সিনেমায় মিরান্ডা প্রিস্টলি নামে অভিনয় করেছেন মেরিল স্ট্রিপ (বাঁয়ে), অনেকেরই ধারনা, মিরান্ডা চরিত্রটি বাস্তবেন অ্যানা উইনটোর (ডানে) থেকে অনুপ্রাণীত
সিনেমায় মিরান্ডা প্রিস্টলি নামে অভিনয় করেছেন মেরিল স্ট্রিপ (বাঁয়ে), অনেকেরই ধারনা, মিরান্ডা চরিত্রটি বাস্তবেন অ্যানা উইনটোর (ডানে) থেকে অনুপ্রাণীত

‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’র মিরান্ডা কি বাস্তবের অ্যানা উইনটোর?

ফ্যাশন জগতের অন্দরমহলের গল্প নিয়ে ২০০৬ সালে মুক্তি পায় ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’। সিনেমায় উঠে এসেছিল ‘রানওয়ে’ নামে এক প্রভাবশালী ফ্যাশন ম্যাগাজিনের খিটখিটে প্রধান সম্পাদক আর তাঁর আদেশ–নির্দেশে নাজেহাল এক সহকারীর গল্প। তখন থেকেই অনেকের ধারণা, পর্দার এই খিটখিটে সম্পাদক আদতে ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের অ্যানা উইনটোর।

১ মে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে সেই সিনেমার সিক্যুয়েল ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’। ২০ বছর পর আবার বড় পর্দায় ফিরেছেন রানওয়ে ম্যাগাজিনের সেই সম্পাদক। মজার বিষয় হলো, নতুন সিনেমা মুক্তির আগে পর্দার প্রধান সম্পাদক মিরান্ডা প্রিস্টলির (মেরিল স্ট্রিপ) সঙ্গে ‘ভোগ’–এর একটি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন স্বয়ং অ্যানা উইনটোর।। তবে সেখানেও এ রহস্য খোলাসা হলো না।

২০০৬ সালে সিনেমাটি মুক্তি পেলেও গল্পটা ২০০৩ সালেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। লরেন ভাইসবার্গারের উপন্যাসটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয়, তখন থেকেই ফ্যাশনপাড়ায় গুঞ্জন—‘এটা কি অ্যানা?’

২০০৬ সালে বইটির গল্প অবলম্বনে সিনেমা তৈরি হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে ‘রানওয়ে’র গল্প। সেই সিনেমার মূল চরিত্র মিরান্ডা প্রিস্টলি চরিত্রে মেরিল স্ট্রিপের অভিনয় রীতিমতো কাঁপিয়ে দেয় বক্স অফিস। ‘আনাড়ি সহকারী’ চরিত্রে অ্যান হ্যাথাওয়ে আর ‘এমিলি’ চরিত্রে এমিলি ব্লান্টও ছিলেন দুর্দান্ত।

কিন্তু একটা প্রশ্ন সবার মনেই ছিল, সাদা চুল, চোখে বড় সানগ্লাস আর ঠোঁটে তাচ্ছিল্য—মিরান্ডা প্রিস্টলির এই চরিত্র ঠিক কার আদলে তৈরি? সবকিছু ‘ভোগ’–এর তৎকালীন প্রধান সম্পাদক ও মেট গালার চেয়ারপারসন অ্যানা উইনটোরের দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

কারণ লরেন যে সময়ের গল্প লিখেছেন, তখন তিনি ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনে অ্যানা উইনটোরের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৯৯ সালে অ্যানার সহকারী হিসেবে যোগ দেন লরেন। ফ্যাশন জগৎ নিয়ে তাঁর খুব একটা আগ্রহ ছিল না, আসলে সাংবাদিক হতে চেয়েছিলেন তিনি।

নতুন ছবির প্রচারণায় সম্প্রতি ভোগের এক ফটোশুটে অংশ নেন মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যানা উইনটোর

২০২১ সালে এক সাক্ষাৎকারে লরেন নিজেই স্বীকার করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরোনোর পর কীভাবে চাকরিটা পেয়েছিলাম, নিজেও জানি না। এক বছরের কিছু কম সময় সেখানে ছিলাম, কিন্তু ওই সময়টাই আমার বইয়ের রসদ জুগিয়েছে।’

বইটি কি সত্য ঘটনার ওপর লেখা?

