
ভূমিকম্প বিধ্বংসী এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ দুর্যোগের কারণে যেকোনো মুহূর্তে শহর-জনপদের ভবনগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে। তাই ভূমিকম্প–সহনীয় ও নিরাপদ বাসস্থান নির্মাণ এখন আর শুধু প্রকৌশলগত বিষয় নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় অপরিহার্য। নিরাপদ, মজবুত ও ভূমিকম্প–সহনীয় বাড়ি নির্মাণে কিছু বিষয় জানা ভীষণ জরুরি। জানাচ্ছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী
থাকার জন্য হোক বা ব্যবসা–বাণিজ্যের কাজে, ভবন বানালে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। মজবুত ও নিরাপদ ভবন বানাতে সঠিক পরিকল্পনার বিকল্প নেই। ভবন নির্মাণের সময় মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারিভাবে জাতীয় ভবন নির্মাণ নীতিমালা তো মানতেই হবে, সেই সঙ্গে ভবনটি যথাযথ নিরাপদ ও মজবুত হচ্ছে কি না, সে ভাবনাও মাথায় রাখতে হবে।
দুর্বলভাবে তৈরি ভবনের কারণেই ভূমিকম্পে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় থেকে শুরু করে বন্যা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অতীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নানা দুর্যোগ দেখা গেছে।
গত শতাব্দীতে এ অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বড় ঘটনা ঘটেছে। ঐতিহাসিক তথ্য থেকে বলা যায়, বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। সাধারণভাবে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির সময়কাল ১২৫-১৭৫ বছর ও ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ২৫০-৩০০ বছর অনুমান করা হয়।
সেই হিসাবে বাংলাদেশে নিকট ভবিষ্যতের যেকোনো সময় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। ২০১০ সালের হাইতি ও চিলির ভূমিকম্পের তুলনা করলে ভূমিকম্পের ঘটনায় কাঠামোগত ব্যর্থতার কারণে মানবিক ক্ষতি বেশি হতে দেখা যায়।
সে বছর হাইতিতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল। যার প্রধান কারণ ছিল দুর্বলভাবে নির্মিত ভবন। একই বছর চিলিতে আঘাত হানে ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প, যাতে ২৮০ জন প্রাণ হারায়। চিলির ভবনগুলো নির্মাণে শক্তিশালী কৌশল ব্যবহার করা হয়।
২০২৩ সালে তুরস্কে ভূমিকম্পে ভবনধসের মাধ্যমে প্রায় ৫৩ হাজার ৫০০ মানুষ নিহত হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্বলভাবে ভবন নির্মাণের কারণে সেসব এলাকায় দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু বেশি হয়।
বাংলাদেশেও ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্বলতার কারণে অনেক বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে ৯ তলাবিশিষ্ট রানা প্লাজা ধসের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের একটি ভয়াবহ কেস স্টাডি। ২০০৫ সালে ৬ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে ২০০৮ সালে দক্ষ প্রকৌশলীর অনুমোদন ছাড়াই ভবনটি ১০ তলায় সম্প্রসারণ করা হয়।
তদন্তে দেখা যায়, অতিরিক্ত ওপরের তলাগুলোর জন্য ভিত্তিকাঠামো অপর্যাপ্ত ছিল। ক্যান্টিলিভার অংশ কলামের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। কংক্রিটের মান ও সামগ্রিকভাবে নির্মাণকৌশল দুর্বল ছিল। সেই সময় ১ হাজার ১৩০ জনের মৃত্যুর ঘটনা শক্তিশালী ভবন সুরক্ষাসংক্রান্ত প্রটোকল মেনে চলার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
একইভাবে ২০০৫ সালে সাভার গার্মেন্টস কারখানা ট্র্যাজেডি ঘটে, যেখানে ৬৫ জন মারা যান। ২০১৯ সালে এফআর টাওয়ার, ২০০৫ সালে বিএসইসি ভবন, ২০০৮ সালে বসুন্ধরা শপিং মল, ২০১০ সালে নিমতলীসহ ঢাকায় বিভিন্ন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা উন্নত কাঠামোগত নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরছে। বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন অঞ্চলে (ডিএমআর) প্রায় ছয় লাখ কাঠামোর কাঠামোগত পরীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করা হয়।
বাংলাদেশে নিরাপদ, শক্তিশালী এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী কাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন। ভৌগোলিকভাবে ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের বড় বড় শহর ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ ছাড়াও পুরোনো, দুর্বল কাঠামোগত ভবন এই ঝুঁকিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য একটি কার্যকর বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
একটি শক্তিশালী ও ভূমিকম্প–সহনীয় নগরী গড়ে তুলতে হলে নতুন ভবন নির্মাণে নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও সামগ্রিক প্রস্তুতি গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভূমিকম্প–সহনশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো শহরের বিদ্যমান ভবনের কাঠামোগত মূল্যায়ন। এর মাধ্যমে কোন ভবনগুলো দুর্বল, সেটা জানা যাবে। এতে ভবনটি মাঝারি, দুর্বল, নাকি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী, তা চিহ্নিত করতে হবে।
এ প্রক্রিয়ায় সরকারিভাবে কার্যকর কর্তৃপক্ষকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রাথমিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ভবনের ফ্যাক্টর অব সেফটি (এফওএস) জানতে হবে। বিশদ প্রকৌশলগত মূল্যায়ন (ডিইএ) করতে হবে।
ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা ও স্থানের সঠিক নির্বাচন করতে হবে ভিত্তির সুরক্ষার জন্য। একটি ভূমিকম্প–সহনীয় কাঠামোর প্রথম ধাপ হলো মাটি পরীক্ষা বা সয়েল টেস্ট। ভবন যেখানে নির্মাণ করা হবে, সেখানে মাটির ধরন, ভারবহনের ক্ষমতা এবং ভূমিকম্পের সময় প্রতিক্রিয়া (যেমন তরলীকরণ) সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। নরম মাটি বা ভরাট করা জমিতে ভূমিকম্পের প্রভাব বেশি হয়। অভিজ্ঞ ভূতাত্ত্বিক ও প্রকৌশলীদের দ্বারা মাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে উপযুক্ত স্থানে ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যদি স্থানটি দুর্বল হয়, তবে মাটিকে শক্তিশালী করার জন্য বিশেষ পদ্ধতি (যেমন পাইল ফাউন্ডেশন) অবলম্বন করতে হবে।
একটি ভূমিকম্প–সহনীয় বাড়ির মূল ভিত্তি হলো সঠিক নকশা। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে অভিজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও স্থপতিদের দ্বারা নকশা প্রণয়ন অত্যাবশ্যক। নকশার সময় বিভিন্ন মৌলিক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। ভূমিকম্পের সময় অনিয়মিত আকারের ভবনগুলো বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
বর্গাকার বা আয়তাকার নকশা ভূমিকম্পের শক্তিকে সমানভাবে বিতরণ করতে সাহায্য করে। দেয়াল ও কলামের বিন্যাস এমন হওয়া উচিত, যাতে ভবনের ওজন ও ভূমিকম্পের শক্তি সমানভাবে নিচে নেমে আসে।
কাঠামোকে যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে, যাতে এটি উল্লম্ব ও অনুভূমিক—উভয় ভার (ভূমিকম্পের ধাক্কা) সহ্য করতে পারে। একই সঙ্গে উপাদানগুলোতে প্রয়োজনীয় নমনীয়তা থাকতে হবে, যাতে ভূমিকম্পের সময় কিছুটা বিকৃত হলেও যেন ভেঙে না পড়ে। রিইনফোর্সড কংক্রিটের (আরসি) সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খাটো বা ছোট কলাম ভূমিকম্পের সময় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নকশার সময় এ ধরনের কলাম এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি থাকা ভবনগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে, যাতে ভূমিকম্পের সময় তারা একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা না খায়।
নকশা যতই ভালো হোক না কেন, নির্মাণসামগ্রীর মান ভালো না হলে বিপদ বাড়তে পারে। ভবন নির্মাণে উচ্চ-টানের (হাই–টেনসাইল) রড ব্যবহার করা উচিত। রড যেন মানসম্পন্ন হয়। রডে যেন মরিচা না ধরে থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
রডের সঠিক ব্যাস ও পরিমাণ নকশা অনুযায়ী হতে হবে। ভবন নির্মাণে ভালো মানের সিমেন্ট ব্যবহার করা অত্যাবশ্যক। সিমেন্টের গুণগত মান কংক্রিটের শক্তি নির্ধারণ করে। এ ছাড়া পরিষ্কার, সঠিক গ্রেডের বালু ব্যবহার করতে হবে।
শক্তিশালী খোয়া ব্যবহার করতে হবে। এতে কংক্রিটের সঠিক মিশ্রণ এবং শক্তি নিশ্চিত হবে। কংক্রিটের মিশ্রণ যেন সঠিক অনুপাতে হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। পর্যাপ্ত কম্প্যাকশন যেন করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্মাণের সময় ভাইব্রেটর ব্যবহার করে কংক্রিটের মধ্যকার বাতাস বের করে দেওয়া জরুরি।
