আমার ২০ বছর, মায়েরও ২০ বছর

ছোটবেলা থেকেই দেখেছি, মায়ের সকাল শুরু হয় এক তীব্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবার আগে ঘুম থেকে ওঠা, পরিবারের সবার নাশতা আর দুপুরের খাবার তৈরি করা, তারপর নিজের স্কুলের খাতা আর লেসন প্ল্যান গুছিয়ে ছুটে চলা।

সারা দিন ক্লাসের ব্যস্ততা আর শত শত শিক্ষার্থীর কোলাহল শেষে মা যখন বিকেলে কিংবা সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন, তখনো তাঁর ছুটির ঘণ্টা বাজে না। ব্যাগটা নামিয়েই আবার রান্নাঘরে ঢুকে পড়া, সন্তানদের পড়াশোনার খোঁজ নেওয়া, রাতের খাবারের আয়োজন—সব মিলিয়ে যেন এক নিরবচ্ছিন্ন দায়িত্বের চক্র। যে শুক্রবার সবার জন্য ছুটির দিন, সেই দিনটিও মায়ের জন্য বাড়তি কাজের দিন হয়ে আসে।

অথচ এই ব্যস্ততার মাঝেও মা কখনো সন্তানদের ভালোবাসায় কমতি রাখেননি। একই ছাদের নিচে থেকেও হয়তো প্রতিদিন দীর্ঘ গল্প করার সুযোগ হয় না। তবু দিন শেষে যখন মা পড়ার টেবিলের পাশে এসে বসেন কিংবা বিছানায় একটু সময় দেন, তখন তাঁর চোখের ক্লান্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকা গভীর স্নেহ আমাকে প্রতিনিয়ত নতুন করে বাঁচতে ও লড়তে শক্তি দেয়।

ব্যস্ততার মধ্যেও মায়ের সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। রান্নাঘরে গিয়ে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে দুটো কথা বলা, রাতে ঘুমানোর আগে মুঠোফোনটা দূরে সরিয়ে রেখে মায়ের হাতটা ছুঁয়ে বসে থাকা, কিংবা তাঁর পাশে শুয়ে সারা দিনের সুখ–দুঃখ ভাগ করে নেওয়া—এই মুহূর্তগুলোই আমার সবচেয়ে বড় শান্তি।

২৭ মে আমার ২০তম জন্মদিন ছিল। জীবনের এই সময়ে এসে, যখন চারপাশের বাস্তবতা বুঝতে শিখছি, তখন মনে হয়—এই দিনটি শুধু আমার জন্মদিন নয়, আমার কর্মজীবী মায়েরও নতুন করে জন্ম নেওয়ার দিন।
একটি মেয়ের জীবন নানা রঙে সাজানো থাকে। কিন্তু যেদিন সে প্রথম মা হয়, সেদিন তার ভেতরের বহু সত্তা মিলেমিশে জন্ম নেয় এক নতুন মানুষ। আমার ২০তম জন্মদিনে মাকে শুধু এটুকুই বলতে চাই—তুমি শুধু একজন সফল শিক্ষক নও, তুমি আমার দেখা সেরা মা, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।