
>বিদায় নিচ্ছে ২০১৯। বছরটিতে কেমন গেল বাংলাদেশের রাজনীতি? গত নির্বাচনটি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলেও এই নির্বাচনের প্রভাবটি পড়েছে এ বছর। প্রশ্নবিদ্ধ এই নির্বাচনে বিপুল ও অবিশ্বাস্য বিজয় নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিবেচিত বিএনপি রাজনৈতিকভাবে কার্যত নিষ্ক্রিয়। বিদায়ী বছরের রাজনীতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।
এ বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার একটিই বিষয় ছিল—বছর শুরুর দুই দিন আগেই, অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮-তে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের বিশাল বিজয় যেমন ছিল বিস্ময়কর, তেমনি প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মাত্র সাতটি আসনে বিজয় ছিল অবিশ্বাস্য। এ নির্বাচন নিয়ে সরকার, সরকারি দল ও তাদের জোট এবং নির্বাচন কমিশন যা-ই বলুক, তা অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। যত যুক্তি-ব্যাখ্যা দেওয়া হোক, তাকে সাফাই হিসেবেই গণ্য করেছে মানুষ। আর কিছুদিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের মূল কারিগর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা জনান্তিকে মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন। গণমাধ্যম এ ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাহসী ভূমিকা নিতে না পারলেও বাস্তব গোপন থাকেনি।
এ নির্বাচন দেশে গণতন্ত্রচর্চাকে দুর্বল করেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছিল আওয়ামী লীগের, যা দলের নেতৃত্ব পরে কিছুটা উপলব্ধি করেছেন বলে মনে হয়। কেন যেন নির্বাচনের বছরখানেক আগে থেকে আওয়ামী লীগের নানা স্তরের নেতা-কর্মীরা জোরেশোরে বলাবলি শুরু করেছিলেন যে মুক্ত নির্বাচনে তাঁদের আসন ৫০টিও হয় কি না সন্দেহ। আমরা জানি না গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে কী ছিল। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ধারণা এবং অনেকেই আমার সঙ্গে একমত হয়েছেন যে শেষ দিকে আওয়ামী লীগের পক্ষেই ভোটাররা ঝুঁকেছিলেন। পদ্মা সেতু নিয়ে নাটকীয় উত্তরণ এবং সরকারপ্রধানের নেতৃত্বের দৃঢ়তা ও অনেক ক্ষেত্রে দূরদর্শিতা তাঁর প্রতি জনমনকে প্রসন্ন করেছিল। তাতে মুক্ত নির্বাচনেই মহাজোট সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে পারত। এতে ভবিষ্যতের জন্য লাভ হতো বেশি।
এমনিতেই এ সরকারের আমলানির্ভরতা বেশি, নির্বাচনের কারিগর হিসেবে তাদের আত্মবিশ্বাস রাজনীতি ও রাজনীতিকদের অবস্থানকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে, যা আখেরে গণতন্ত্রের বিকাশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, কাজী রকিবউদ্দীন কমিশনের দুর্বল ভূমিকার পর প্রয়োজন ছিল এমন একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও কমিশনের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনবে। সে প্রয়োজন একেবারেই মেটেনি। রাজনীতির মাঠপর্যায়ে তৃতীয়ত যে বার্তাটি গেল, তা সরকার বা রাজনীতির অনুকূল হলো না। তাতে সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ও সরকারের ক্ষমতাধর অঙ্গের যোগসাজশে দলের অনেকেই বৈধ-অবৈধ পথে টাকা উপার্জন ও ভোগ-বিলাসে লিপ্ত হয়েছেন। সম্ভবত এই দুর্নীতিতে প্রশাসনের কেউ কেউ জড়িয়ে পড়েছেন। এভাবে সর্বত্র বেপরোয়া বেআইনি কাজের ঝোঁক বেড়েছে, তাতে দুর্নীতি, মাদক, ক্যাসিনো-জুয়ার মতো কর্মকাণ্ড অবাধে চলেছে। রাজনীতি ও প্রশাসন, সমাজে ও অফিসে ক্ষমতার প্রতাপ বেড়েছে—ফলে সরকারের শুদ্ধাচার চর্চার নির্দেশনা নিছক কাগুজে বিষয় ও কথার কথায় পর্যবসিত হয়েছে।