নির্মাণপ্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি ধাপে সঠিক তদারকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফাউন্ডেশনের কাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। পুরো ভবনের ভিত্তি হিসেবে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। মাটির ধরনের ওপর ভিত্তি করে উপযুক্ত ফাউন্ডেশন (যেমন স্ট্রিপ, ম্যাট বা পাইল) নির্মাণ করতে হবে।
কলাম ও বিমের রড বাঁধাই এবং কংক্রিট ঢালাইয়ের সময় প্রকৌশলীর নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কলাম ও বিমের সঠিক অ্যালাইনমেন্ট ও আচ্ছাদন নিশ্চিত করা জরুরি। কলাম, বিম এবং স্ল্যাবের সংযোগস্থল সঠিকভাবে নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। বৈদ্যুতিক ও প্লাম্বিং লাইন বসানোর সময় কাঠামোর কোনো দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে কি না, খেয়াল রাখতে হবে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশা–সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করা জরুরি। নতুন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকদের বিল্ডিং কোডের ওপর তিন মাসব্যাপী ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত। অভিজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাদারদের বিল্ডিং কোড এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশার ওপর নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।
ভবিষ্যতের ট্র্যাজেডি রোধ, নিরাপত্তার মান উন্নয়নসহ নিয়ম প্রয়োগের জন্য শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা অপরিহার্য। নতুন নির্মাণ ও বিদ্যমান ভবন মূল্যায়নের জন্য তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। কাঠামোগত নকশার সঙ্গে মিল রেখে সিমেন্ট ও রডের মতো উপকরণের গুণমান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
রাজউক, সিডিএ বা কেডিএর মতো কর্তৃপক্ষকে কার্যকর হতে হবে। অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বিল্ডিং নির্মাণ কোডে প্রদত্ত বিধান অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক নথি জমা দেওয়ার পর অনুমতি দেওয়া উচিত। সিডিএ, কেডিএ, রাজউক, সিটি করপোরেশন এবং ফায়ার সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের মতো বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জরুরি। এখানে টোকিও বা নিউইয়র্কের মতো শহরের মডেল অনুকরণ করা যায়।
দুর্যোগ-পূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ-পরবর্তী পর্যায়ের কাজের সমন্বয় করতে হবে। সব শহরের জন্য ঝুঁকি-সংবেদনশীল ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। এতে নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি উন্নয়নে বিনিয়োগ সম্পর্কে প্রকৌশলীরা নির্দেশনা পাবেন।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, মোবাইল নেটওয়ার্ক, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন, পানি সরবরাহসহ লাইফলাইন সিস্টেমকে মানচিত্র ও বিল্ডিং কোডের ওপর ভিত্তি করে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করতে হবে। আগুন লাগার মতো দুর্যোগ প্রশমিত করার জন্য জরুরি শাটডাউন প্রটোকল স্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশের বহু পুরোনো ভবন ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এগুলোর নিরাপত্তার জন্য রেট্রোফিটিং একটি কার্যকর পদ্ধতি। এটি বিদ্যমান কাঠামোকে শক্তিশালী করে ভূমিকম্প প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। এ জন্য প্রথমেই ভবনের বিশদ প্রকৌশলগত মূল্যায়ন করতে হবে। রেট্রোফিটিংয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
জ্যাকেটিংয়ের মাধ্যমে কলাম বা বিমের চারপাশে নতুন কংক্রিট ও রডের অতিরিক্ত স্তর যোগ করা যায়। স্টিলের ব্রেসিংয়ের মাধ্যমে কাঠামোর দুর্বল অংশে স্টিলের ব্র্যাকেট বা ব্রেসিং যোগ করে শক্তি বৃদ্ধি করা যায়। কার্বন ফাইবার বা গ্লাস ফাইবারের মতো পলিমার কম্পোজিট ব্যবহার করে কাঠামোর শক্তি বাড়ানো যায়।
এ ছাড়া ভবনের কাঠামোর মধ্যে নতুন শেয়ার ওয়াল তৈরি করে অনুভূমিক লোড প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো যায়। যদি রেট্রোফিটিং অনেক ব্যয়বহুল বা জটিল হয়, ক্ষেত্রবিশেষে আংশিক বা সম্পূর্ণ ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
(লেখাটি প্রথম আলোর বিশেষ ম্যাগাজিন বর্ণিল বসত ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত)