
প্রথম প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০০২
• ভূমিকা: আবদুল মান্নান সৈয়দ
• চিঠি অনুবাদ: মশিউল আলম
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহকে লেখা কবি জীবনানন্দ দাশের (১৮৯৯-১৯৫৪) চিঠি তিনটির খসড়া পাওয়া গেছে জীবনানন্দ দাশের কাগজপত্রের মধ্যে। চিঠিগুলো উদ্ধার করেছেন জীবনানন্দ-গবেষক ভূমেন্দ্র গুহ। ভূমেন্দ্র গুহ জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবির (১৯০৬-৬৯)-এর ইন্ডিয়া (১৯৪৫-৪৬) পত্রিকাটির সঙ্গে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিলেন। ওয়ালীউল্লাহ-সম্পাদিত কনটেমপোরারি পত্রিকার একটি সংখ্যা দেখেছেন ভূমেন্দ্র গুহ, তাতে জীবনানন্দ লিখেছিলেন। ভূমেন্দ্র গুহের রচনা থেকে প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় অংশ:
‘কনটেমপোরারি পত্রিকাটি ছিল ত্রৈমাসিক এবং ইংরেজি ভাষা ছিল তার মাধ্যম। সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, প্রকাশক ছিলেন কমরেড পাবলিশার্স, ১৫/৩ আর্মেনিয়ান স্ট্রিট, কলকাতা এবং ছাপা হতো পূর্ব্বাশা লিমিটেড পি ১৩ গণেশচন্দ্র এভিনিউ, কলকাতা ঠিকানার প্রেসে। দাম ছিল তিন টাকা প্রতি সংখ্যা। আমরা এই পত্রিকার একটি সংখ্যা দেখতে পেয়েছি, কোন বর্ষের কোন সংখ্যা বলা যাবে না। কেননা, সে রকম খবর নেই। সংখ্যাটির মলাটে চারবার সঞ্জয় ভট্টাচার্যের নাম লিখিত আছে এবং একটি হিসাব আছে। যাতে দেখা যায়—এই সংখ্যা ছাপাতে মোট খরচ পড়েছিল, লেখকদের সম্মান–দক্ষিণা ব্যতিরেকে মোট ৬৯০ টাকার মতো। যদিও মনে হয়, হিসাবে সামান্য গোলমাল আছে। এই বাঁধানো সংখ্যাটিতে লেখকসূচি এ রকম—কাজী আবদুল ওদুদ, জীবনানন্দ দাশ, ড. অ্যালেক্স অ্যারনসন, এ এম সলিমুল্লাহ, বুদ্ধদেব বসু, এ এস পুশকিন, এম ওয়াই লেরমনটভ, এফ আই যুচেভ, অন্নদাশঙ্কর রায়, মরটন গুরেউইচ (২০টি কবিতার একটি গুচ্ছ), ড. অমিয় চক্রবর্তী, ইন্দিরা সরকার, জেমস এ শেফার্ড, মুলকরাজ আনন্দ, এম এস ইসলাম, ওয়াহিদা আজিজ ও কমলেশ ব্যানার্জি। এই লেখকসূচি থেকেই ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যিক পরিমণ্ডলটির চেহারা ধারণা করে নেওয়া যাবে; সেটি যে উদার উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক এবং “বড়” সাহিত্যের কাছঘেঁষা ছিল, তা স্বতঃব্যাখ্যাত হবে; এবং লেখকদের ক্রমবিন্যাসে প্রথম থেকে আবদুল ওদুদের পরেই জীবনানন্দ—এ তথ্যও নজর এড়াবে না। অর্থাৎ বক্তব্য এই যে জীবনানন্দ-বিষয়ে ওয়ালীউল্লাহ, অন্তত সেই সময়ে, অত্যন্তই শ্রদ্ধা ও গুণমুগ্ধতা পোষণ করতেন; চিঠিতে দেখা যাবে জীবনানন্দের মনোভাবও ওয়ালীউল্লাহ সম্পর্কে অনুরূপ ছিল, বলা যায়।
‘কনটেমপোরারির এই সংখ্যার জন্য ওয়ালীউল্লাহ জীবনানন্দের যে প্রবন্ধ যাচ্ঞা করেছিলেন, চিঠিতে তারই সুবাদে তাঁদের যোগাযোগ ঘটে পত্রবিনিময়ের সূত্রে। যে প্রবন্ধটি জীবনানন্দ পাঠিয়েছিলেন এবং যার জন্য সম্মান–দক্ষিণা পেয়েছিলেন ৫০ টাকা, তার নাম “Literature and its Contributives”, ছাপা হয়েছিল “Literature and Contributives”।
