দীর্ঘদিন এসি বন্ধ থাকলে এর ফিল্টারে ধুলা জমে। অনেক সময় ইনডোর ইউনিটে পোকামাকড় বাসা বাঁধে বা টিকটিকি মরে থাকে। এ অবস্থায় সার্ভিসিং ছাড়া এসি চালু করলে সার্কিট পুড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

শীতে লম্বা সময় এসি বন্ধ ছিল। গরম পড়তে শুরু করেছে। আবারও এসির ব্যবহার শুরু হবে। ব্যবহার শুরুর আগে এসির সার্ভিসিং করা জরুরি। কারণ, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় এসিতে দেখা দিতে পারে নানা ত্রুটি। সেখান থেকে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। ওয়ালটনের এয়ারকন্ডিশনার সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের প্রধান নাহিদ আলী জানান, এসির পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতা (পারফরম্যান্স) পেতে চাইলে গরমের শুরুতে সার্ভিসিং করানো উচিত। এটিকে বলা হয় ‘প্রি–চেকআপ’ বা ‘প্রি–ক্লিনিং’ সার্ভিস।
লম্বা সময় এসি বন্ধ থাকলে ফিল্টারে ধুলা জমে। ঠিকভাবে ঠান্ডা বাতাস বের হতে পারে না। এতে ঘর ঠান্ডা করতে কম্প্রেসরের ওপর চাপ বাড়ে। এর ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। নিয়মিত সার্ভিসিং করালে এসির ঘর ঠান্ডা করার ক্ষমতা ঠিক থাকে। বিদ্যুৎ বিলও কম আসে।
দীর্ঘদিন এসি অব্যবহৃত থাকলে ইনডোর ইউনিটে পোকামাকড় বাসা বাঁধতে পারে। এসির পিসিবিতে (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) পিঁপড়া বাসা বাঁধে। অনেক সময় টিকটিকি মরে থাকে। এ অবস্থায় সার্ভিসিং ছাড়া এসি চালু করলে সার্কিট পুড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ ছাড়া ভেতরে মরে থাকা পোকামাকড়ের কারণে ঘরে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে।
বন্ধ থাকার পর এসি চালুর আগে কিছু বিষয় পরীক্ষা করা জরুরি। বৈদ্যুতিক সকেট, ইনডোর ইউনিটের পিসিবি ও জ্যাকের সংযোগ এবং আর্থিং ঠিক আছে কি না। সার্ভিসিংয়ের সময় এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। সার্ভিসিংয়ের সময় ইনডোর ইউনিট খুলে কনডেনসার পরিষ্কার করা হয়। আউটডোর ইউনিটে কনডেনসার, গ্যাস পাইপ ও কমপ্রেসর পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে রেফ্রিজারেটরে চাপ ঠিক আছে কি না এবং কোথাও গ্যাস লিকেজ আছে কি না, দেখা হয়। এতে করে এসির সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স (শীতলীকরণক্ষমতা) পাওয়া যায়।
এসি কত দিন পর সার্ভিসিং করাবেন, তা কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনার বাসায় যদি দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা এসি চলে, তাহলে বছরে দুবার সার্ভিসিং করানো প্রয়োজন। প্রথমবার গরমের শুরুতে এবং দ্বিতীয়বার গরমের মাঝামাঝি। অনেকে আবার শীতের আগে আরেকটা সার্ভিসিং করিয়ে এসি বন্ধ রাখেন। সেটি সবচেয়ে ভালো। রাস্তার পাশে বাসা হলে এসিতে ধুলাবালু বেশি জমে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি সার্ভিসিংয়ের প্রয়োজন হয়।
অফিস কিংবা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাসাবাড়ির চেয়ে বেশি সার্ভিসিং করাতে হয়। এসব এসির ক্ষেত্রে তিন-চার মাস পরপর সার্ভিসিং করা প্রয়োজন। আবার শিল্পকারখানাতেও এসির ব্যবহার আছে। সপ্তাহ পরপর এসব এসির রক্ষণাবেক্ষণ দরকার হয়।
এসি তিন ধরনের সার্ভিসিং করানো যায়। বেসিক ক্লিনিং, মাস্টার ক্লিনিং এবং ডাউন সার্ভিস।
বেসিক ক্লিনিং ব্যবহারকারী নিজেই করতে পারেন। এ জন্য এসির ফিল্টার খুলে পানির ঝাপটা দিয়ে পরিষ্কার করে পুনরায় লাগিয়ে নিলেই হবে।
মাস্টার ক্লিনিং দক্ষ টেকনিশিয়ানরা করে থাকেন। এটি অন্যান্য সার্ভিসিংয়ের তুলনায় বেশি কার্যকর। এতে প্রেশার ওয়াসার ব্যবহার করে ইনডোর ও আউটডোর ইউনিটের ভেতরে জমে থাকা ধুলা–ময়লা পরিষ্কার করা হয়।
ডাউন সার্ভিসের ক্ষেত্রে ইনডোর ও আউটডোর ইউনিট খুলতে হয়। সাধারণত ওয়ার্কশপে এটি করা হয়। এতে প্রতিটি যন্ত্রাংশ খুলে পরিষ্কার করা হয়। ডাউন সার্ভিসিংয়ের সময় রেফ্রিজারেটর বা গ্যাস ক্ষয় (লস) হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাতে এসির ঠান্ডা করার ক্ষমতা কমে যায়।
বেশির ভাগ বড় ব্র্যান্ড গ্রাহকদের সার্ভিসিংয়ের সেবা দিয়ে থাকে। সাধারণত দুই বছর পর্যন্ত এই সেবা বিনা মূল্যেই পাওয়া যায়। এসি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের হলে ও ওয়ারেন্টি থাকলে সেই ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে।
এ ছাড়া এসির অবস্থা বুঝে সাধারণ সার্ভিসিং করতে ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা লাগবে। মাস্টার সার্ভিসিং করতে দরকার হবে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। অনেক সময় গ্যাস রিফিলিংয়ের প্রয়োজন হয়। রেফ্রিজারেটরের মানভেদে এতে খরচ পড়বে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।