুন মেঝেতে। ভারী, পশমি ধরনের পাপোশ বেছে নিন। বসার সময় পায়ের নিচে রাখতে পারেন এমন অনুষঙ্গ। বিছানার কাছেও রাখুন, যেন বিছানা থেকে নেমেই ঠান্ডা মেঝেতে পা না পড়ে।
অন্দরে উষ্ণ রং কাজে লাগাতে পারেন। হলুদ, কমলা, লাল এবং এই রংগুলোর সংমিশ্রণে যেসব উজ্জ্বল রং তৈরি হয়, সেগুলোকে উষ্ণ রং বলা হয়। দেয়াল, ওয়ালপেপার, আসবাবে ব্যবহৃত কাপড়—নানা কিছুই হতে পারে এমন উষ্ণ কোনো রঙের। তাতে ঘর তুলনামূলক আরামদায়ক মনে হবে শীত মৌসুমে।
ঘরের যেসব জায়গা তুলনামূলক কম ব্যবহার করা হয়, সেসব অংশের দরজা আটকে রাখতে পারেন। তাহলেও শীত কম লাগবে।
অবশ্যই মনে রাখতে হবে, শীতকালে স্বস্তি পেতে দেহের উষ্ণতা ধরে রাখার কোনো বিকল্প নেই। শীতের উপযোগী পোশাক বেছে নিন। একাধিক স্তরের পোশাক পরতে পারেন।
মোজা ও জুতা রাখুন ঘরে ব্যবহারের জন্যও। যখনই সম্ভব হবে, হাতমোজা পরবেন। আর স্যুপের মতো পুষ্টিকর, উষ্ণ তরল গ্রহণ করলে শীতের সময় আরাম পাবেন।