
বিশ শতকের দর্শনের ইতিহাসে ফরাসি দার্শনিক জিল দল্যুজ (১৮ জানুয়ারি ১৯২৫—৪ নভেম্বর ১৯৯৫) এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী নাম। তিনি এমন এক দার্শনিক, যিনি শুধু নতুন কিছু ধারণা প্রস্তাব করেননি, বরং চিন্তা করার প্রচলিত পদ্ধতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। পাশ্চাত্য দর্শনের দীর্ঘ ইতিহাসে পরিচয়, সত্য, সত্তা, যুক্তি, চেতনা কিংবা মানুষের প্রকৃতি নিয়ে যে ধরনের আলোচনা প্রচলিত ছিল, দল্যুজ সেই আলোচনার কেন্দ্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন আনেন। তাঁর কাছে দর্শনের কাজ কোনো চূড়ান্ত সত্য আবিষ্কার করা নয়, বরং নতুন ধারণা সৃষ্টি করা। তিনি বিশ্বাস করতেন, দর্শন হলো ধারণা নির্মাণের শিল্প। আর এ কারণেই তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে সৃজনশীলতা, পরিবর্তন, বহুত্ব, পার্থক্য এবং ‘হয়ে ওঠা’র ধারণা।
দল্যুজের দর্শনকে বোঝার জন্য প্রথমেই আমাদের মানুষের সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাগুলোর দিকে তাকাতে হয়। আমরা সাধারণত মনে করি, মানুষ একটি স্থির সত্তা। মানুষের একটি নির্দিষ্ট পরিচয় আছে, একটি স্থায়ী আত্মা আছে, একটি নির্দিষ্ট প্রকৃতি আছে। কিন্তু দল্যুজ এই ধারণার বিরোধিতা করেন। তার মতে, মানুষ কোনো স্থির বা অপরিবর্তনীয় সত্তা নয়। মানুষ সব সময় পরিবর্তনশীল, গতিশীল ও নির্মাণাধীন। মানুষ কখনো সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে না, বরং সারা জীবন ধরে হয়ে উঠতে থাকে।
এ ধারণার শিকড় খুঁজে পাওয়া যায় দল্যুজের হিউম-পাঠে। এমপিরিসিজম অ্যান্ড সাবজেক্টিভিটি গ্রন্থে তিনি দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে ব্যক্তিসত্তা কোনো পূর্বনির্ধারিত বাস্তবতা নয়। মানুষ জন্মগতভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘আমি’ নিয়ে জন্মায় না। বরং অভিজ্ঞতা, অভ্যাস, সম্পর্ক, আবেগ, বিশ্বাস এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘আমি’ ক্রমাগত গঠিত হয়। ফলে ব্যক্তি কোনো সমাপ্ত সত্তা নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া।
দল্যুজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো চিন্তা সম্পর্কে তাঁর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। প্রচলিত দর্শনে চিন্তাকে মানুষের সহজাত ক্ষমতা হিসেবে দেখা হয়েছে। অর্থাৎ মানুষ স্বভাবতই চিন্তা করে এবং যুক্তির সাহায্যে সত্যে পৌঁছায়। কিন্তু দল্যুজের মতে, চিন্তা কোনো সহজাত বৈশিষ্ট্য নয়। চিন্তা একটি ঘটনা। মানুষ সব সময় চিন্তা করে না, বরং বিশেষ পরিস্থিতি, সংঘর্ষ, বিস্ময়, সংকট কিংবা অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা তাঁকে চিন্তা করতে বাধ্য করে। চিন্তা তখনই জন্ম নেয়, যখন মানুষ পরিচিত কাঠামোর বাইরে কোনো কিছুর মুখোমুখি হয়।
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ডিফারেন্স অ্যান্ড রিপিটিশন-এ তিনি দেখিয়েছেন, পৃথিবী মূলত পার্থক্যের সমষ্টি। আমরা প্রায়ই কোনো কিছুকে একই মনে করি, কিন্তু বাস্তবে কোনো পুনরাবৃত্তিই কখনো পুরোপুরি একই নয়। প্রতিটি পুনরাবৃত্তির মধ্যে নতুনত্ব থাকে। ফলে বাস্তবতা একটি চলমান সৃষ্টি-প্রক্রিয়া, যেখানে পার্থক্যই সবচেয়ে মৌলিক শক্তি। এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিসত্তা সম্পর্কেও প্রযোজ্য। দল্যুজের কাছে ‘আমি’ কোনো কেন্দ্রীয় বা স্থায়ী সত্তা নয়। বরং ‘আমি’ হলো অসংখ্য সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা এবং অভ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল প্রক্রিয়া।
এই অর্থে চিন্তা দল্যুজের কাছে সৃজনশীল একটি কর্ম। চিন্তা কেবল বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না, বরং নতুন বাস্তবতার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। একজন শিল্পী যেমন নতুন শিল্পকর্ম সৃষ্টি করেন, একজন বিজ্ঞানী যেমন নতুন তত্ত্ব নির্মাণ করেন, তেমনি চিন্তাও নতুন জগতের সম্ভাবনা উন্মোচন করে। চিন্তার এই সৃজনশীল শক্তিকেই দল্যুজ মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখেছেন। দল্যুজের দর্শনের আরেকটি মৌলিক ধারণা হলো ‘পার্থক্য’। পাশ্চাত্য দর্শনের দীর্ঘ ইতিহাসে পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো বস্তু বা ব্যক্তি কী—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হয়েছে। কিন্তু দল্যুজ মনে করেন, পরিচয়ের চেয়ে পার্থক্য বেশি মৌলিক। কারণ, কোনো কিছু কখনো স্থির নয়। প্রতিটি সত্তা ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন পার্থক্য সৃষ্টি করছে।
তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ডিফারেন্স অ্যান্ড রিপিটিশন-এ তিনি দেখিয়েছেন, পৃথিবী মূলত পার্থক্যের সমষ্টি। আমরা প্রায়ই কোনো কিছুকে একই মনে করি, কিন্তু বাস্তবে কোনো পুনরাবৃত্তিই কখনো পুরোপুরি একই নয়। প্রতিটি পুনরাবৃত্তির মধ্যে নতুনত্ব থাকে। ফলে বাস্তবতা একটি চলমান সৃষ্টি-প্রক্রিয়া, যেখানে পার্থক্যই সবচেয়ে মৌলিক শক্তি। এই দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিসত্তা সম্পর্কেও প্রযোজ্য। দল্যুজের কাছে ‘আমি’ কোনো কেন্দ্রীয় বা স্থায়ী সত্তা নয়। বরং ‘আমি’ হলো অসংখ্য সম্পর্ক, অভিজ্ঞতা, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা এবং অভ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল প্রক্রিয়া। এই ধারণাটি হিউমের সেই বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে আত্মাকে অভ্যাসের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হয়। দল্যুজ এই ধারণাকে আরও বিস্তৃত করে দেখান যে ব্যক্তিসত্তা সব সময় গঠনের মধ্যে থাকে, কখনো সম্পূর্ণ হয় না।
দল্যুজের দর্শনে আবেগের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক দর্শনের একটি বড় অংশ যুক্তিকে মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু দল্যুজ, হিউমের অনুসরণে, মনে করেন যে আবেগ মানুষের জীবন ও চিন্তার কেন্দ্রীয় শক্তি। মানুষ কেবল যুক্তির দ্বারা পরিচালিত হয় না, বরং তার ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, ভালোবাসা, ভয়, আনন্দ এবং বেদনা তাকে চালিত করে। হিউম বলেছিলেন, “যুক্তি আবেগের দাসমাত্র”, অর্থাৎ মানুষের যুক্তি শেষ পর্যন্ত তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার অধীনেই কাজ করে। দল্যুজ এই ধারণাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখিয়েছেন যে মানুষের সিদ্ধান্ত, নৈতিকতা এবং সামাজিক আচরণের পেছনে আবেগ একটি মৌলিক ভূমিকা পালন করে। আবেগ কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়, বরং এটি মানুষের সঙ্গে জগতের সম্পর্ক নির্মাণের একটি সক্রিয় শক্তি। মানুষ তার আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়েই জগতের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।
দল্যুজের সবচেয়ে বিখ্যাত ধারণাগুলোর একটি হলো ‘বিকামিং’ বা ‘হয়ে ওঠা’। তাঁর মতে, পৃথিবীর কোনো কিছুই স্থির নয়। সবকিছুই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা প্রায়ই নিজেদের একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে বন্দী করে ফেলি—আমি শিক্ষক, আমি কবি, আমি নাগরিক, আমি পুরুষ বা নারী। কিন্তু দল্যুজ মনে করেন, এই পরিচয়গুলো কখনো আমাদের সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না।
এই আকাঙ্ক্ষার ধারণাকে দল্যুজ আরও গভীরভাবে বিকশিত করেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোগী ফেলিক্স গাত্তারির সঙ্গে যৌথ রচনায়। বিশেষ করে অ্যান্টি-ইডিপাস গ্রন্থে তাঁরা দেখানোর চেষ্টা করেন যে আকাঙ্ক্ষা কোনো অভাবের ফল নয়, বরং একটি উৎপাদনশীল শক্তি। মানুষ যা চায়, তা কেবল কোনো ঘাটতি পূরণের জন্য নয়, বরং নতুন সম্পর্ক, নতুন বাস্তবতা এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য।
দল্যুজের চিন্তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্পর্কের ধারণা। প্রচলিত দর্শনে প্রায়ই মনে করা হয়েছে যে সম্পর্ক কোনো বস্তুর অন্তর্গত বৈশিষ্ট্য। কিন্তু দল্যুজ, হিউমের অনুসরণে, বলেন সম্পর্ক বাহ্যিক। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয় তার অভ্যন্তরীণ গুণ দ্বারা নির্ধারিত হয় না, বরং সে কোন কোন সম্পর্কের মধ্যে প্রবেশ করছে, তার ওপর নির্ভর করে। এই ধারণা আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে সাহায্য করে। মানুষ কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়। সে সব সময় পরিবার, ভাষা, রাষ্ট্র, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার বিভিন্ন কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে অবস্থান করে। ফলে ব্যক্তি ও সমাজকে আলাদা করে বোঝা যায় না। ব্যক্তি মূলত সম্পর্কের মধ্যেই গঠিত হয়।
