প্রতিদিনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় নিয়মিত কাপড় ধোয়া জরুরি একটি বিষয়। আর এই অতিমারির সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। কাপড় অবশ্যই কম ক্ষারযুক্ত পাউডারে পরিষ্কার করতে হবে। কারণ, কাপড় পরিষ্কারে বেশি ক্ষারযুক্ত পাউডার ব্যবহার করলে কাপড়ের রং ও সুতার ক্ষতি হয়। সঙ্গে হাতের ক্ষতিও হয়। আবার করোনাকালে অনেকেই বেশি পরিমাণ ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করেন। কারণ, অনেকেরই ধারণা, বেশি ডিটারজেন্ট ব্যবহার করলে করোনাভাইরাস দ্রুত ধ্বংস হয়।
কিন্তু বিশেষ কিছু ডিটারজেন্ট রয়েছে, যেগুলোতে ব্যবহার করা হয় অ্যান্টি-জার্ম টেকনোলজি; যা কাপড়ে থাকা রোগজীবাণু দ্রুত ধংস করে। অ্যান্টি-জার্ম টেকনোলজি মূলত এমন একটি উপাদান, যা ডিটারজেন্টে থাকলে কাপড় পরিষ্কারের পাশাপাশি কাপড়ে জন্মানো জীবাণুকেও ধ্বংস করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ সারা দিন একটা কাপড় পরে থাকার ফলে আমাদের ঘামের মাধ্যমে যে ব্যাকটেরিয়া জন্মে, তা থেকে জামাকাপড়ে একধরনের দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। সাধারণ ডিটারজেন্ট পাউডার কাপড়ের ওপর থেকে শুধু ময়লার প্রলেপ দূর করে কাপড়কে পরিষ্কার করে। কিন্তু গায়ের ঘাম থেকে সৃষ্টি হওয়া ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সক্ষম হয় না। শুধু ব্যাকটেরিয়া না অন্যান্য জীবাণু থেকেও কাপড়কে বিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রেও এই অ্যান্টি-জার্ম টেকনোলজি বেশ কার্যকর। কাপড় কেবল দেখতে পরিষ্কার আর সুগন্ধিযুক্ত হলেই কাপড় জীবাণুমুক্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সেটা আসলেই একটা ভুল ধারণা। কাপড়ের গভীর থেকে জীবাণু ধ্বংস করতে অ্যান্টি-জার্ম টেকনোলজিতে তৈরি ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করা আবশ্যক।
যেমন মি. হোয়াইট ডিটারজেন্ট পাউডারে আছে শক্তিশালী অ্যান্টি-জার্ম গ্রানিউলস, যা ধ্বংস করে কাপড়ে লুকিয়ে থাকা জীবাণুগুলোকে। এই করোনার সময় যাঁরা নানা প্রয়োজনে বাসার বাইরে যায়, তাঁদের পোশাক অবশ্যই অ্যান্টি-জার্ম টেকনোলজিসমৃদ্ধ ডিটারজেন্টে পরিষ্কার করা উচিত। এ ছাড়া কাপড় ধোয়ার সময় কাপড় এবং হাতের সুরক্ষায় আরও কিছু কৌশল অবলম্বন করা উচিত।
অনেকে পোশাকের রং ও সুতা ঠিক রাখতে অনেকে অনেক ধরনের ক্লিনিং প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকেন। তবে পোশাকের রং ও সুতা ঠিক থাকার নিশ্চয়তা দেয় অ্যান্টি-জার্ম টেকনোলজিসমৃদ্ধ মি. হোয়াইট ডিটারজেন্ট পাউডার।
সুতি কাপড় ধোয়ার আগে পানির মধ্যে কিছুক্ষণ লবণ মিশিয়ে রেখে দিয়ে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, কাপড়ের রং নষ্ট হবে না। সাদা কাপড় সতর্কতার সঙ্গে পরিষ্কার করতে হবে। রঙিন কাপড় থেকে এগুলো আলাদা করে ভেজাতে। অ্যান্টি-জার্ম ও আলট্রা হোয়াইট টেকনোলজিসমৃদ্ধ মি. হোয়াইট ডিটারজেন্ট পাউডার সঠিক মাত্রায় পানির সঙ্গে মিশিয়ে কাপড় ধুয়ে ফেললে জীবাণু প্রতিরোধ, ময়লা পরিষ্কারের পাশাপাশি রংও ঠিক থাকবে। তাই কাপড় থাকে একদম নতুনের মতোই।
অনেকে মনে করেন, বেশিক্ষণ কাপড় পানিতে ভিজিয়ে রাখলে কাপড় বেশি পরিষ্কার হয়—ধারণাটি সঠিক নয়। এতে কাপড়ের সুতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই শার্ট, প্যান্ট ও অন্যান্য কাপড় ২০-৩০ মিনিট ভিজিয়ে ধুয়ে ফেলুন। জিনসের মতো ভারী পোশাক উল্টো করে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এতে ভেতরের ময়লা ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।
নতুন কাপড় অবশ্যই অন্য কাপড়ের সঙ্গে ধোয়া উচিত নয়। আলাদা ধুয়ে আগে বুঝে নিতে হবে রং ওঠে কি না।
চাদর, বালিশের কাভার এসব কাপড়ের সঙ্গে কখনোই পরার কাপড় পরিষ্কার করা উচিত নয়। কারণ, এগুলো একটু মোটা হওয়ায় বেশি ডিটারজেন্ট প্রয়োজন হয়। অন্য কাপড়ে এত বেশি ডিটারজেন্ট প্রয়োজন হয় না।
আর নতুন কাপড় হলে অবশ্যই এর ট্যাগ চেক করে নিতে হবে। ট্যাগে কাপড় ধোয়ার নিয়ম উল্লেখ করা থাকে।
উলের কাপড় গরম পানিতে ধোবেন না। খুব বেশিক্ষণ ডিটারজেন্ট পাউডারে ভিজিয়ে রাখলেও উল নষ্ট হয়ে যায়। ডিটারজেন্ট মেশানো পানিতে ভিজিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে নিন।
তবে যেটাই হোক না কেন, এই করোনাকালে অবশ্যই এমন ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা উচিত, যা জীবাণু ধ্বংস করতে কার্যকর।