বিদেশে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের মামলায় তারেক রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে আরও দুজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক মোজাম্মেল হোসেন আজ বৃহস্পতিবার এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।আদালত আগামী ৩ জানুয়ারি পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেছেন।সাক্ষীরা হলেন ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হোসনে আরা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক পরিদর্শক মীর আলীমুজ্জামান।সাক্ষ্য গ্রহণের সময় আজ গিয়াস উদ্দিন মামুনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামুনের আইনজীবী ফখরুল ইসলাম সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি রাখতে আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন।মামুনের আইনজীবী আদালতকে বলেন, বর্তমান আদালত থেকে মামলাটি অন্য আদালতে স্থানান্তর করতে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। ওই আবেদনের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ মুলতবি রাখা প্রয়োজন। আদালত আবেদন গ্রহণ না করে সাক্ষীদের জেরা করতে বলেন। তবে মামুনের আইনজীবী আজ জেরা করেননি।এ মামলায় গত ১৬ নভেম্বর সাক্ষ্য দিয়েছেন মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের কর্মকর্তা ডেবরা লাপ্রেভেট। ২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে তারেক রহমান ও তাঁর বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। গত বছরের ২ জুলাই তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তারেক রহমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জামিন নিয়ে চিকিত্সার জন্য যুক্তরাজ্য যান। এখনো তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। গত ৮ আগস্ট তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর বন্ধু মামুন অবৈধভাবে অর্থ আদায় করেন। তারেক রহমান নিজেকে আড়াল করতে মামুনের মাধ্যমে ২০০৩ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পথে মোট ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেন। তারেক রহমানের অবৈধভাবে অর্জিত অর্থই সিঙ্গাপুরের সিটি ব্যাংকে মামুনের হিসাবে রক্ষিত ছিল।