বডি সেলিমকে আমরা চিনি। খোঁজ নিলে দেখবেন, এ ঘটনার পর খবরের কাগজ পড়ে পড়ে অনেকেই চিনে গেছে। আপনারা তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে চিনতেন, আবার চিনবেন। আমি চিনি ব্যক্তিগতভাবে, সোহরাওয়ার্দীতে সে আসত, প্রায় নিয়মিতই আসত জিনিস খেতে। আমরা বলতাম, সেলিম ভাই একলগে কয়টা বুকডন দিতে পারেন? সেলিম ভাই হাসত, নিষ্পাপ হাসি। তারপর বলত, ‘বেছি পারি না, ছক্তি নাইক্যা!’ জিনিস খাওয়ার আগে যেমন চুপচাপ, খাওয়ার পর ভয়াবহ বাচাল, সোজা বাংলায় রসিয়ে চাপা মারতে সে জুড়িহীন। সত্য যে সে দেশের বিশাল বিশাল শিল্পপতি কি ব্যাংক চেয়ারম্যানের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতে করতে তাদের প্রভূত আকাম-কুকামে সহযোগী হতে হতে, মদ-মাদক-মাগি—এসবেরও খণ্ডকালীন সরবরাহকারী হতে হতে একটা বিশেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল! আমাদের সাথে এসব গল্প উগরে কি উজাড় করে সে রিলিফ পেত, গাঁজার সঙ্গে এই উপরিটুকুর জন্যই সম্ভবত সে আসত মহল্লা ছেড়ে। মহল্লা তার কাছে ঊনজায়গা নয়, এটা বোঝাতে সে সব সময় সচেষ্ট থাকলেও এখানে কেন আসে, সেটা আমরা বুঝতে পারতাম। একসঙ্গে বসে জিনিস টানার পর বস্তুত আমাদের খুব একটা যোগাযোগ থাকত না, আমরা কেউ এই সম্পর্ক পরিবার পর্যন্ত নিতে চাইতাম না। গাঁজা মাথায় ব্যক্তিগত কিছু শেয়ার করলেও কেউ সেসব মাথায় গেঁথেও রাখি না। হ্যাঁ, জিনিস পাওয়া না–পাওয়ার খবরাখবরের কারণে যোগাযোগ হিসেবে ফোন নম্বরটা থাকত বটে। জিনিস মানে তো বোঝেন, তামাক তামাক, হা হা হা!
এত বড় একটা ঘটনা, আসলে হয়তো ছোটই, ঘটার পর বডি সেলিম আমাকেই ফোন দিয়েছিল। বলল, ‘ভাই, আপনের নাম্বারটা মুখস্ত। আমার বউরে খবর দেন। বলেন, আমারে বাইর করার ব্যবস্থা করতে। তারে আগে কন বাসায় যাইতে। সাবা ঘরে একলা।’ মোবাইল কোথায় জানতে চাওয়ার আগেই কেটে গেলে কলব্যাক করে জেনে নিয়েছি যে থানায় সে। অপরাধ, মাদকসহ ধরা পড়েছে।
দেশের বিশাল বিশাল শিল্পপতি কি ব্যাংক চেয়ারম্যানের বডিগার্ড হিসেবে কাজ করতে করতে তাদের প্রভূত আকাম-কুকামে সহযোগী হতে হতে, মদ-মাদক-মাগি—এসবেরও খণ্ডকালীন সরবরাহকারী হতে হতে একটা বিশেষ পর্যায়ে উপনীত হয়েছিল! আমাদের সাথে এসব গল্প উগরে কি উজাড় করে সে রিলিফ পেত।
