ছুটির দিনের ভালোবাসা দিবসের আয়োজনে মডেল হয়েছেন তিথি ও টুটুল
ছুটির দিনের ভালোবাসা দিবসের আয়োজনে মডেল হয়েছেন তিথি ও টুটুল

আমার হাসিটা নাকি আলাদা করে চোখে পড়ত তাঁর, তাই নাম দিল ‘হাসি মিস’

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে লেখা আহ্বান করেছিল প্রথম আলোর শনিবারের ক্রোড়পত্র ‘ছুটির দিনে’। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভালোবাসার টক–ঝাল–মিষ্টি গল্প লিখে পাঠিয়েছেন পাঠক। কেউ লিখেছেন দুরন্ত প্রেমের গল্প, কেউবা শুনিয়েছেন দূর থেকে ভালোবেসে যাওয়ার অনুভূতি। তেমনই একটি লেখা পড়ুন এখানে।

স্কুলের সহকর্মীদের ভিড়ে যার সঙ্গে আমার কথাবার্তা ছিল সবচেয়ে কম, অদ্ভুতভাবে সেই মানুষটিই একদিন ট্রেনিং ক্লাসে আমাকে প্রশ্নের পর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল। আমার আলোচনার বিষয় ছিল আনা ফ্রাঙ্ক। ইতিহাসের এক কিশোরীর ডায়েরি যেন আমাদের মধ্যেও একটি গোপন দরজা খুলে দিয়েছিল। প্রশ্ন থেকে আলোচনা, আলোচনা থেকে অদৃশ্য টান, সম্পর্কের সূচনা ঠিক কবে হলো, নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না।

এরই মধ্যে আমার অন্যত্র চাকরি হয়ে গেল। বিদায়ের দিন সে আমাকে অবাক করে উপহার দিল আনা ফ্রাঙ্কের ডায়েরি, একগুচ্ছ রজনীগন্ধা আর একটি ছোট চিরকুট। সেখানে প্রথমবার আমি একটি নতুন নামে পরিচিত হলাম—‘হাসি মিস’।

সন্ধ্যায় ধন্যবাদ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলাম। পরদিন সে লিখল, স্কুলের ভিড়ে আমার হাসিটা নাকি আলাদা করে চোখে পড়ত—তাই এই নাম। এর পরদিন ছিল স্কুলের পিকনিক, যেতে না পেরে মনটা অকারণে ভারী হয়ে ছিল। বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে এল আরেকটি বার্তা, এত মানুষের মাঝেও নাকি আজ একটা হাসি অনুপস্থিত—‘মিসিউ হাসি মিস’।

সেখান থেকেই শুরু। আমরা হয়ে উঠলাম ডিজিটাল চিঠিবন্ধু। শব্দের ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে অনুভূতি ঘন হতে লাগল। প্রেম প্রকাশের আগেই চিঠির বাইরেও আমরা দুজন দুজনকে মন মন লিখতাম অনেক কিছুই—সেই দুই ‘মন’ এক করে আমি তার নাম দিলাম মন্টু। আর দুজনের নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে নিজেদের বলতাম, সাহাপ্যাথি; কারণ আমাদের বোঝাপড়া কখনো কখনো ভাষাকেও অতিক্রম করত। অভিধানের ভাষায় যা টেলিপ্যাথি।

সে-ই প্রথম শুরু করেছিল। অন্তর্মুখী আমি পরে আর অগ্রাহ্য করতে না পেরে মে মাসের ১২ তারিখে স্বীকার করেছিলাম, ভালোবাসি।

প্রেমের পর প্রথম দেখা ৩ জুন। সেই দিনের নাম দিয়েছিলাম ‘মহাদৃষ্টি’। এরপর থেকে শুক্রবারটা যেন আমাদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। ঝড় হোক, বৃষ্টি হোক, যত ব্যস্ততাই থাকুক—আমরা দেখা করতামই।

তবু এত রোমাঞ্চকর মুহূর্তের মধ্যেও একটা অদৃশ্য দেয়াল ছিল। চোখে দেখা যায় না, অথচ অতিক্রমও করা যায় না। তুমি হয়তো সেই দেয়াল টপকে আমার কাছে এসেও বারবার ফিরে গেছ।

দেয়ালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এখন আমরা দুজন। এপাশে দাঁড়িয়ে আমার ভেতরটা যেমন লাল-নীল হয়ে ওঠে, ওপারে দাঁড়িয়ে তোমারও কি এমন হয়? ‘হাসি’ নামটা এখনো আমার ভেতরে বেঁচে আছে, যেমন বেঁচে আছে মন্টু নামটা, আর সাহাপ্যাথির সেই গোপন অভিধান।