বর্ষায় কম খরচে কক্সবাজারে

শ্রাবণের মুখর বাদল দিন এসে গেছে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে সাগর দেখেছেন? এ অন্য রকম সৌন্দর্য। ভিন্ন রকম মজা। এই আনন্দটুকু উপভোগ করতে এই বর্ষায় চলে যেতে পারেন পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে। ভরা মৌসুমের তুলনায় খরচাও বেশ কম।

আকাশে ঘন মেঘ আর নিচে উত্তাল সাগর—যেন অপেক্ষা করছে আপনারই জন্য।
আকাশে ঘন মেঘ আর নিচে উত্তাল সাগর—যেন অপেক্ষা করছে আপনারই জন্য।

বর্ষায় কেন?
সাধারণত অক্টোবর থেকে মার্চ মাসকে ধরা হয় কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময়। এই সময়টায় রোদের তেমন তেজ থাকে না। থাকে খানিকটা গা-সহা শীতল আমেজ। সমুদ্রও থাকে অনেকটাই শান্ত। তাই বিপুলসংখ্যক পর্যটক তখন সমুদ্র দেখতে ভিড় করেন। লোকসমাগম বেশি থাকায় হোটেল-মোটেলে থাকার জন্য খরচটাও একটু বেশিই করতে হয়। বাকি ছয় মাস, অর্থাৎ এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটনের ভাষায় ‘অফ সিজন’। বৃষ্টি-বাদলের মধ্যে লোকে সমুদ্রবিলাসে তেমন একটা আগ্রহী হয় না। লোকসমাগম থাকে কম। পর্যটক টানতে পাঁচ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের হোটেলগুলো ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিয়ে থাকে। থাকার খরচটা তাই অনেক কমে যায়। আর বৃষ্টির মধ্যে সাগরের বড় বড় ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাপাদাপি করার আনন্দ তো আছেই।

ঝাউবনের ফাঁক দিয়ে দেখা কক্সবাজারের কলাতলী সমুদ্রসৈকত।

কীভাবে যাবেন?
ঢাকা-কক্সবাজার পথে প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। নন-এসিতে জনপ্রতি টিকিটের মূল্য ৮০০ টাকা। এসি-ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণে খরচ জনপ্রতি ১৬০০ টাকা। আর এসি-বিজনেস ক্লাসে যেতে লাগবে জনপ্রতি ২০০০ টাকা। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

সাগরে নেমে অাপনিও এভাবে আনন্দে মেতে উঠতে পারেন।

থাকবেন কোথায়?
পাঁচ তারকা হোটেল, রিসোর্ট ও সাধারণ মানের হোটেলগুলোতে এ সময় বিভিন্ন সাশ্রয়ী প্যাকেজ থাকে। সাধ-সাধ্যের মধ্যে পছন্দের প্যাকেজটি বেছে নিয়ে কম খরচে আনন্দময় ভ্রমণ সম্পন্ন করা সম্ভব। হোটেলগুলোর ওয়েবসাইটে ঢুকে বা তাদের ফেসবুক পেজ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে পছন্দের প্যাকেজটি বাছাই করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তাহলে কক্সবাজারে নেমে অন্যের পরামর্শে খারাপ মানের কোনো হোটেলে উঠে ভ্রমণটা মাটি হবে না।

ঢুঁ মারতে পারেন কক্সবাজার শহরের ঝিনুক মার্কেটে।

কী দেখবেন?
কক্সবাজার শহরে মূলত তিনটি সৈকতে যেতে পারবেন—লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী। এ ছাড়া আছে নয়নাভিরাম ইনানী সৈকত। শহর থেকে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় টমটম বা অটোরিকশা রিজার্ভ করে সুদৃশ্য ও নয়নকাড়া মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে চলতে শুরু করবেন। এক পাশে পাহাড়, অন্য পাশে সাগরের তীব্র গর্জন আর উথালপাতাল ঢেউ। পথে পড়বে হিমছড়ি ঝরনাসহ একাধিক পাহাড়ি ঝরনা। বর্ষায় ঝরনাগুলো যেন নতুন জীবন পায়। কী যে সুন্দর করে জলধারা বয়ে চলে! চাইলে নেমে ঝরনার জলে ভিজতে পারেন। ভিজতে না চাইলে ছবি তুলে নতুন ঝরনার পথে এগিয়ে যেতে পারেন। এভাবে চলতে চলতে যখন ইনানী সৈকতে পৌঁছাবেন, তখন নিজেই বুঝতে পারবেন বর্ষায় কী অপরূপ সাগর! শহরের বর্মিজ মার্কেট ও ঝিনুক মার্কেটে ঢুঁ মেরে শঙ্খ-ঝিনুক-মুক্তার জিনিস কিনতে পারেন স্মারক হিসেবে।

ঝিনুক, শঙ্খ ও মুক্তার তৈরি নানা জিনিস কিনতে পারেন কক্সবাজারের মার্কেট থেকে।

সাধারণ কিছু পরামর্শ
# সঙ্গে অবশ্যই ছাতা রাখবেন।
# সহজে শুকিয়ে যায়—এমন কাপড় নিতে হবে।
# থাকার জায়গা আগে থেকে ঠিক করে যাওয়া উচিত। নইলে ভ্রাম্যমাণ দালালদের খপ্পরে পড়তে হবে।
# সাগরপাড়ে গিয়ে সামুদ্রিক মাছ খাওয়াটাই হবে আনন্দের ও বৈচিত্র্যময়।
# ভাটার সময় সাগরে নামা উচিত নয়। সতর্কবার্তা মেনে ভ্রমণটা আনন্দময় করুন।