ঈদে গ্রামের বাড়িতে পুকুরে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি
ঈদে গ্রামের বাড়িতে পুকুরে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি

ঈদে বাড়ি গিয়ে শিশুর প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখছেন তো

ঈদের ছুটিতে গ্রামে বা অন্য কোথাও বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু এক সাধারণ ঘটনা। অন্যান্য কারণেও শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনা থেকে শিশুকে বাঁচাতে হলে ঈদের ছুটিতে অভিভাবক হিসেবে আপনাকে কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে সব সময়।

পানি এক বড় বিপদ

যেকোনো জলাশয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকুন। সাঁতার না জানলে তো বটেই, জানলেও কখনো কোনো দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ছাড়া শিশুকে পানির কাছে যেতে দেবেন না। পানির কাছে খেলতে গিয়ে বা হাঁটতে গিয়ে পা পিছলেও পড়ে যেতে পারে শিশু। ঈদের সময় গ্রামের বাড়িতে পুকুরে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটে সবচেয়ে বেশি। অনেক সময়ই সমবয়সী শিশুরা একসঙ্গে খেলতে গিয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনায় পড়ে। রিসোর্ট বা এ ধরনের জায়গায় ঘুরতে গেলে সুইমিংপুলের ব্যাপারে বিশেষ সতর্ক থাকুন।
গ্রামের বাড়িতে বড় বালতি, ড্রাম বা যেকোনো বড় পাত্রে পানি রাখা খুবই সাধারণ ব্যাপার। শিশুর জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকির কারণ। তারা কৌতূহলী হয়ে দেখতে চায় পানি কেমন, ভেতরে কী আছে—এমন সময়ই ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। শিশুরা যদি বালতি বা ড্রামের কিনারা ধরা বা সেটি ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে খুব সহজেই তারা উপুড় হয়ে পড়ে যেতে পারে। ড্রামের ভেতরে পানি থাকলে উপুড় হয়ে পড়ে গেলে মাথা ডুবে যেতে পারে এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে শিশুর শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম

বিদ্যুতের তার ও অন্যান্য সরঞ্জাম শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। বাড়ির আশপাশে বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার পড়ে থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন। বিষয়টি সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত শিশুকে সেদিকে যেতে দেবেন না।

আগুন, গ্যাস ও গরম তরল

আগুন, গ্যাস বা গরম তরলেও ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। শিশুকে চুলার কাছে যেতে দেবেন না। বারবিকিউ করতে চাইলেও শিশুর নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। আতশবাজি–জাতীয় জিনিস নিয়ে তাদের খেলতে দেবেন না। ফাঁকা স্থান ছাড়া কোথাও ফানুস ওড়াবেন না। আপনার ওড়ানো ফানুসের আগুনে অদূরেই কোনো বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা ফুটফুটে শিশু পুড়ে যেতে পারে।
এমনভাবে কোনো গরম তরল রাখবেন না কিংবা বহন করবেন না, যাতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কোনো কাজের জন্য গরম পানি নিতে চাইলে পাতিলে নয়; বরং মজবুত একটি বড় বালতিতে সাবধানে পানি নিন। পাতিলে পানি বহন করার সময় শিশু দৌড়ে সামনে এলে তা ছিটকে পড়তে পারে তার গায়ে বা মুখে।
গরম ডালের পাত্র, গরম ভাতের পাতিল, গরম কেটলি—এ রকম কোনো কিছুও শিশুর নাগালের মধ্যে রাখবেন না। ঈদের ছুটির সময় বাড়িতে কয়েল ব্যবহার না করাই  ভালো। নিতান্তই যদি ব্যবহার করতে হয়, তাহলে সেটিও শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন। কয়েল জ্বালিয়ে রেখে ঘুমিয়ে যাবেন না। মশারি ব্যবহার করুন।

শিশু কী মুখে দিচ্ছে, খেয়াল রাখুন

ওষুধ, রাসায়নিক দ্রব্য, ফলের বীজ, মার্বেল এমনকি কাপড়ের পিনও মুখে দিয়ে দিতে পারে শিশু। ছোটখাটো জিনিস আটকে যেতে পারে তার গলায়। এভাবে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ওষুধ বা রাসায়নিক দ্রব্য মুখে চলে গেলে সেটির মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

চেনা-অচেনায় হারিয়ে যাওয়া

শিশুকে নিয়ে আপনি তার চেনা জায়গাতেই থাকুন; কিংবা ঘুরতে যান দূরে কোথাও, কখনোই তাকে একা ছেড়ে দেবেন না। বিশ্বস্ত আপনজন ছাড়া কারও কাছেই শিশুকে একা রাখবেন না। শিশুকে বুঝিয়ে বলুন, অভিভাবককে না জানিয়ে কারও উপহারও নিতে নেই। মনে রাখবেন, ছেলেশিশু কিংবা মেয়েশিশু যে কেউই নির্যাতনের শিকার হতে পারে আপনার চোখের আড়ালে। আর তা করতে পারে আপনার পরিচিত মানুষও।
তা ছাড়া কোনো প্রাণীকে যেন শিশু খেলার ছলে উত্ত্যক্ত না করে, সেটিও তাকে শিখিয়ে দেবেন।

খেয়াল রাখবেন, ঝোপঝাড়ে বিষধর প্রাণী থাকতে পারে। পুরোনো, পরিত্যক্ত কুয়া বা বিপজ্জনক গর্তে শিশু পড়ে যেতে পারে। পথে দ্রুত গতিতে কোনো যানবাহন ছুটে আসতে পারে। শিশু উঁচু জায়গায় উঠলে পড়ে যেতে পারে।
তাই ঈদের আনন্দের মধে৵ও শিশুকে কখনোই চোখের আড়াল করা যাবে না।
সূত্র: সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন