কিনমেমাই প্রিমিয়াম চালের ভাত
কিনমেমাই প্রিমিয়াম চালের ভাত

প্রতি কেজি চালের দাম ১৮ হাজার টাকা, স্বীকৃতি পেয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চালের

দেশে বিভিন্ন জাতের প্রতি কেজি চালের দাম সাধারণত ৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে দামি চালের প্রতি কেজির দাম প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এই চাল উৎপাদিত হয় জাপানে। বছরে মাত্র এক হাজার বাক্স তৈরি হওয়ায় এটি একধরনের বিরল বিলাসবহুল খাদ্যপণ্য হিসেবে বিবেচিত। চালটির নাম ‘কিনমেমাই প্রিমিয়াম’।

২০১৬ সালে কিনমেমাই প্রিমিয়াম চাল বিশ্বের সবচেয়ে দামি চাল হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অর্জন করে। বিশেষ উৎপাদনপদ্ধতি, সীমিত উৎপাদন ও স্বাদের কারণে এটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।

পাঁচ জাতের চালের সংমিশ্রণ কিনমেমাই প্রিমিয়াম তৈরি করে জাপানের টোয়ো রাইস করপোরেশন। ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত টোয়ো রাইস করপোরেশন চাল প্রক্রিয়াজাত শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।

প্রতিষ্ঠানটি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালের গুণমান উন্নত করার ওপর কাজ করে। কিনমেমাই প্রিমিয়াম পাঁচটি প্রিমিয়াম জাতের চালের সংমিশ্রণে তৈরি, যার মধ্যে কোশিহিকারি ও পিকামারু উল্লেখযোগ্য।

এসব চাল জাপানের গুনমা, নাগানো, নিইগাতা ও মিনামিইউওনুমার মতো অঞ্চলে উৎপাদিত হয়, যেগুলো উৎকৃষ্ট মানের চালের জন্য পরিচিত।

বিশেষ করে মিনামিইউওনুমা অঞ্চলটি পাহাড়ঘেরা এবং এখানে তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি। পাশাপাশি পাহাড়ি ঝরনার খনিজসমৃদ্ধ পানিও পাওয়া যায়। এসব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানকার চালের দানা তুলনামূলক বড় এবং স্বাদে আলাদা।

এই চালের দানাগুলো উৎপাদকদের কাছ থেকে সাধারণ মূল্যের প্রায় আট গুণ বেশি দামে কেনা হয়। এরপর প্রতিটি দানা হাতে বাছাই করা হয়, যাতে গুণমান ও সংমিশ্রণ ঠিক থাকে।

কিনমেমাই প্রিমিয়াম চাল

ছয় মাস সংরক্ষণ

ফসল কাটার পর এই চাল সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ছাড়া হয় না; বরং বিশেষ পদ্ধতিতে ছয় মাস ধরে সংরক্ষণ করা হয়। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, এতে চালের স্বাদ ও গঠন উন্নত হয়।

এরপর চালের দানাগুলো ‘কিনমেমাই প্রসেস’ নামের একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। এতে পেটেন্ট করা রাইস-বাফিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে চালের বাইরের অপাচ্য স্তর সরানো হয়, কিন্তু পুষ্টিগুণ অক্ষুণ্ন রাখা হয়।

প্রচলিত চালের মতো এটি রান্নার আগে ধোয়ার প্রয়োজন হয় না। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এতে সাধারণ চালের তুলনায় বেশি লাইপোপলিস্যাকারাইড (এলপিএস) থাকে, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত।

স্বাদ ও সুবাস

রান্নার পর কিনমেমাই প্রিমিয়াম চালের দানাগুলো স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল দেখায়। সাধারণ চালের তুলনায় এর স্বাদ কিছুটা মিষ্টি ও সুবাস আলাদা। এর গঠন নরম ও মসৃণ।

প্রতিবছর মাত্র এক হাজার বাক্স কিনমেমাই প্রিমিয়াম উৎপাদিত হয়। প্রতিটি বাক্সে ১৪০ গ্রাম করে ছয়টি প্যাকেট থাকে। ৮৪০ গ্রাম ওজনের এই বাক্সের দাম প্রায় ১০ হাজার ৮০০ জাপানি ইয়েন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকার সমান।

অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে। প্রথম বাজারে আসার সময় এর দাম ছিল প্রতি কেজি প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ইয়েন, যা পরে আরও বেড়েছে।

প্রথমে জাপানেই সীমিতভাবে বিক্রি হলেও বর্তমানে সিঙ্গাপুরেও কিনমেমাই প্রিমিয়াম পাওয়া যাচ্ছে। সিঙ্গাপুরের ক্রেতাদের জন্য ৮৪০ গ্রাম ওজনের বাক্সের দাম ১৫৫ সিঙ্গাপুরি ডলার (প্রতি কেজির দাম ১৮৫ সিঙ্গাপুরি ডলার)।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি কেজি চালের দাম দাঁড়ায় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার টাকা!

সূত্র: কিনমেমাই প্রিমিয়াম ডটকম ও সিএনএন