অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান
অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

কবিতাযুগল

বুকে প্রেক ঠুকে ঠুকে

নৈষ্কর্ম্য

এ তব ফ্যাকাশে চাউনি
ঘেমো ক্লান্তির পর দুফোঁটা জল
মেঘজর্জর বিষণ্ন বাতায়নে আমার
থাকবার ছাত্রী হল মাথা তুলে তাকায়ে আছে
জানি বের হইলেও কোনো চাকরি তো আমি
করতেছি না
রাস্তা ধরে এগোইলে পরপর কিছু রাস্তাই এইখানে দেখা যায়
বিদেশি সিমেন্ট আর বালিচকে মনে হয় চিবুকে গইড়া উঠতেছে খৃশ্চানতা
এদের পার হইয়া আমি যাব বটে
তবে কোনো চাকরি আমি করতেছি না
এখন
বুকে প্রেক ঠুকে ঠুকে শীতল দাহের পর
কবেকার প্রেমপত্রখানি পড়ে চোখে
তোমার ফ্যাকাশে চাউনি
কোন ঝড় থেকে আসলা যে এখন
কোন কাঁটাতারে মম হৃদয় বিঁধে খুন—

জানি না

এখনই তোমাকে কী জানাব—
আমি বের হইয়া গেছি রাস্তায়
জল–কাদায় ধীরে ধীরে পা ফেলে হাঁটতেছি
কর্মের ভারহীন থেকে
বেকার—
বেকারত্ব
বুকে প্রেক ঠুকে ঠুকে তোমাকে পাওয়ার পর
আর কোনো চাকরি করাই আমার পক্ষে
সম্ভব হইতেছে না।

তোমার মৃত্যুর উপশম

তুমি মরে যাওয়াতে মরে যাচ্ছি না আমি
ঝুলে থাকতে দিয়ে তোমার শরীর—
আমি দেখে নিচ্ছি ঢাকা শহরের স্পিডব্রেকারগুলি
কেমন নিচ থেকে উঁচু হয়ে নেমে গেছে
নিচে
কেমন সব রাস্তা পড়ে আছে
কিছু ভেসে গেছে ম্লান হয়ে দূরে

তোমার না-থাকাতে ফুরায়ে যাচ্ছি না আমি
তুমি মরে যাওয়াতে মরেও যাচ্ছি না
সত্য—এই সবই ডাহা সত্য
আমি মোটে মরে যাওয়াটুকু বুঝছি
বেঁচে থেকে কেবল বেঁচেই যাবার শোকে
তোমার মরে যাওয়া গায়ে নিয়ে ঢাকা শহরের স্পিডব্রেকার দেখছি।