শিশুরা কেন ঘুমের মধ্যে গা থেকে লেপ-কম্বল ফেলে দেয়, সমাধান কী

শীতে লেপ-কম্বল মুড়ি দিয়ে আরামসে ঘুমাতে কে না ভালোবাসে। তবে অনেক সময়ই দেখা যায়, তীব্র শীতেও বাড়ির ছোট্ট সদস্যটি তার গায়ের লেপ বা কম্বল ফেলে দিচ্ছে। আপনি হয়তো বিষয়টা চোখে পড়ামাত্রই তা আবার টেনে দেন তার গায়ে। ভাবেন, তার বুঝি ঠান্ডা লাগছে। হয়তো সেই দুশ্চিন্তায় আপনি নিজেও বিশ্রাম নিয়ে শান্তি পান না। আদতে শিশুরা কেন এমন আচরণ করে? মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান–এর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছেন রাফিয়া আলম

তীব্র শীতেও অনেক শিশু গায়ের লেপ বা কম্বল ফেলে দেয়
শিশুরা কেন ঘুমের মধ্যে গা থেকে লেপ-কম্বল ফেলে দেয়, সমাধান কী

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

বাড়ন্ত শিশুর বিপাক হার অনেক বেশি থাকে। তাই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির চেয়ে একটি শিশুর দেহে অনেক বেশি তাপ উৎপন্ন হয়। তাই তার গরম লাগে তুলনামূলক বেশি।

অর্থাৎ যেকোনো তাপমাত্রায় একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যতটা গরম লাগে, একটি শিশুর গরম লাগে তার চেয়ে বেশি। যে শিশু দিনরাত ছোটাছুটি করছে, তার অল্পতে গরম লাগাও স্বাভাবিক। শীতে লেপ-কম্বল গায়ে দেওয়ার অল্প সময় পর কোনো কোনো শিশু ঘেমেও যায়।

আরও একটি বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির শরীর পরিবেশের তাপমাত্রার পরিবর্তনকে সহজে সামলাতে পারে। শিশুর শরীর আবার সেটা পারে না। তাই যখনই তার একটু বেশি গরম লাগে, তখন সে লেপ, কম্বল বা গরম কাপড় গা থেকে ফেলে দেয়।

ঘুমের ধরন

ঘুমন্ত অবস্থায় একটা লম্বা সময় শিশুদের চোখ জোড়াও নড়াচড়া করে বেশ। ঘুমের এই ধাপকে বলা হয় র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ। এ সময় শরীরের পেশিরও নড়াচড়া হয় বেশ।

এ ছাড়া শিশুরা ঘুমের সময় একটু বেশি নড়াচড়া করে। স্বাভাবিকভাবেই ওদের শরীর এই নড়াচড়াটা স্বাধীনভাবে করতে চায়। ভারী লেপ বা কম্বল গায়ের ওপর থাকলে এই নড়াচড়া বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ভারী জিনিসটা সরিয়ে দিতে পারে সে ঘুমের ঘোরেই।

কারণ যখন কম্বলেই

শিশুর তুলনায় তার লেপ বা কম্বল অতিরিক্ত ভারী হতে পারে। কিছু কম্বলের তন্তু শিশুর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। এসব কারণেও শিশু তা সরিয়ে দিতে পারে।

সমাধান

  • শিশুকে ফুলহাতা জামা এবং ফুলপ্যান্ট বা পায়জামা পরিয়ে রাখুন রাতে। তাপমাত্রা বুঝে ফ্লানেল বা সুতি কাপড়ের পোশাক বেছে নিন। ঘুমের সময় এসব পোশাকে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা পাবে শিশু।

  • খুব বেশি ঠান্ডা থাকলে ঘুমের সময়ও মাথা ঢেকে এবং মোজা পরিয়ে রাখতে পারেন। তবে শিশু এসবে অস্বস্তিবোধ করলে জোর করবেন না।

  • শিশুর জন্য আরামদায়ক হালকা লেপ, কম্বল বা কম্ফোর্টারের ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে এসবের পরিবর্তে একটি বা দুটি হালকা কাঁথাও তার গায়ে দিয়ে দিতে পারেন।

  • কৃত্রিম তন্তু শিশুর শরীরে সরাসরি স্পর্শ না করলেই ভালো। প্রয়োজনে কম্বলে সুতি কভার ব্যবহার করুন।

  • মশারির ওপর ভারী কাপড় বিছিয়ে দেওয়া যায়, যাতে লেপ-কম্বল ফেলে দিলেও প্রবল ঠান্ডা বাতাস সরাসরি শিশুর গায়ে কম লাগে। তবে খেয়াল রাখুন, শিশুর মাথা যেদিকে থাকে, সেদিকে ওই ভারী কাপড় রাখা যাবে না।

  • রাতে দু–একবার শিশুকে স্পর্শ করে দেখতে পারেন। তার দেহের উষ্ণতা অনুভব করুন, ঘেমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল করুন। সে অনুযায়ী তার স্বস্তির ব্যবস্থা করুন।