দুপুরে ওর বউ গেছে বোনের বাড়িতে বড় দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে। আড়াই বছরের সাবার দাঁতের ডাক্তার ছিল, তাকে রেখে গিয়েছিল সেলিমের কাছে, রাতে তো চলেই আসবে! বিকেলে ডাক্তার দেখিয়ে আনার পর সাবাকে ঘুম পাড়ায় টোফেন খাইয়ে, ডাক্তারের কথামতো। এই সব কথা নিরুই বলে আমাদের। আমার ধারণা, বেকার কতক্ষণ টিভি দেখা যায়; যখন মনে হলো বাচ্চা পাহারা দিতে দিতে, তখনই নেশাটা চাগিয়ে ওঠে, এমন একটা শীতের সন্ধ্যা চলে যাচ্ছে নেশা ছাড়া! সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলে তার হয়তো মনে পড়ে, একটা স্টিকও নাই, অহ কীভাবে চলবে আজকে! নিরু আসতে আসতে তো রাত দশটাও বেজে যেতে পারে, তখন কোথায় কী! হ্যাঁ, নিরু তার বউ, বদমেজাজি, যৎকিঞ্চিৎ বহুগামী আর ভয়াবহ রূপবতী। ভেগে যেতে যেতে রয়ে গেছে একই ছাদের নিচে। তিন বাচ্চা হয়ে যাওয়ার পরও সে প্রায় চলেই গিয়েছিল। সেদিন দুপুরে, বছরখানেক আগে, ঠাঠা রোদে সোহরাওয়ার্দী থেকে ফোন, ‘কাজল ভাই, একটু আইবেন?’ ‘এই দুপুরে!’ ‘একটু কাম আছিল!’
গিয়ে দেখি, চোখমুখ লাল, হাতে একটা খাম। বাড়িয়ে দিয়ে বলে, ‘পইড়া হুনান।’
কাগজ খুলে তো আমার আক্কেলগুড়ুম। উকিল নোটিশ, বিবাহবিচ্ছেদের। পড়ে শোনাই, ভাই তো পড়তে জানে না! আমি বলি, ভাই, আপনের বউ তো উকিল নোটিশ পাঠাইছে, আপনের সাথে আর থাকবে না! বাচ্চাদেরও সে নিবে না, আপনারে দিয়া দিবে! কী হইছে! ভাবি এখন কই?
সেলিম ভাই কেঁদে ফেলে, শিশুর মতো কান্না, ঝরঝর করে গাল বেয়ে পানি নামে। মন খারাপ হয়ে যায়। বলি, খুলে বলেন, আমরা আছি না, কোনো চিন্তা নাই!
মুখ খুলে বলি না, আপনি তো হালায় ধরা খাইয়া বিয়া করছেন, খাট ভাঙা কেস! এই সব তো হওয়ারই কথা, হইতেছে! কিছু বলি না, চান্স পাইলেই চান্স নিতে নাই, এই শিক্ষা আছে না!
বিকেল পর্যন্ত নিজের কাজকাম ফেলে বসে থাকি, হোন্ডাওয়ালা তপু আর আতিককে আসতে বলি, রেহান আর সজীবকেও। বলি, একটু ছোট্ট কাজ করতে হবে সন্ধ্যার একটু পর। রাইতে পেটচুক্তি কাচ্চি খাওয়ামু।
বডি সেলিম তখনো নত মুখে বসে আছে। বলি, ভাই, ফোন দেন বউরে, লোকেশন ধরেন। ফোন ধরে না নিরু। ভাই বলে, ‘মনে হয় সূত্রাপুর রাজিবের বাড়িতে, রাজিবেই খাইয়া দিল আমার সংসারটা!’
—বাড়ি চিনেন?
—চিনি। হালায় বন্ধু আছিল তো!
তিন হোন্ডায় ছয়জন পৌঁছাই, খেলনা পিস্তল আর গোটা কয়েক ঘুষি, ম্যাদামারা রাজিবকে শায়েস্তা করতে আর কিছু করা লাগে নাই। পরদিন নিরু তিন বাচ্চা নিয়া হাজির, আমরা মাঠে হুমায়ূনীয় ডায়ালগ দেই, মাইরে ভাইটামিন আছে সেলিম ভাই, বুকডন দেন এক শটা! সেলিম ভাই বুকডন দেয়, অট্টহাসি দেয়, ছক্তি নাইক্যা!
তো নিরু আমাকে পছন্দ করত না তার পর থেকে। আমি যত বলি, সেলিম ভাই, রাইতে বাড়ির বাইরে থাইকেন না, তিনটা বাচ্চা ভাবি সামলায়, কষ্ট হয় কিন্তু! আমরা বাসায় ফিরতাম নয়টা নাগাদ। সেলিম ভাই আরও কারও সঙ্গে চাপা মারার জন্য বসে থাকত। আতিক মুহাম্মদ ভাইয়ের টয়লেটে কত প্রকার পারফিউম থাকে, তার বর্ণনা, ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বাসার বাথরুমের ফিটিংসের বর্ণনা কি জামিল গ্রুপের ... কথা বলার প্রচুর সময় ছিল তার। কথা বলাই তার বিশেষ বিনোদন হয়তো, আমাদের বাস্তবিকই সময় কম। তবে এটা প্রতিদিন নয়, সপ্তাহে দুই–তিন দিন, ব্যস্ততা তারও ছিল কাজের।
হোঁচট সে খেয়েছিল কিন্তু পড়েনি, পড়েছে জনতার গণপিটুনিতে। গণপিটুনিতে মরে যায় এমন নাজুক তার শরীর নয়, পুলিশই উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানায় মাদক কারবারি হিসেবে। থানায় গিয়ে শুধু বলে, ‘আমার মেয়ে বাসায় একলা, স্যার। আমারে ছাইড়া দেন, আমি একটু পর আসতেছি।’
মাসে এক–দুই দিন দামি বোতল আনত, মানে তার মালিক গিফট দিত। দিত কেন? দেবেই তো। এই সব চালান নানা জায়গা থেকে তো সে–ই সংগ্রহ করত ঝুঁকি নিয়ে। ধরা খেলে হাজত থেকে তারাই মুহূর্তে ছাড়িয়ে আনত, এমনই শক্তিধর পার্টি। মালসহ ধরা খেলে সে নাকি হাসত আর বলত, ‘ফোনটা ধরেন, স্যার। কথা বলেন!’ দু–একবার হাজতবাস হলেও তা এক কি দুই রাতের মামলা, হাজতের সময় জামাই আদর। সেন্ট্রিরা ভাবত, হাজতেও কী কপাল! মাসল সে শো করত না, আপনি ভেসে উঠত থানা থেকে বেরুবার কালে, মিস্টার বাংলাদেশ না! কেউ কেউ তো গাড়িও পাঠাত, থানার পুলিশ সমীহের চোখে তাকিয়ে দেখত, দারুণ জীবন বটে!
শীতের সন্ধ্যা তো কাটে না, দুই–তিন ঘণ্টা পার করেও তাকিয়ে দেখে সাড়ে সাতটা। তিন বছরের সাবা ঘুমায়। পায়চারি করতে করতে সেলিম সাহস করে বেরিয়ে পড়ে। পায়ে হাঁটলে পনেরো মিনিট, রিকশাই নেয় সে। যেতে আসতে দশ মিনিট, কিনতে এক মিনিট বা তারও কম। এগারো মিনিটে ফিরে আসবে, মেয়ে কিছুই টের পাবে না। পৌঁছাতে আসলে পাঁচ মিনিটের একটু বেশি সময়ই লেগেছে কিন্তু পোঁটলা পেতে কয়েক সেকেন্ড। রিকশাটা সে ছেড়ে দিয়েছিল, আরেকটা খোঁজার আগে পৃথিবীটা তার নিজের মনে হলে একটু ঘাড় ঝাড়া দিয়ে আকাশপানে তাকায়। কুয়াশায় ঢাকা বলে গ্রহ–নক্ষত্র কিছুই চোখে পড়ে না। গায়ের সঙ্গে ঠেলা দিয়ে দিয়ে মানুষ চলে যাচ্ছে, তাদেরও ভালোই লাগল। একটু যেন শীত করতে লাগল, বুঝল, উত্তেজনার বশে শীতের কাপড় নেয়নি। লাল মাফলারটাকেই শীতবস্ত্র ভেবে গলায় জড়িয়ে নিয়েছিল বের হওয়ার মুহূর্তে। ভাবতে চেষ্টা করল, ঘরে সে শীতের কাপড় পরেছিল কি? কিছুই মনে পড়ল না। রিকশা ডেকে উঠে পড়ল, বড় রাস্তায় হালকা জ্যাম, মেয়ের কথা মনে পড়ল, এই তো দুই মিনিট!
বড় রাস্তা শেষ না হতেই কে এসে ঝপ করে রিকশার হ্যান্ডেল ধরলে একটা বড় ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে যায় রিকশা। দুই–দুইজন পুলিশ দুই পাশ থেকে ঘিরে ধরেছে।
—নামেন!
—নামেন মাইনে?
সে নামে। বলতে চায়, আমি বডি সেলিম, সবাই চিনে। এত বড় সাহস তোমাদের! কিছু বলার আগেই বলে, জিনিস বাইর করো!
এতক্ষণে খেয়াল হয়, সে মোবাইল নিয়ে বের হয় নাই।
কিছু তর্কাতর্কি; তারপর সে নিজেকে আবিষ্কার করে পাঁচজন পুলিশে ঘিরে রাখা ব্যূহের ভেতর, তাকে নিয়ে যাচ্ছে থানায়, থানা পাঁচ মিনিটের হাঁটা পথ। তর্ক করা বাদ দিয়ে দিয়েছে, মানিব্যাগে পাঁচ শ টাকার নোটটা দিয়ে দিলেই চুকে যায়। দেয় না। দেয় না মানে দেওয়ার কথা মনেই পড়ে না। মাথায় মেয়ে, মেয়ের ঘুম, ঘুম ভেঙে সে বাবাকে খুঁজছে, দরজায় টেনে দিয়ে আসা নিচের ছিটকিনি খুলে বাইরে আসার চেষ্টা করছে ...। বাইরে অন্ধকার গলি, মা–বাবা, ভাই-বোন কেউ নাই, সাবা, সাবা মা আমার...! একবার শুধু বলে, ‘ভাই, আমার মাইয়া একলা ঘরে...’ তারপর ব্যূহ ভেদ করে প্রাণপণ একটা দৌড় দেয় সমস্ত শক্তি দিয়ে। হোঁচট সে খেয়েছিল কিন্তু পড়েনি, পড়েছে জনতার গণপিটুনিতে। গণপিটুনিতে মরে যায় এমন নাজুক তার শরীর নয়, পুলিশই উদ্ধার করে নিয়ে যায় থানায় মাদক কারবারি হিসেবে। থানায় গিয়ে শুধু বলে, ‘আমার মেয়ে বাসায় একলা, স্যার। আমারে ছাইড়া দেন, আমি একটু পর আসতেছি, খোদার কসম। আমি বডি সেলিম, পালামু না!’ ‘এইটা কি আপনের মজা নেওয়ার জায়গা, বডি রফিক?’ তারপর বলে, ‘ফোনটা দেন, তারপর যা খুশি করেন।’ ফোনটা তখনই পাই।
রাত বারোটা নাগাদ বডি সেলিমের বাড়ি খুঁজে বের করি আমি আর তপু। নিরুকে সবটাই খুলে বলি। থানায় গিয়ে দেখা না পেয়ে সগৃহে ফিরতে ফিরতে ভাবি, পরদিন নিশ্চয়ই নিরু এত দিনের বিশাল বিশাল বসদের খবর দিয়ে সামান্য একটা গাঁজার পোঁটলার কেস থেকে বডি সেলিমকে বাইর করে আনবে!