দল্যুজের সবচেয়ে বিখ্যাত ধারণাগুলোর একটি হলো ‘বিকামিং’ বা ‘হয়ে ওঠা’। তাঁর মতে, পৃথিবীর কোনো কিছুই স্থির নয়। সবকিছুই পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। মানুষও এর ব্যতিক্রম নয়। আমরা প্রায়ই নিজেদের একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে বন্দী করে ফেলি—আমি শিক্ষক, আমি কবি, আমি নাগরিক, আমি পুরুষ বা নারী। কিন্তু দল্যুজ মনে করেন, এই পরিচয়গুলো কখনো আমাদের সম্পূর্ণভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। আমরা সব সময় আরও কিছু হয়ে উঠছি। ‘হয়ে ওঠা’ মানে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন নয়। বরং এটি একটি উন্মুক্ত প্রক্রিয়া, যার শেষ নেই। এই ধারণা ব্যক্তি, সমাজ ও রাজনীতিকে নতুনভাবে কল্পনা করার সুযোগ দেয়। কারণ, যদি মানুষ সব সময় হয়ে ওঠার মধ্যে থাকে, তাহলে তার জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা সব সময় খোলা থাকে।
দল্যুজের রাজনৈতিক দর্শনও এই চিন্তার সঙ্গে যুক্ত। তিনি এমন সব কাঠামোর সমালোচনা করেছেন, যা মানুষকে স্থির পরিচয়ের মধ্যে আবদ্ধ করতে চায়। রাষ্ট্র, আমলাতন্ত্র, মতাদর্শ কিংবা সামাজিক নিয়ম—সবকিছুই কখনো কখনো মানুষের সৃজনশীল সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে। দল্যুজ এই সীমাবদ্ধতার বিরুদ্ধে বহুত্ব, পার্থক্য এবং স্বাধীন সৃজনশীলতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এই অর্থে দল্যুজ আমাদের কেবল নতুন কিছু ধারণা দেননি, তিনি আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। তাঁর দর্শন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষ কখনো সম্পূর্ণ নয়, কখনো সমাপ্ত নয়। আমরা সবাই এক অনন্ত ‘হয়ে ওঠা’র যাত্রায় আছি—যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি সম্পর্ক এবং প্রতিটি চিন্তা আমাদের নতুনভাবে সৃষ্টি করে।
এ প্রসঙ্গে তাঁর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা হলো ‘রাইজোম’। আ থাউজ্যান্ড প্লাটো গ্রন্থে তিনি এবং গাত্তারি রাইজোমকে এমন এক মডেল হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা কোনো কেন্দ্র বা শ্রেণিবিন্যাসের ওপর নির্ভর করে না। গাছের মতো যেখানে একটি মূল থেকে সবকিছু বিস্তৃত হয়, রাইজোম সেখানে বহু দিক থেকে ছড়িয়ে পড়ে। দল্যুজের মতে, জ্ঞান, সংস্কৃতি, সমাজ এবং মানুষের পরিচয়ও অনেকটা এমনই—বহুকেন্দ্রিক, জটিল ও ক্রমবর্ধমান। এ কারণেই দল্যুজের দর্শন আজকের বিশ্বে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বায়ন, প্রযুক্তি, অভিবাসন, পরিচয়-রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক বহুত্বের যুগে স্থির পরিচয়ের ধারণা ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। দল্যুজ আমাদের বাস্তবতাকে কোনো একক কেন্দ্র থেকে বোঝার চেষ্টা না করে তার বহুমাত্রিকতা ও পরিবর্তনশীলতাকে স্বীকার করতে শেখান।
পরিশেষে বলা যায়, জিল দল্যুজের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে সৃজনশীলতা, পার্থক্য, সম্পর্ক এবং হয়ে ওঠার ধারণা। তিনি মানুষকে কোনো চিরন্তন সত্তা হিসেবে দেখেন না, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। তাঁর কাছে চিন্তা কোনো সহজাত ক্ষমতা নয়, বরং একটি সৃজনশীল ঘটনা। ব্যক্তি কোনো স্থির পরিচয় নয়, বরং সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা একটি পরিবর্তনশীল বাস্তবতা। আর জগৎও কোনো সমাপ্ত কাঠামো নয়, বরং অসংখ্য সম্ভাবনা, পার্থক্য এবং সৃষ্টির ক্ষেত্র।
এই অর্থে দল্যুজ আমাদের কেবল নতুন কিছু ধারণা দেননি, তিনি আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে শিখিয়েছেন। তাঁর দর্শন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে মানুষ কখনো সম্পূর্ণ নয়, কখনো সমাপ্ত নয়। আমরা সবাই এক অনন্ত ‘হয়ে ওঠা’র যাত্রায় আছি—যেখানে প্রতিটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি সম্পর্ক এবং প্রতিটি চিন্তা আমাদের নতুনভাবে সৃষ্টি করে।