ছুটিতে শিশুরা কী করতে পারে, তারই কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষক হাসিনা মোস্তাফিজ ও নাজমুন নাহার
পয়লা রমজান থেকে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোয় সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে। স্কুল খুলবে ২৯ মার্চ। আর এই লম্বা ছুটিতে অনেক শিশু বাসায় থেকে বোর হয়, কেউ আবার ফোনাসক্ত হয়ে যেতে পারে। ছুটিতে তাই শিশুদের ব্যস্ত রাখা জরুরি।
যেহেতু লম্বা বন্ধ, তাই অনেক স্কুল শিশুদের বাড়ির কাজ দিয়েছে, তবে বাড়ির কাজ করার পরও অনেকটা সময় থাকে হাতে। তাই শিশুর ছুটিটা যাতে আনন্দে কাটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে পরিবারকেই।
ঢাকার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিষয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হাসিনা মোস্তাফিজ বলেন, ‘লম্বা বন্ধে শিশুকে নানাভাবে ব্যস্ত রাখা যায়। এ সময়ে সে সৃজনশীল কোনো কাজে যুক্ত হতে পারে, বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারে।
এ ছাড়া নানা রকম দক্ষতা বাড়ানোর কাজে যুক্ত করে দিতে পারেন সন্তানকে। অনলাইনে নানা রকম শর্ট কোর্স, প্রোগ্রামিং, ভাষা শেখায় উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। আবার বাসার ছোটখাটো কাজে যুক্ত করেও শিশুর সময়টা আনন্দময় করে তুলতে পারেন।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা সাধারণত অল্পতেই ধৈর্য হারিয়ে ফেলে। তাই এই বয়সের শিশুদের সঙ্গে পরিবারের বড়রা মেমোরি গেম, অরিগ্যামি বা কোনো বিশেষ চরিত্র সেজে সময় কাটাতে পারেন বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের ১০২ নম্বর চেঙ্গাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুন নাহার।
এই শিক্ষকের আরেকটি পরামর্শ হলো—প্রতিদিন শিশুকে নিয়ে একটু বাইরে বের হওয়া জরুরি। এতে শিশুর মধ্যে সামাজিকতা, অন্যদের সঙ্গে আচরণ, মানবিকতার দিকগুলো গড়ে ওঠে।
শিশুকে দিয়ে ঘরের ছোট ছোট কাজ করাতে পারেন। যেমন রমজান মাসের ইফতারি বানাতে শিশুকে সঙ্গে নিন। আপনি হয়তো ফল কাটলেন, শিশু শরবত বানাল।
ইফতারি বানানোর ফাঁকে শিশুকে সঠিক ধর্মীয় জ্ঞান ও চর্চায় উৎসাহ দিতে পারেন। নিজের কাপড়গুলো ভাঁজ করা, পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখা, খাবার টেবিলের প্লেটগুলো সাজানোর মতো কাজ শিশুকে দিয়ে করাতে পারেন।
শিশুদের এমন খেলাধুলায় আগ্রহী করুন, যা ওদের বুদ্ধি বাড়াতে সাহায্য করবে। লেগো দিয়ে খেলাধুলা করলে শিশুর নতুন নতুন জিনিস তৈরির প্রতি ঝোঁক বাড়বে। দাবা খেলাও শিশুর বুদ্ধির চর্চার জন্য দারুণ উপকারী।
এ ছাড়া নানা রকম পাজল মেলানো, বিজ্ঞান বাক্স বা আইকিউ টেস্টের মতো খেলাধুলা শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে কাজ করে। কাগজ দিয়ে তৈরি নানা রকম জিনিস বানাতে দিতে পারেন শিশুকে, যেটা অরিগ্যামি নামে পরিচিত। গবেষকেরা বলছেন, অরিগ্যামি তৈরি করলে মন ভালো থাকে।
ছোট বয়স থেকেই শিশুকে বাগান করার চর্চায় উৎসাহ দিতে পারেন। নিয়মিত গাছে পানি দেওয়া, গাছের ডাল ছেঁটে দেওয়া, নতুন ফুল-ফলের গাছ লাগালে প্রকৃতির সঙ্গে শিশুর যোগাযোগ তৈরি হবে।
পরিচর্যার পর গাছে নতুন কলি বা ফুল এলে শিশুও আনন্দ পাবে। একই সঙ্গে শিশুর গাছপালার প্রতি, প্রকৃতিকে ভালোবাসার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
পাঠ্যবই তো রোজই পড়তে হয়। ছুটিতে শিশুকে বরং কিছু ভালো গল্পের বই পড়তে দিতে পারেন। চাইলে একদিন বইমেলায় নিয়ে গিয়ে শিশুকে বইও কিনে দিতে পারেন।
এ ছাড়া শিশুকে সাদা কাগজে নিজের কল্পনার জগৎ ফুটিয়ে তুলতে উৎসাহ দিতে পারেন। ছবি আঁকার চর্চা করলে শিশুর ভাবনার জগৎ বড় হবে, অনেকটা সময়ও কেটে যাবে কাজটি করতে গিয়ে।
এভাবে একেকটি বই শেষ করার পর অথবা ছবি আঁকার পর শিশুকে ছোট ছোট উপহার দিয়ে উৎসাহিত করতে পারেন।