থানায় তাকে আরও একবার চিপা মাইর দেওয়া হয় ‘বডি সেলিম, বডি সেলিম’ ব্যঙ্গ করে। জ্ঞান ফিরলে সে আর ফোন নম্বর মনে করতে পারে না, কাজলেরটাও না। মনে করতে পারে কিছু শিল্পপতি ও ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম, যেগুলো থানার ভেতর অট্টহাসির খোরাক হয়, ফের মাইর দিতে ইন্ধন জোগায়।
সারা রাত হাজতে তীব্র শীত আর শারীরিক ব্যথা মোকাবিলা করতে মাফলারটার কথা মনে পড়তে পারত, মাফলারটা থাকলে কিছু স্মৃতি তার মনে পড়তে পারত, মেয়ের কথা অন্তত! মেয়েটার জন্য সে আকুল হয়ে বলেছিল শুয়োরের পালদের, ‘আমার মাইয়া, আমার মাইয়া, একলা ঘরে!’ পুলিশকে ধাক্কা দিয়ে সে যে দৌড়টা দিয়েছিল বাড়ি অভিমুখে, মোড়ে ঝালমুড়িওয়ালাকে ঘিরে তিনজন পকেটমার, দুজন জুয়াড়ি আর একজন মাতাল ছিল, তারা তাকে দৌড়াতে পথ করে দিয়েছিল। বাদবাকি সুস্থ বলে যাদের, তারা জুটেছিল গরুমাইর দেওয়ার জন্য। গরুমাইরের পরেও যখন সে ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়ায়, তখন পুলিশ ধরে এনে হাজতে দেয় চিপা মাইর। মাঝরাতে গারদে জ্বরে–ক্ষুধায়–শীতে সে কিছু খাবারের কথা মনে করতে চেষ্টা করে। কাজলের নম্বরটা ভুলে শুধু কাজল, কাজল, কাজল ০১, ০১ করে! এই খবরটা কেমন করে পেলাম!
রাত বারোটা নাগাদ বডি সেলিমের বাড়ি খুঁজে বের করি আমি আর তপু। নিরুকে সবটাই খুলে বলি, ছেলেমেয়ে তিনজনসহ নিরু ঠিক আছে দেখে একটু স্বস্তি হয় বটে। থানায় গিয়ে দেখা না পেয়ে সগৃহে ফিরতে ফিরতে ভাবি, পরদিন নিশ্চয়ই নিরু এত দিনের বিশাল বিশাল বসদের খবর দিয়ে সামান্য একটা গাঁজার পোঁটলার কেস থেকে বডি সেলিমকে বাইর করে আনবে! সামান্য একটা গাঁজার পোঁটলা! আর নিরু তো সে রাতেই বলেছে, সকালে সে বসদের জানিয়ে ছুটিয়ে আনবে, এসব নতুন কিছু না, চিন্তা করেন না!
সেই গভীর রাতে, হু হু হাওয়ার হোন্ডায় আমরা নিশ্চিত—শিল্পপতি, ব্যাংকের এমডি, তিন বাচ্চার মা নিরু আছে না!
রাত পোহালে আস্ত একটা দিন গেল, কেউ বডি সেলিমের খোঁজ নিল না, আমরাও না! শীত আর জ্বরে সে সারা রাত কি পরদিন জ্ঞানহীন কাটালেও কারও তার কথা মনে পড়ল না, তারও না! সন্ধ্যা নাগাদ খবর আসে, শীতে কাতর কি ক্ষুধায় কাতর কি কন্যার নিরাপত্তায় কাতর বডি সেলিমের মৃত্যুর। সংবাদটা নিরুই দিয়েছিল যখন কেবল একটা কি দুটো টান দিয়েছি মাঠের শেষ সেই কোনাটায় বসে!