লরেন বলেছেন, ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’ তাঁর নিজের জীবনের ছায়া অবলম্বনে লেখা। ১৯৯৯ সালে কর্নেল ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করার কয়েক মাস পরই তিনি অ্যানা উইনটোরের সহকারী হিসেবে যোগ দেন। সিনেমায় যেমন অ্যান্ডি (অ্যান হ্যাথাওয়ে) ফ্যাশন নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহী ছিল না, লরেনের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা তেমনই ছিল। তাঁর মন পড়ে ছিল সাংবাদিকতায়।

তবে সিনেমায় দেখানো বস মিরান্ডা প্রিস্টলির (মেরিল স্ট্রিপ) হ্যারি পটারের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি জোগাড় করার মতো অসম্ভব আবদার তাঁকে মেটাতে হয়নি। বইয়ের অনেক ঘটনাই লরেন লিখেছেন রাতে কাজ করতে করতে কফি খাওয়ার ফাঁকে।

‘এসব ঘটনা আমার সঙ্গে ঘটেনি বটে, কিন্তু বাস্তবতা এর থেকে খুব একটা দূরে নয়। শুধু ফ্যাশন নয়, বিজ্ঞাপন বা পিআর এজেন্সিতে যাঁরা নতুন নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেন, তাঁদের অনেকের জীবনের গল্পের সঙ্গেই এর মিল আছে।’

মিরান্ডা প্রিস্টলি কি তবে অ্যানা উইন্টুর?

ভোগের ফটোশুটে মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যানা উইনটোর

লেখক লরেন ভাইসবার্গার সব সময়ই দাবি করে এসেছেন যে ‘মিরান্ডা’ চরিত্রটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। এর সঙ্গে বাস্তবের কারও মিলই নেই। তবে পাঠকেরা তো দুইয়ে–দুইয়ে চার মেলাতে ছাড়েন না। খোদ অ্যানা উইনটোরকেও এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘ফিকশন আমার পছন্দের একটি জনরা। তবে এই বইটা পড়ব কি না, এখনো ঠিক করিনি।’
২০২৪ সালে আরেক সাক্ষাৎকারে অ্যানা উইনটোর বলেছিলেন, ‘আমার আর মিরান্ডার মধ্যে কতটা মিল, সেটা দর্শক আর আমার সহকর্মীরাই ভালো বলতে পারবেন।’ তবে তাঁর রুক্ষ মেজাজ আর নিয়মের প্রতি কড়াকড়ি বহুদিনের। সেটাকেও ডিফেন্ড করেছেন সহজভাবেই, ‘আমরা এখানে কাজ করতে আসি। সেরাটা পাওয়ার জন্য মাঝেমধ্যে একটু কড়া হতে হয়।’

তবে খিটখিটে ‘এমিলি’ চরিত্রটিই বা কে?

‘এমিলি’ চরিত্রে অভিনয় করেন এমিলি ব্লান্ট (ডানে)

সিনেমায় এমিলি ব্লান্ট অভিনীত ‘এমিলি’ চরিত্রটির কথা মনে আছে? দুই দশক পর এখনো সেই চরিত্র নিয়ে ফ্যাশনিস্তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। লরেন কোনো নাম না নিলেও কিছুদিন আগে সেলিব্রিটি স্টাইলিস্ট লেসলি ফ্রেমার দাবি করেছেন, চরিত্রটা হয়তো তাঁকে কেন্দ্র করেই লেখা।

লেসলি জানান, তিনি যখন ‘ভোগ’ ছেড়ে ‘প্রাডা’য় যোগ দেন, তখন তাঁকে ডেকে বইটির কথা জিজ্ঞেস করেন। ‘অ্যানা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই লরেন কে? আমি বললাম, সে আপনার জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিল। তখন অ্যানা বললেন, “সে আমাদের নিয়ে বই লিখেছে। সেখানে তোমাকে আমার চেয়ে বেশি ভয়ংকর হিসেবে দেখিয়েছে!”’ লেসলি এ–ও জানান যে ‘ভোগ’–এ থাকাকালে কোনো কাজে হয়তো লরেনের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। সে কারণেই হয়তো তাঁর চরিত্রকে এমন দেখানো হয়েছে।

তবে যাঁকে কেন্দ্র করেই লেখা হোক না কেন, এখন পর্যন্ত কারও দিকে আঙুল তোলেননি লেখক লরেন ভাইসবার্গার। তবে চরিত্রটির অনুপ্রেরণা যে অ্যানা, সেটা বলাই যায়।
সূত্র: পিপল ম্যাগাজিন ও হলিউড রিপোর্টার