শনিবার। ছুটির দিনের সকাল। পৌষ শেষের আরাম আরাম শীত। দেরি করে উঠলাম। চা বানাব। কিন্তু চুলা জ্বালাতে গিয়ে দেখি জ্বলে না! নেই মানে নেই। একদম উধাও।
ইন্টারকমে বাসার ম্যানেজারকে ফোন দিতেই জানা গেল কোথাও গ্যাস নেই। অন্তর্জালের খবরে জানলাম গ্যাসের লাইনে সমস্যা। সারাতে সময় লাগবে। কিন্তু তাই বলে তো ক্ষুধা বসে থাকবে না। তার ওপরে আমার বাসায় নানান বয়সের মানুষ।
৮ থেকে ৮০—সব আছে। কিছুক্ষণ ভেবে রাইস কুকারেই চায়ের পানি বসিয়ে দিলাম। ভয়ে ভয়ে। কে জানে কেমন হবে! এরপর মনে হলো, যা হয় হোক। বেশি হলে কী আর হবে, বিচ্ছিরি স্বাদের চা-ই তো হবে। দিয়ে দিলাম দুই খণ্ড আদা, চা-পাতাও দিলাম। গাঢ় লিকারের চা হয়ে গেল। তবে সময় লাগল বেশ খানিকক্ষণ। চা আর পাউরুটিতে নাশতা সারা হলো।
খানিক বাদে দুপুরের রান্নার আয়োজন। এয়ার ফ্রায়ারে পাবদা মাছ ভেজে নিলাম। লাল লাল করে। মসলায় কষিয়ে নিলাম ঝাল ঝাল করে। ভাত বসালাম রাইস কুকারে। ছোট মাছ আবার খেতে পারে না আমার পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য। তাই তাঁর জন্য কী রাঁধি, কী রাঁধি ভেবে মসলা মাখালাম রুই মাছে। মাল্টিকুকারই সই। মাখিয়ে মসলা সাজিয়ে বসালাম সব কটি মাছ। মধ্যম আঁচে রান্না চলল। ঝোলে-ঝালে সমাপন। এর মধ্যে এল চায়নিজ ভেজিটেবলের আবদার। কেটেকুটে সতে করে বসিয়ে দিলাম চিকেন স্টকের ঐকতানে। এখানেও সহায় ওই কুকার মহাশয়। মনে শুধু তাড়াহুড়ো, গা ছমছম ভাব। একে তো একদম নতুন আয়োজনে রান্নাবাটি, তার ওপরে বিদ্যুতের বেড়াতে যাওয়ার ভয়।
কখন গ্যাস থাকে, কখন থাকে না, সেই টেনশনে অনেক সময় রেস্তোরাঁই হয় শেষ ভরসা। কিন্তু সব দিন এসবে মন ভরে কি! আলসে ছুটির দিনে তাই নিজের রান্নাই সই। কিন্তু এই যে গ্যাস মিলিয়ে যায় হাওয়ায়, এই আছে এই নেই এর খেলায়। এই কদিনে তাই বৈদ্যতিক চুলারও চাহিদা বেড়েছে। গ্যাসের বদলে বাড়িতে বাড়িতে রান্না হচ্ছে সেই চুলায়। তবে সেখানেও আছে ভয়, এই বুঝি বিদ্যুৎ যায়! তারপরও বলতেই হবে, গ্যাসের অভাবে ভোগা নগরবাসীর পাশে বন্ধুর মতো এসে দাঁড়িয়েছে বৈদ্যুতিক রান্নার চুলা বা কুকার।
আজকেই শুনলাম শহরের অন্য প্রান্তে থাকা বোনের গল্প। বিদ্যুচ্চালিত কোনো কিছুতে রান্না করার মতো সময় করতে পারছে না। অফিস ফেরতা রোজকার জীবনে রান্নার খালাতেই ভরসা। গ্যাসের অভাবে তাই অর্ডারের পর অর্ডার করে যাচ্ছে ফুড ডেলিভারি অ্যাপে। সেসব খাবার মুখে আর রোচে কয় বেলা। আবার তাঁর মহল্লার কাছেপিঠে কোথাও নাকি গ্যাস সিলিন্ডার নেই। থাকলেও তা বহুমূল্য! এসব গল্প বুকে চাপ বাড়ায়। মনে হয় এত না ভেবে একটা বিশাল গ্যাসের বেলুনে করে দূরে কোথাও উড়ে যাই! যেখানে জাদুর শহরের মতো ম্যাজিকে মেলায় না গ্যাস!