এ ইস্যু নিয়ে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির জন্য ২০১৯ সাল ঘুরে দাঁড়ানোর বছর হতে পারত। কিন্তু বরাবরের মতো তারা এ ক্ষেত্রেও ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপির নেতারা বিবৃতি ও বক্তৃতায় নির্বাচনকে কলঙ্কজনক অধ্যায় আখ্যা দিলেও তাকে আন্দোলনে রূপ দিতে পারেননি। বিএনপির নেতারা বলে থাকেন, সরকার যদি সব শক্তি দিয়ে দমন-পীড়নে নামে, তাহলে কারও পক্ষেই মাঠপর্যায়ে আন্দোলন তৈরি করা সম্ভব নয়। বিরোধী দলের প্রতি সরকারি আচরণের সমালোচনা করেও আমরা বলব, ইতিহাস ভিন্ন সাক্ষ্য দেয়। এমন বা এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও দেশের প্রগতিশীল দলগুলো সরকারকে কাঁপিয়ে-টলিয়ে দাবি মানতে বাধ্য করেছে। ১৯৯৬-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলন সরকারে থেকে, বিচারপতি ও আমলাতন্ত্রের সহযোগিতা নিয়েও বিএনপি থামাতে পারেনি। তাদের বিরোধী দলের দাবি মানতে সংবিধান সংশোধন করতে হয়েছিল।
বিএনপির পক্ষে কাজ বলতে বছরব্যাপী রুটিন কাজ হিসেবে একদিকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অন্যদিকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিত্য গণমাধ্যমে উপস্থিত থেকেছেন। তাতে বিএনপির সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক লাভ তেমন হয়নি। তবে দলটির সৌভাগ্য যে এ দেশে এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ ইসলামভিত্তিক-জাতীয়তাবাদ, ভারতবিরোধিতার রাজনীতিতে আস্থা রাখেন। বর্তমান সরকার অনেক উন্নয়ন করলেও সমাজমানসের পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি। সে কাজের গুরুত্ব অনুধাবন বা প্রয়োজনীয়তা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ বোধ করেছে বলেও মনে হয় না। যেভাবেই হোক, আওয়ামী লীগবিরোধী ভোটারের সংখ্যা কমেনি। বরং এ বছর ভারতের কয়েকটি পদক্ষেপ বিরোধীদের সমর্থকসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে কাজ করেছে। নাগরিক সংশোধনী বিল (সিএএ), জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) এবং কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার ও রাজ্যটি দ্বিখণ্ডিত করার মতো ঘটনা বাংলাদেশে সাধারণভাবেই বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এতে ইন্ধন দিয়েছে বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বছরব্যাপী মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি। এ ধরনের ভূমিকা কেবল বিএনপি সমর্থক নয়, বর্তমান সরকার এবং সর্বসাধারণকে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করেছে। সরকার তাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিভিন্নভাবে জানানও দিয়েছে।
নরেন্দ্র মোদির ভারত সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের মধুর ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক এ বছর বহাল থাকলেও সরকারকে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই চিন্তায় পড়তে হচ্ছে। ভারত সরকার তাদের এ পদক্ষেপ ও একে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাবলিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে প্রচার করলেও বাংলাদেশ নিজের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিবেচনায় ইস্যুটি উড়িয়ে দিতে পারছে না। এখন বৃহৎ প্রতিবেশী এবং নিজ দেশের আমজনতার মনোভাব ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, বাংলাদেশের জন্য, ইংরেজিতে যাকে বলে টাইটরোপ ওয়াকিং বা সূক্ষ্ম সুতার ওপর হাঁটার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির এ বিষয়ে ঐকমত্য ও সমর্থন—যা বাংলাদেশে প্রায় অসম্ভব বললেই চলে।
এই পরিস্থিতিতেও শেখ হাসিনা বিএনপিকে দূরে ঠেলে দেওয়া এবং দুর্বল থেকে দুর্বলতর করার কৌশল বজায় রেখেছেন। কিন্তু তাতে তাঁর বা দলের যে রাজনৈতিক অবক্ষয় হতে পারত, তা হয়নি—এর জন্য বিএনপির ব্যর্থতার চেয়েও তাঁর সাহস ও দৃঢ়তার প্রশংসা করতে হয়। এমনকি এই সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিশেষত পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা প্রকটভাবে ফুটে উঠলেও বিএনপি একে পুঁজি করতে পারেনি। তাদের সে রকম কোনো চেষ্টা ছিল বলেও মনে হয় না। বরং প্রধানমন্ত্রী বিতর্কিত নির্বাচনটিকে সম্পূর্ণ অতীতের বিষয় করে ফেলার মতো কিছু পদক্ষেপও নিতে পেরেছেন। বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো জনগণের সামনে দৃশ্যমান করে তুললেন দ্রুত, বিভিন্ন সামাজিক সূচকে অগ্রগতিও বহাল থাকল। এর মধ্যে বছরব্যাপী নতুন প্রকল্পের সূচনা ও উদ্বোধন চলছেই। এত কাজও এর আগে কোনো সরকার করতে পারেনি। জনগণের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছানোর প্রক্রিয়া সহজ ও সুলভ করার দিকেও নজর দিয়েছে সরকার। শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে, প্রত্যেকে নতুন বই পাচ্ছে, মায়েরা ঘরে বসে বা কাছাকাছি নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। টিকা ও কৃমির ওষুধ ঠিক সময়ে পৌঁছাচ্ছে। এই ডামাডোলের মধ্যে শিক্ষার মান, শিক্ষাপদ্ধতি ও সংস্কারের সাফল্যের সম্ভাব্যতা, রোগ নিরাময়ব্যবস্থার দক্ষতা ও রোগীবান্ধব সেবাপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো রাজনীতি বিএনপির ভান্ডারে নেই। বেকারত্ব ও দুর্নীতির বহর ও ব্যাপ্তি বেড়েছে—কিন্তু বিএনপি নিশ্চুপ।
আওয়ামী লীগ ও সরকারি প্রচার-প্রচারণার ফলে সৃষ্ট উন্নয়নচিত্রের ঔজ্জ্বল্যের আড়ালে তাদের ব্যর্থতার চিত্র ঢাকা পড়ে গেছে। এর ওপর বছরের শেষ দিকে এসে দলপ্রধান শেখ হাসিনা নিজের ঘরে শুদ্ধি অভিযানে নামলেন। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে সব অঙ্গসংগঠন ও মূল দলে এই অভিযান চালিয়েছেন। পরবর্তী সব নির্বাচনেও তিনি চেষ্টা করেছেন বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত অদক্ষদের বাদ দিয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের সুযোগ দিতে। তাঁর বিবেচনার ফলেই তরুণ এবং উচ্চশিক্ষিত সদস্যরা দল ও অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রাধান্য পাচ্ছেন। অবশ্য তাঁর এসব ইতিবাচক চেষ্টার মধ্যে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী ডাকসু ভিপির ওপর বারবার হামলা চালিয়ে এবং তা ঢাকতে নানা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে পরিস্থিতি তাঁর জন্য প্রতিকূল করার কাজও করে যাচ্ছেন।
