সমালোচনা জীবনের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অধ্যায়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিজেকে পুনর্মূল্যায়ন, বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করা ও নিজেকে শুধরে নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের সমালোচনা গ্রহণ করার সহনশীলতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা। আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় সমালোচনার মুখোমুখি হই। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক সময় আমরা সমালোচনা শুনেই রেগে যাই বা কষ্ট পাই। তবে যদি সমালোচনা সঠিকভাবে নিতে পারি, সেটিই হতে পারে নিজেকে উন্নত করার সবচেয়ে বড় সুযোগ। চলুন দেখি, কীভাবে শান্ত থেকে সুন্দরভাবে সমালোচনা গ্রহণ করা যায়।
১. সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া নয়
কেউ কিছু বললেই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর না দিয়ে একটু থামুন। গভীর শ্বাস নিন। নিজেকে কয়েক সেকেন্ড সময় দিন। এতে রাগ কমে এবং আপনি ভেবে উত্তর দিতে পারবেন।
২. ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই
সমালোচনার সঙ্গে মিশে আছে যুক্তি, আলোচনা ও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখার মতো বিষয়। ভাবুন, সমালোচনা কি আপনাকে আঘাত করার জন্য বলা, নাকি উন্নতির জন্য? সমালোচনার বিষয়টি কতটুকু সত্য, তা পর্যালোচনা করুন।
যদি প্রথমটি হয়, তাহলে স্রেফ এড়িয়ে যান। কেননা, সেটি সমালোচনার সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে না। সেটির আরেক নাম হতে পারে ‘ঈর্ষা থেকে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করা’। যদি সেটি হয় আপনার ভুল শুধরে আপনাকে উন্নত করা, তাহলে সেটি সাদরে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখুন।
৩. মন দিয়ে শুনুন
অনেকেই সমালোচনা শুনে প্রতিরোধ করতে শুরু করেন। কিন্তু আপনি সমালোচনা ধৈর্য ধরে মন দিয়ে শুনুন। বিনয়ী থাকুন। অপর পক্ষের কথার মধ্যে বাধা দেবেন না। এতে আপনার পক্ষে প্রকৃত বিষয়টা বুঝে ওঠা সহজ হবে।
৪. ভালো দিকটা খুঁজে নিন
সমালোচনা খারাপ নয়। ভেবে দেখুন এর মধ্যে কী শেখার আছে। নিজের কোথায় উন্নতির সুযোগ আছে। সমালোচনাকে ‘ফিডব্যাক’ হিসেবে দেখুন।
৫. শান্তভাবে বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিন
রাগ দেখালে পরিস্থিতি খারাপ হয়। কেবল সমালোচনার সময়ই নয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে হুট করে রেগে যাওয়া থেকে নিজেকে সংবরণ করুন। তার বদলে সমালোচনাকারীকে ধন্যবাদ দিন বিষয়টি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য। প্রয়োজনে আপনার পক্ষ থেকে কিছু বলার থাকলে ব্যাখ্যা দিন। এতে আপনার মানসিক পরিপক্বতা প্রকাশ পায়।
সমালোচনা ও ব্যক্তি আক্রমণ এক নয়। ব্যক্তি আক্রমণকে আমলে নেওয়ার কিছুই নেই। যত আগ্রাহ্য করা সম্ভব, ততই ভালো। তবে সমালোচনা সুন্দরভাবে নেওয়ার মানে হলো শেখার অপূর্ব সুযোগ। নিজেকে শুধরে নেওয়ার জন্য একটুখানি থেমে বিষয়টি যুক্তিতর্কের ভেতর দিয়ে পর্যালোচনা করে নিজেকে উন্নত করার একটি অনন্য অভিপ্রায়।
সূত্র: ওয়ান্ডার মাইন্ড