এই দুই দেশে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই, তাহলে?

সম্পর্ক ভেঙে যেতেই পারে। একসঙ্গে পথচলার ইচ্ছা বদলে যাওয়া কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং নানা বৈপরীত্য, জটিলতা ও বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগত, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সহজ, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শেষ হওয়াই সমীচীন। কিন্তু আইনের চোখে বৈবাহিক সম্পর্কের ইতি টানার সুযোগ না থাকলে কী করার থাকে?

ফিলিপাইনে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের সাধারণ আইন নেই
ছবি: পেক্সেলস

বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি ব্যবস্থা থাকলেও ব্যতিক্রমও আছে। ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটি এমন দুটি দেশ, যেখানে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই। তবে দাম্পত্যে সংকট তৈরি হলে দেশ দুটিতে স্বামী-স্ত্রীর সামনে কিছু আইনি ও ধর্মীয় বিকল্প আছে।

ফিলিপাইন

ফিলিপাইনে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের সাধারণ আইন নেই। তবে আইনি বিচ্ছেদ (আইনগতভাবে আলাদা থাকা), বিয়ে বাতিল এবং বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ব্যবস্থা আছে।

ফিলিপাইনে আইনি বিচ্ছেদ মানেই বিবাহবিচ্ছেদ নয়। আদালত স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা থাকার অনুমতি দিলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে

আইনি বিচ্ছেদ মানেই বিবাহবিচ্ছেদ নয়। আদালত স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা থাকার অনুমতি দিলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে। ফলে তাঁরা সাধারণত নতুন করে বিয়ে করতে পারেন না।

শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন করা যায়। অন্যদিকে বিয়ে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিয়েটি আইনগতভাবে বৈধ ছিল কি না, তা বিবেচনা করা হয়।

ফিলিপাইনে একবার বিয়ের পর বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ

তবে ফিলিপাইনে মুসলিমদের জন্য পৃথক পারিবারিক আইন আছে। নির্দিষ্ট শর্তে এই আইনের আওতাভুক্ত দম্পতিরা তালাক, খুলা কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ পান।

এ ছাড়া বিদেশে হওয়া কিছু বিবাহবিচ্ছেদ নির্দিষ্ট শর্তে ওই দেশটিতে স্বীকৃতি পেতে পারে। তবে এককথায় একবার বিয়ের পর বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম সম্পর্ক থেকে আইনগতভাবে বের হয়ে নতুন করে বিয়ে করে সম্পর্কে থিতু হওয়া প্রায় অসম্ভব।

অনেকেই তাই দেশ পরিবর্তন করে নতুন দেশে থিতু হয়ে সেখানকার আইনে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে আবার সংসার শুরু করেন। তবে সেই সুযোগ খুব কম মানুষই পায়।

ভ্যাটিকান সিটি

ভ্যাটিকান সিটিতে বিয়ে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন

এখানে বিয়ে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বৈধ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বিয়েকে সাধারণভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেখানে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই।

তবে নির্দিষ্ট শর্তে কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ আছে। এর মানে, বিয়েটি শুরু থেকেই ধর্মীয় আইনের শর্ত পূরণ করেছিল কি না, তা যাচাই করা। সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যায় না।

এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন। কিন্তু আলাদা থাকা মানেই বৈবাহিক বন্ধনের অবসান নয়। ফলে দ্বিতীয় বিয়ে করার সুযোগ নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে সেই দেশের আইনে প্রথম বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করে তারপর আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ের দিকে আগানো যেতে পারে। যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও জটিল।

সূত্র: এমএসএন