‘ক্রমে পারস্পরিক শ্রদ্ধার মনোভাব এতটাই শুদ্ধ হয়ে উঠতে থাকে যে ওয়ালীউল্লাহ তাঁকে হুমায়ুন কবিরের “ইন্ডিয়া”য় লিখতে অনুরোধ করছেন এবং জীবনানন্দ তাঁকে তাঁর অনেক বছর ধরে লালিত “ইচ্ছা”র কথাটা জানাচ্ছেন। ওয়ালীউল্লাহর লেখালেখির সঙ্গে জীবনানন্দের আগে থেকে পরিচিতি ও সম্মানবোধ থাকারই কথা। কেননা, তিনি নিজেও তো “পূর্বাশা”-“চতুরঙ্গ” বৃত্তের অন্তর্গত ছিলেন, যেমন ছিলেন ওয়ালীউল্লাহ। এই চিঠিপত্র চালাচালির সময়টায় ভারতবর্ষে রাজনৈতিকভাবে একটা যুগ পরিবর্তনের আভাস ক্রমে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, ভৌগোলিক মানচিত্রও আর অবিচল থাকতে পারবে কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ ঘনীভূত হচ্ছিল যেন, জীবনানন্দও বরিশালের সীমিত পটভূমি থেকে উত্তীর্ণ হতে চাইছিলেন কলকাতার বড় সজীব কর্মমুখর প্রেক্ষাপটে। এই চিঠিগুলো জানাচ্ছে যে একজন বড় লেখক আর একজন ভবিষ্যতের বড় লেখককে চিনে নিচ্ছেন তখন, এবং তাঁকে তাঁর নিজস্ব “ইচ্ছা” বিধানে খুবই আশ্রয় করতে চাইছেন।’
নতুন সংবাদ এই যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সম্পাদিত কনটেমপোরারি পত্রিকায় প্রকাশিত জীবনানন্দ দাশের ‘লিটারেচার অ্যান্ড কনট্রিবিউটিভস’ প্রবন্ধটির পাণ্ডুলিপির পাঠ সম্প্রতি জীবনানন্দের কাগজপত্র থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে। চল্লিশের দশকের বিলোড়ন-সৃষ্টিকারী সময়টাই জীবনানন্দকে অনেকখানি পরিবর্তিত করে দিয়েছিল—ব্যক্তিবলয় থেকে জীবনানন্দ চলে এসেছিলেন সমাজ-রাজনৈতিক প্রসারণে। সাতটি তারার তিমির-এ এই কালেরই স্বাক্ষর দেখা যাবে। জীবনানন্দের সমসাময়িক প্রধান দুই কবি, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে–কেও এই সময় রূপান্তরিত করেছিল; বদলে দিয়েছিল কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। জীবনানন্দের মতো নিঃসময় কবিকে এই দশক করে তুলেছিল সমকালচেতন। রাজনীতি-অর্থনীতি সাহিত্যে কতখানি সম্পৃক্ত হবে, হওয়া উচিত—এই ভাবনা-বেদনাই ছিল ওই প্রবন্ধের কেন্দ্রীয় বিষয়। যে জীবনানন্দকে একদিন অভিহিত করা হয়েছিল ‘পলাতক’ বলে, তিনিই লেখক-শিল্পী সম্পর্কে বলছেন, ‘এই প্রবন্ধে “হি ক্যাননট সিক রিলিফ ইন এসকেপ দেয়ার ইজ নো এসকেপ।” জীবনানন্দ তাঁর পুরোনো পৃথিবী ছেড়ে নতুন পৃথিবীতে প্রবেশ করেছিলেন—এই প্রবন্ধ তার স্মারক।’
প্রিয় মহোদয়,
রেজিস্টার্ড খামে করে আমার রচনা ‘Lit etc.’ আজ আপনাকে পাঠাচ্ছি। ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আপনার কাছে তা পৌঁছাবে আশা করি।
লেখাটা খুবই তাড়াহুড়া করে সেরেছি, মার্জনার অবকাশ পাইনি। পড়ার সময় আপনি অনুগ্রহ করে দেখে নেবেন। পরামর্শও পাঠাবেন।
প্রিয় মহোদয়,
আজ রেজিস্ট্রি খামে আপনাকে আমার ‘Literature & its contributives’ শিরোনামের লেখাটি পাঠালাম। ‘Literature and its contributives’—এভাবে লিখলেই বোধ করি ভালো হয়। ‘contributives’ শব্দটি সম্ভবত আমারই উদ্ভাবন, এর অর্থ সেই সব জিনিস, যা সাহিত্যকে সাহিত্য করে তোলায় অবদান রাখে। তবে প্রবন্ধটির শিরোনাম যদি একটু দুর্বোধ্য মনে হয়, তাহলে আপনি অনুগ্রহ করে একটি জুৎসই শিরোনাম দিয়ে পরিষ্কার করে নেবেন।
ধন্যবাদ।
ভবদীয়।
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
মেয়েটি গায় গান
প্রিয় মহোদয়,
আপনার চিঠি ও আমার ‘Litt. contributives’ লেখাটির সম্মানী হিসেবে ৫০ (পঞ্চাশ) রুপির চেকের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমার আশঙ্কা হচ্ছে যে লেখাটি সুলিখিত হয়নি। সময়স্বল্পতাই যে এর কারণ, তা নয়। তাড়াহুড়া করে লিখতে গেলে আমার ভীষণ জড়তা এসে ভর করে। আশা করি, কিছু মনে না করে লেখাটি পড়ার সময় অনুগ্রহ করে এ কথাটি মনে রাখবেন। ভবিষ্যতে আমি আপনাকে আরও ভালো লেখা—সব সময় সাহিত্য বিষয়ে নয় পাঠাব।
আমি খুব খুশি হব—আপনি যদি এমন কিছু পত্রিকা, সাময়িকপত্র ও সংবাদপত্রের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ঘটিয়ে দেন, যেখানে সমসাময়িক লেখালেখি সম্বন্ধে সিরিয়াস প্রবন্ধ ছাপা হয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিচিত্র বিষয়ও আমার নিয়মিত প্রয়োজন হবে।
এ সবের জন্য আমাকে কলকাতায় গিয়ে বাস করার প্রয়োজন হলে আমি আনন্দের সঙ্গে সেই পরিবর্তনকে স্বাগত জানাব।
আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করি।
শ্রদ্ধা ও শুভকামনা রইল।
ভবদীয়।
[অনুগ্রহ করে আমার নাম লিখবেন Jibanananda (Jibananda নয়)। আমি আমার নামের বানান এভাবেই লিখি।]
প্রিয় ওয়ালীউল্লাহ সাহেব,
...তারিখে লেখা আপনার চিঠি পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। অসুস্থতার জন্য চিঠির উত্তর দিতে এত দেরি হয়ে গেল বলে দুঃখিত।
শুনেছি, স্টেটসম্যান ভারতীয়দের লেখা তেমন ছাপে না। অধ্যাপক কবিরের সাময়িকপত্র—শুরু থেকেই যেটির সঙ্গে আপনি জড়িত হয়ে আছেন, সেই ইন্ডিয়ায় আমাকে নিয়মিত লেখার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনার প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতার্থ। আমি ইন্ডিয়ার কোনো সাম্প্রতিক কপি দেখিনি। খুব শিগগির কলম হাতে নিতে পারি। আশা করছি এ কাগজের জন্য লিখব, অবশ্য খুব নিয়মিত নয়। সে ক্ষেত্রে আমার পাণ্ডুলিপি আপনার কাছে পাঠিয়ে দেব। এমন নয় যে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেবার জন্য আমার অনেক লেখা তৈরি হয়ে পড়ে আছে। আসলে একটিও নেই। তবে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হলে আমার মনে হয় (আরও) ঘন ঘন লেখার উদ্দীপনা পাব।
ড. চক্রবর্তীর মতৈক্যের কথা আমার স্মরণে থাকবে, তাঁকে হয়তো লিখব। সাংবাদিকতার এ দিকটি নিয়ে আপনার সমস্ত সদয় ও আন্তরিক পরামর্শ গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। এ বিষয়টিতে আমার সামান্য ঝোঁক আছে।
সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনুসন্ধান করা যেতে পারে, এমন সবকিছু সম্বন্ধে আপনার সদয় ও আন্তরিক পরামর্শ আমি গভীরভাবে গ্রহণ করি।
এই মফস্বল শহর আর আমার বর্তমান চাকরি নিয়ে আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। কলকাতার বিশাল পরিবেশে—সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা আনন্দের জন্য এবং একই সঙ্গে অর্থের জন্যও—নিঃসন্দেহে আমার ভালো লাগবে। অচিরে আমাকে একটি ভালো সাময়িকপত্র বা সংবাদপত্রের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করিয়ে দেওয়ার ভার আপনাকে নিশ্চিন্তে দিচ্ছি, যেখানে যোগ দিলে আমার শ্রমের ভালো দাম দেওয়া হবে।
বাংলার না বাইরের ভালো পত্রপত্রিকায় লেখা দেওয়া বা কাজ করার প্রস্তাব করা ভালো হবে কি না, এ ব্যাপারে এখনো স্থির করতে পারিনি। এ বিষয়ে কী করব তা আপনাকে জানাব।
ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে অল্প কয়েক দিনের জন্য কলকাতায় যেতে পারি। তখন আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে অত্যন্ত খুশি হব।
