
মুমূর্ষু রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজনে কী ছোটাছুটিই না করেন আপনজনেরা।
এমন একটা দৃশ্যের কথা ভাবা যাক, যেখানে আপনার আপনজনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন, অথচ কোথাও রক্ত পাওয়া যাচ্ছে না। কে দেবে রক্ত? আর কেইবা দেবে রক্তদাতার খোঁজ? এ যে কী নিদারুণ যন্ত্রণা, এমন পরিস্থিতিতে না পড়লে কিংবা একেবারে কাছ থেকে সেই পরিস্থিতির সাক্ষী না হলে অনেকেই উপলব্ধি করতে পারবেন না।
তবে কেউ কেউ ব্যতিক্রমও হন। শুধু নিজেরা রক্তদান করেই নয়, রক্তদাতা খুঁজে দিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ান তাঁরা। সন্ধানীর মতো প্রতিষ্ঠানের কথা তো সবাই জানেন। আজকের অনলাইন–দুনিয়ায় ফেসবুকভিত্তিক সংগঠনগুলোও কিন্তু বেশ সক্রিয়। এমনই এক ফেসবুক গ্রুপ ‘রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’, যেখানে রক্তদানে প্রস্তুত ব্যক্তিরা জানান দেন নিজের রক্তের গ্রুপ এবং অবস্থান। সেই গ্রুপেরই একজন মডারেটর আসিফ আহমেদ, শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে যিনি পূর্ণ ব্যাগ রক্ত দিতে অপারগ। তবু থেমে থাকেননি আসিফ। ছোট্ট শিশুদের জন্য রক্ত দিয়েছেন ছয়বার, যাদের রক্তের পরিমাণ যৎসামান্য। আর কত শত মানুষের জীবন বাঁচাতে যে রক্তদাতা জোগাড় করে দিয়েছেন, তার ইয়ত্তা নেই।
চাই রক্তদাতার খোঁজ
ময়মনসিংহ সদরে বসেই সারা দেশের মানুষকে রক্তদাতা খুঁজে দেন আসিফ। ফেসবুক গ্রুপটির মডারেটর হওয়ার কারণে দিনরাত মিলিয়ে একটা লম্বা সময় তাঁকে মুঠোফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। মুঠোফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার কারণে আশপাশের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্যও শুনতে হয় তাঁকে। তবে গেমিং বা অকারণ ফেসবুক ব্রাউজিং নয়, বরং মানুষের কল্যাণে প্রযুক্তিকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়ে ব্যবহার করেন আসিফ। সচেতনতামূলক পোস্টও করেন ফেসবুকে। গুগল ডেটাবেজে রক্তদাতার তালিকাও রাখেন।
আসিফ আলাদা নন
জন্ম থেকেই আসিফের কিছু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তবে আসিফ কিন্তু নিজেকে আলাদা মনে করেন না। ফেসবুক গ্রুপের বাকি সব স্বেচ্ছাসেবকের মতোই দিনরাত কাজ করেন। তড়িৎ প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করছেন ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে। প্রতিটি কাজেই উৎসাহ দেন তাঁর মা। রক্তদাতাদের গ্রুপটির সঙ্গে আছেন ২০১৭ থেকে। মানুষের জন্য এভাবেই কাজ করে যেতে চান আজীবন।