প্রথম প্রেমিকার অকালমৃত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন কিয়ানু রিভস, ৬১ বছর বয়সে এসে বিয়ে করলেন
কিয়ানু রিভস স্কুলে থাকতে খুবই চুপচাপ ছিলেন। ভালো খেলতেন, গাইতেনও ভালো। তবু ১৫ বছর বয়সে ঠিক করলেন অভিনেতাই হবেন।১৯৯৮ সাল, কিয়ানুর বয়স তখন ৩৪ বছর। প্রথম প্রেমে পড়ার বয়স হিসেবে সেটি একটু বেশিই! তাঁর ব্যান্ড ‘ডগস্টার’-এর একটি পার্টিতে প্রথম দেখা ২৫ বছর বয়সী জেনিফার সাইমের সঙ্গে।কানাডীয় অভিনেতা কিয়ানু তত দিনে হলিউড তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। তবে বরাবরই ‘তারকাখ্যাতি’ থেকে শত হাত দূরে থাকতেই তিনি স্বচ্ছন্দ। জেনিফার তখন পরিচালক ডেভিড লিঞ্চের সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।প্রথম দেখাতেই তাঁরা সংগীত, বই, সিনেমা, দর্শন আর নিজেদের স্বপ্ন নিয়ে বিস্তর আলাপ করেন। সেই দিনই তাঁরা বুঝে ফেলেছিলেন, দুজন দুজনকে ভালোবেসে ফেলেছেন।তৃতীয়বার দেখা হওয়ার পর থেকেই দুজনে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। সবকিছু যেন স্বপ্নের মতোই এগোচ্ছিল।একসঙ্গে থাকতে শুরু করার পরের বছরই অন্তঃসত্ত্বা হন জেনিফার সাইম। কিয়ানুর কাছে তখন সারা পৃথিবীর সবকিছু একদিকে, আরেক দিকে তাঁদের সন্তান।জন্মের আগেই দুজন মিলে কন্যার নাম ঠিক করলেন অ্যাভা। ২০০০ সালের জানুয়ারিতে অ্যাভার পৃথিবীতে আসার কথা ছিল; কিন্তু ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর মৃত সন্তান প্রসব করেন জেনিফার।হঠাৎ সব স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ যেন শেষ হয়ে যায়। বিষণ্ণতায় ডুবে যান নকিয়ানু–জেনিফার। এমনকি এ ঘটনার পর দুজন আলাদাও হয়ে যান।প্রায় এক বছর আলাদা ছিলেন কিয়ানু ও জেনিফার। ২০০১ সালের শুরুতে আবারও তাঁরা শোককে পেছনে ফেলে এক ছাদের নিচে ফেরেন। ছবিতে জেনিফার সাইম।একটু একটু করে সবকিছু গুছিয়ে আনতে শুরু করলেন দুজন। এ সময় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে একে অন্যকে দারুণভাবে সাহায্য করছিলেন। দুজনেই কাজে মন দিলেন। এই ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি।ছন্দে ফেরার পরই আবার ছন্দপতন। ২০০১ সালের ২ এপ্রিল গাড়ি দুর্ঘটনায় মাত্র ২৮ বছর বয়সে মারা যান জেনিফার সাইম।জেনিফারের অন্ত্যেষ্টিতে জীবনসঙ্গীর সব দায়িত্ব পালন করেন কিয়ানু।
বিজ্ঞাপন
জেনিফারের কফিনও বহন করেন কিয়ানু।সেদিন তাঁকে হলিউড তারকা নয়, মনে হচ্ছিল প্রিয়জন হারানো সাধারণ এক দুঃখী মানুষ। যেন দুজনে মিলে কাটানো সব ভালো মুহূর্তের ভার বহন করে চলেছেন।এরপর সবকিছু থেকে বিরতি নেন কিয়ানু। বছর তিনেক পর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘অনেকে বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নাকি শোক আবছা হয়। কিন্তু কিছু শোক একই রকম তীব্র হয়ে বুকের ভেতরে জমা থাকে। আপনার হয়তো সবই আছে, কেবল ভালোবাসার মানুষটি নেই। তখন আপনি নিঃস্ব। সৃষ্টিকর্তা কেন মানুষকে এমন শোক দেন, যার ভার বইবার ক্ষমতা তাঁর থাকে না?’সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কাজে ফেরেন কিয়ানু। তবে বেশ কয়েক বছর ছিলেন ‘এলোমেলো’। কাজের বাইরে কারও সঙ্গে বিশেষ কথা বলতেন না। কাজ শেষে সোজা ঘরে ফিরে যেতেন। জেনিফারের মৃত্যুর পরবর্তী ১৭ বছর কোনো সম্পর্কে জড়ানোর খবরও শোনা যায়নি।
২০১৮ সালে কিয়ানুর নাম জড়ায় মার্কিন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আলেকজান্দ্রা গ্রান্টের সঙ্গে।২০১৯ সালে একটি শিল্পপ্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে দুজনে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জনসমক্ষে আসেন।এরপর পৃথিবীজুড়ে চলা করোনা মহামারিকালে দুজনের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।গুজব রটেছে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নাকি ৬১ বছর বয়সী কিয়ানু ও ৫২ বছর বয়সী আলেকজান্দ্রা ইউরোপের কোনো এক স্থানে নিভৃতে সেরে নিয়েছেন বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। যদিও দুজনের কেউ-ই এই বিষয়ে মুখ খোলেননি।