কুশল কামনা করি।
শ্রদ্ধা ও শুভকামনা।
[আমি দুঃখিত যে আপনার নামের বানান ভুল লিখেছি, একই ভুল আমিও করলাম। আপনার উষ্ণ বন্ধুত্বপূর্ণ আশ্বাস পেয়ে খুব খুশি হয়েছি যে কোনো সুযোগ হাতছাড়া করবেন না...আমার কাছে আপনার মূল্য আরও বেড়ে গেছে।
কলকাতার বিশাল ও রুচিশীল পরিবেশে একজন লেখক (বিশিষ্টতা কিছু আছে?) হিসেবে আমি অনেক অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করব। প্রতিশ্রুতি ফলপ্রসূ হবে বলে আপনি আন্তরিকভাবে সেটা উল্লেখ করায় আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি।]
প্রিয় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ সাহেব,
...তারিখে লেখা আপনার চিঠি পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছি। অসুস্থতার জন্য চিঠির উত্তর দিতে এত দেরি হয়ে গেল বলে দুঃখিত।
আমি শুনেছি, স্টেটসম্যান ভারতীয়দের লেখা নিতান্তই মাঝেমধ্যে ছাপে। অধ্যাপক কবিরের সাময়িকপত্র, যেটির সঙ্গে আপনি শুরু থেকেই জড়িত আছেন, সেই ইন্ডিয়ায় আমাকে নিয়মিত লেখার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আপনার প্রতি আমি অত্যন্ত কৃতার্থ। আমি ইন্ডিয়ার কোনো সাম্প্রতিক কপি দেখিনি। যদি খুব শীঘ্র কলম হাতে নিতে পারি, আশা করছি এ কাগজের জন্য লিখব, অবশ্য খুব নিয়মিত নয়। সে ক্ষেত্রে আমার পাণ্ডুলিপি আপনার কাছে পাঠিয়ে দেব। ড. চক্রবর্তীর মতৈক্যের কথা আমার স্মরণে থাকবে, তাঁকে হয়তো লিখব। এমন নয় যে তাড়াতাড়ি ও বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দিতে পারি, এমন অনেক লেখা তৈরি হয়ে আমার কাছে পড়ে আছে। আসলে একটিও নেই। তবে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ হলে মনে হয় আমি (আরও) ঘন ঘন লেখার উদ্দীপনা পাব।
লেখালেখির দ্বারা লাভবান হতে ইচ্ছুক যে কোনো ব্যক্তির বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে আপনার সমস্ত সদয় ও আন্তরিক পরামর্শ আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করি। কলকাতার বিশাল ও রুচিশীল পরিবেশে নিঃসন্দেহে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করব। আপনি যে তা ঐকান্তিকভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং প্রতিশ্রুতি ফলপ্রসূ হবে বলে জানিয়েছেন, তাতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছি। বাংলার না বাইরের ভালো পত্রপত্রিকায় লেখা দেওয়া বা কাজ করার প্রস্তাব করা ভালো হবে কি না, এ ব্যাপারে এখনো স্থির করতে পারিনি।
আমি শুধু কলকাতার জন্যই বরিশাল ত্যাগ করতে প্রস্তুত। ভারতে যেকোনো কর্মকাণ্ডের জন্য কলকাতার প্রতি আমার অনুরাগ অত্যন্ত প্রবল। কলকাতা দুর্নিবার। কলকাতা কি দুর্নিবার নয়?
লেখা যেকোনো জায়গায় পাঠানো যায়। এ বিষয়ে কী করব তা আপনাকে জানাব।
আমি দুঃখিত যে আপনার নামের বানান ভুল লিখেছি। ভুলের স্বভাব অনুযায়ী ভুলটা পারস্পরিক হয়ে গেল, মনে হয় আর ভুল হবে না। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে কয়েক দিন কলকাতায় কাটাতে চাই, তখন আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে অত্যন্ত খুশি হব। কলকাতায় পৌছে কোথায় থাকব সে ঠিকানা আপনাকে জানাব।
কুশল কামনা করি।
শ্রদ্ধা ও শুভকামনা,
ভবদীয়।