মানতেই হবে, ২০১৮ সালের ২৯-৩০ ডিসেম্বরের হোঁচট ও দাগ তিনি অত্যন্ত দ্রুত সামলে নিতে পেরেছেন। এখন দেশে-বিদেশে তাঁর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল। তাঁর মতো ক্ষমতার অধিকারী কেউ এর আগে এ দেশে ক্ষমতায় আসেনি। এ কথা দলের ক্ষেত্রেও এক শ ভাগ খাটে।
ক্ষমতাবান নেতৃত্ব যেমন কোন্দল-কলহপ্রবণ জাতির জন্য কার্যকর হয়েছে, তেমনি আবার গণতন্ত্রের বিকাশের পথে মস্ত দুর্বলতা হয়ে থাকছে। আবার তাঁর ক্ষমতা খাটিয়ে প্রায় একক সিদ্ধান্তে তিনি এমন কিছু কাজ করেছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে গত বছর হেফাজতসহ বিভিন্ন ইসলামি দলের সঙ্গে যে সমঝোতা করেছিলেন, তা ধরে রেখেছেন—যদিও ভোটের বাক্সে তাদের সমর্থন কোন দিকে যাবে বলা মুশকিল। নানা বিশ্লেষণে বাংলাদেশ জঙ্গি দমনে সফল ও প্রশংসিত হওয়া সত্ত্বেও যেকোনো সময় তাদের উত্থানের আশঙ্কার মধ্যেই থাকছে। এর কারণ, দেশে ধর্মীয় রক্ষণশীল মতাদর্শ আওয়ামী লীগের আমলেই শক্তিশালী হয়েছে। গণতন্ত্র ও রক্ষণশীলতার এই আপস জাতিকে শেষ পর্যন্ত কোন দিকে নেবে, তা উদ্বেগের বিষয় এবং সতর্ক পর্যবেক্ষণ দাবি করে।
তবু এর মধ্যে বাস্তবতা হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতাসীন দলের বাইরে আলোচনার যোগ্য কোনো পদক্ষেপ বিরোধী বা অন্য দল থেকে আসেনি। এমনকি পুরোনো রাজনীতিকদের অবক্ষয় ও সেই ধারার অবসানের মধ্যে রাজনীতির মাঠে নতুন মুখ এনেছে আওয়ামী লীগই। সুন্দরবন, গভীর সমুদ্রবন্দরসহ পরিবেশ, জলবায়ুর মতো আজ ও আগামী দিনের সংকট দুর্নীতি ও বেকারত্বের মতো বাংলাদেশের মজ্জাগত দোষ, ধর্মীয় গোঁড়ামির উত্থান ও এর সঙ্গে আপসের বিষয়ে নাগরিক সমাজ থেকে যেসব ইস্যু তৈরি হচ্ছে, আওয়াজ উঠছে, তাতে বাম দল ছাড়া অন্যদের সম্পৃক্তির কোনো লক্ষণ নেই। তাতে ইস্যুগুলো আলোচনায় থাকলেও এগুলো উপেক্ষা বা মোকাবিলায় প্রয়োজন বুঝে কৌশল নির্ধারণের সময় পাচ্ছে সরকার।
মনে হচ্ছে বিএনপি একটি সুযোগের অপেক্ষায় আছে; কারণ, তাদের জনসমর্থন আছে—তবে সেই সুযোগ ভোটের মাধ্যমে না অন্যভাবে আসবে, তা তারা জানে না। আপাতত আওয়ামী লীগ ফাঁকা মাঠে একাই খেলছে, পাহারায় আছে যেন বিএনপি-জামায়াত মাথাচাড়া দিতে না পারে, সেই সঙ্গে ক্ষমতায় রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক সম্ভাব্য অন্য শক্তির হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বন্ধেও তারা সজাগ থাকছে।
এ-ই তো রাজনীতি বর্তমান বাংলাদেশের। বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এবং দেশীয় বাস্তবতায় এর সমালোচনা করেও ভবিষ্যতের আশা নিয়ে ফের এরই দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে।
আবুল মোমেন: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক