উপমহাদেশের ইতিহাসে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম ছিল অনন্য একটা ঘটনা।
প্রথমত, সামরিক ও আমলা রাষ্ট্র পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে যাত্রার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, বিস্তীর্ণ সমতল ভূমির দেশে জাতিগত ও আঞ্চলিক বিরোধ উল্লেখ করার মতো না থাকায় ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের সামনে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল অনেক।
কিন্তু দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এ সম্ভাবনা শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল। ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকদের রেখে যাওয়া ‘ভাগ করো, শাসন করো’ নীতি চালু করা হয়েছিল। প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী—সবখানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ ও বিপক্ষে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।
যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল, মাত্র ১৬ মাসের মাথায় ১৯৭৩ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় নির্বাচনেই সেই সম্ভাবনাকে অঙ্কুরে বিনষ্ট করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। খুব স্বাভাবিকভাবেই সেই নির্বাচনে দলটির বড় বিজয় পাওয়াটা নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু দলটির নেতা-কর্মীদের কারচুপি, অনিয়মের কারণে নির্বাচনটি বিতর্কিত হয়। এমনকি একজন প্রার্থীকে জেতাতে হেলিকপ্টারে করে ব্যালট পেপার ঢাকায় আনার মতো ঘটনা ঘটেছিল। সংবাদপত্র ও বিশ্লেষকেরা পূর্বাভাস দিয়েছিল, অন্তত ১৫-১৬টি আসনে বিরোধীরা জিতবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ২৯৩টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল আওয়ামী লীগ।
শুরুতেই গণতন্ত্রের ভিত্তিকে পোক্ত করতে না পারার এই দুই ব্যর্থতা দেড় দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা, হত্যাকাণ্ড, সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান ও রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর শাসনের ধাত্রী হিসেবে কাজ করেছিল। অথচ মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল যে কটি শর্তে তার অন্যতম ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ফলাফল মানতে পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠীর অস্বীকৃতি। তিন বছরের মাথায় ইতিহাসের শিক্ষাকে অস্বীকার করার ফল কারও জন্যই ভালো হয়নি।
গত ১৮ মাসের ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা পরিষ্কার যে রাজনীতি এখন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জিনিসপত্রের দাম, জ্বালানিসংকট, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা—বাস্তব জীবনের এসব সংকট থেকে অনেক বেশি ‘সাংস্কৃতিক যুদ্ধের’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেট থেকে ইলিশ, নারীর পোশাক থেকে রবীন্দ্রসংগীত—সবকিছুই এই যুদ্ধের হাতিয়ার। প্রায় সাড়ে ৫ কোটি তরুণ (১৮-৩৭ বছর বয়সী) ভোটার ও সাড়ে ৬ কোটি ফেসবুক ব্যবহার করা জনগোষ্ঠীর দেশে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে এই বাস্তবতা বড় প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রকৃতপক্ষে ১৯৯১ সালে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলেও একই সঙ্গে দ্বিদলীয় গোত্রতান্ত্রিক রাজনীতির সূচনা হয়েছিল। একপর্যায়ে আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতি গোত্রতন্ত্রের সমার্থক হয়ে উঠেছিল।
জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ, জনবুদ্ধিজীবী এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিষ্ঠাতা রেহমান সোবহান মনে করেন বাংলাদেশের রাজনীতির সমস্যার মূল উৎস নিহিত রয়েছে রাষ্ট্রপতি হোক আর নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হোক—সব ক্ষমতা একজন সর্বক্ষমতাধর নেতার হাতে কেন্দ্রীভূত থাকা এবং আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ‘গোত্রীকরণের’ মধ্যে, যা শেষ পর্যন্ত ‘সবকিছু বিজয়ীর দখলে’ এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দেয়। (গণতান্ত্রিক ব্যর্থতার সুযোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি; ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫)
এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিই শেষ পর্যন্ত প্রতিহিংসার রাজনীতির জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি আমলেই এর নির্মম ভুক্তভোগী হয়েছেন দেশের নাগরিকেরা। প্রতিটি আমলেই রাজনৈতিক ক্ষমতার বলয়ে থাকা একেকটি গোষ্ঠী ব্যবসা, চাকরি—সব ক্ষেত্রেই সুবিধা পেয়েছে। আর ভিন্ন রাজনীতির লোকেরা হয়েছেন বঞ্চিত আর ভুক্তভোগী।
সামরিক বাহিনী থেকে আসা শাসক হোক আর রাজনৈতিক শাসক হোক কোনো সরকারই জাতিকে বিভাজনের বৃত্ত থেকে বের করে আনেনি। বরং অনেকের ক্ষেত্রে বিভাজন সৃষ্টি করাটাই হয়ে উঠেছিল শাসনক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার কিংবা ক্ষমতায় যাওয়ার একটি সাধারণ অস্ত্র।
আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী আমলে এই বিভাজনকে সামাজিক মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চের দ্বিতীয় পর্যায় এবং ব্লগার হত্যাকাণ্ড ছিল সমাজকে মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার সূচনাবিন্দু।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধ, জঙ্গিবাদকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার—সেই মেরুকরণকে আরও তীব্র করেছিল। রাজনৈতিক দলগুলো ও বুদ্ধিজীবীদের বড় একটা অংশ নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বিসর্জন দিয়ে আওয়ামী লীগ জোটে, সরকারে যুক্ত হয়ে গিয়েছিল। বিএনপিসহ যেসব দল ও ভিন্নমতের মানুষ নতি স্বীকার করেনি, তাদের ওপর নেমে এসেছিল মামলা, হামলা, নিপীড়ন, গুম, খুনের মতো দমন-পীড়ন।
একতরফা নির্বাচন, রাতের ভোট ও আমি-ডামির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের পুরো পথটাই বন্ধ করে ফেলা হয়েছিল। দমন-পীড়ন ও ভোট কারসাজির সব কাজে দলীয় গুন্ডাদের পাশাপাশি সব কটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, আমলাতন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
জঙ্গি, রাজাকার, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, পাকিস্তানি, রাষ্ট্রবিরোধী, দেশবিরোধী এসব তকমা দিয়েই দমন-পীড়নে ন্যায্যতা দেওয়া হয়েছিল। এই নিপীড়নযন্ত্র এতটাই অন্ধ হয়ে উঠেছিল যে ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নামা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের হেলমেট বাহিনী দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করতে কার্পণ্য করেনি। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার নিয়ে শুরু হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুলি চালালে সেটা গণ-অভ্যুত্থানে রূপ পেয়েছিল।
আগস্ট অভ্যুত্থান-পরবর্তী সহিংসতা, রক্তক্ষয়ের পেছনে মূল চালিকা শক্তি ছিল বিভাজনের রজনীতি। এর উৎস শুধু হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামল নয়, গোটা ৫৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসই।
রাজনৈতিক বলি, সামরিক বলি কিংবা নিরপেক্ষ সরকারই বলি কোনো আমলেই দল-মত-লিঙ্গ-বর্ণ-জাতিনির্বিশেষ সব নাগরিকের সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা দেওয়া হয়নি। সব আমলেই রাজনৈতিকভাবে কোনো না কোনো গোষ্ঠী পুরো জনগণের চেয়ে সুপিরিয়র হয়ে উঠতে দেখি। ফলে গণতন্ত্রের নামে এখানে একধরনের রাজতন্ত্রই প্রতিষ্ঠা হতে দেখি। এটিই বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিহিংসার বৃত্ত তৈরি করেছে।
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর বিভাজন ও মেরুকরণ নতুন গতি পায়। গত ১৬ মাসের ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা মনে হতেই পারে, কোনো একটি গোষ্ঠী বিভাজন সৃষ্টি করাটাকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছে। শুরুতে অন্তর্ভুক্তিমূলকতা, বহুত্ববাদ শব্দগুলো সবখানেই জোরেশোরে উচ্চারিত হলেও ধীরে ধীরে সেসব শব্দ ক্ষীণ হতে হতে একসময় মুছে যায়।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভ্যুত্থানের সময় রাস্তায় নেমে আসা নাগরিকেরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এর বিপরীতে একটি এমন একটা অতিক্ষমতাবান গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গেল, যাঁরা যা ইচ্ছা তা–ই করার স্বাধীনতা পেয়ে গেলেন।
মাজার ভাঙা, বাউলদের ওপর আক্রমণ, নারীদের হেনস্তা, মোরাল পুলিশিং, গণমামলা, আদালতে মব তৈরি—সবকিছুই চলতে থাকে দায়মুক্তিসহ। মব সন্ত্রাস হয়ে ওঠে ভিন্নমতের দমন ও নাগরিকদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করার রাজনৈতিক অস্ত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়, ঘৃণা, গণহেনস্তা, মব তৈরি ও ভিন্নমত গুঁড়িয়ে দেওয়ার নেটওয়ার্ক হিসেবে।
অভ্যুত্থানের ১৮ মাসের মাথায় এটা পরিষ্কার যে অনলাইন ও বাস্তব সমাজ দুই পরিসর মিলিয়ে এমন একটি বিস্তৃত উগ্র ডানপন্থী ইকোসিস্টেম তৈরি হয়েছে, যে নেটওয়ার্কের পক্ষে ব্যক্তি হোক, প্রতিষ্ঠান হোক যে কারও বিরুদ্ধে যেকোনো সময় মব তৈরি করা, আক্রমণ করা, ধ্বংস করার সক্ষমতা গড়ে উঠেছে।
গত মাসে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া এবং ছায়ানট ও উদীচীতে হামলা–ভাঙচুরের ঘটনা তার সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, অনলাইনে সংঘবদ্ধ প্রচারণা ও আক্রমণের মধ্য দিয়ে যে কাউকে হত্যাযজ্ঞ করে তোলা সম্ভব। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের ভালুকায় পোশাকশ্রমিক দীপু দাসকে পিটিয়ে হত্যা ও তাঁর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনা এর বড় একটা দৃষ্টান্ত।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে মব সন্ত্রাসে হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। মব সন্ত্রাস ও গণপিটুনিতে গত বছর নিহত হয়েছেন প্রায় ১৬৮ জন, আহত হয়েছেন প্রায় ২৬৮ জন। মব সন্ত্রাস জননিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের প্রধান উদ্বেগ ও বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরও এটা বন্ধে সরকারের উদ্যোগ উল্লেখ করার মতো নয়।
বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে মব সন্ত্রাসকে ‘প্রেশার গ্রুপ’ বলার চেষ্টাও দেখা গেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন শক্তি, নতুন বন্দোবস্তের কথা বলে সরকার উগ্র গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কি না।
একই সঙ্গে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে যাঁরা ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে রয়েছেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুজব, অপতথ্য ও ঘৃণা উৎপাদনের কেন্দ্রে পরিণত করেছেন। সমাজে বিভেদ তৈরি ও উসকানি ছড়ানোর কাজে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করছেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে অনলাইনে কর্মসূচি ঘোষণা করার পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাস ও প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
গত ১৮ মাসের ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা পরিষ্কার যে রাজনীতি এখন দারিদ্র্য, বেকারত্ব, জিনিসপত্রের দাম, জ্বালানিসংকট, শিক্ষা, চিকিৎসার ব্যয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা—বাস্তব জীবনের এসব সংকট থেকে অনেক বেশি ‘সাংস্কৃতিক যুদ্ধের’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেট থেকে ইলিশ, নারীর পোশাক থেকে রবীন্দ্রসংগীত—সবকিছুই এই যুদ্ধের হাতিয়ার। ফ্যাসিস্টের দোসর, ভারতের দালাল, ধর্মবিদ্বেষী তকমা দিয়ে যে কারো বিরুদ্ধেই মব সহিংসতা উসকে দেওয়া চলছে।
প্রায় সাড়ে ৫ কোটি তরুণ (১৮-৩৭ বছর বয়সী) ভোটার ও সাড়ে ৬ কোটি ফেসবুক ব্যবহার করা জনগোষ্ঠীর দেশে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফলাফল নির্ধারণে এই বাস্তবতা বড় প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে আরেকটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশের নাগরিকেরা একটা চরম কর্তৃত্ববাদী শাসন ও শক্তিশালী রাষ্ট্রযন্ত্র দেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ মাসে একটা চরম দুর্বল শাসনব্যবস্থা দেখছে নাগরিকেরা।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে দল ক্ষমতায় আসুক না কেন, নাগরিকেরা চান একটা গণতান্ত্রিক ও মধ্যপন্থী শাসন। কিন্তু সেখানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে চরমভাবে মেরুকৃত একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা।
১৯৭৩ সালের নির্বাচনে দেশকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেওয়ার যে বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল সেটা কাজে লাগানো যায়নি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পরও সেটা সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের নির্বাচন কি পারবে ইতিহাসের গতিধারা পাল্টে দিতে?
মনোজ দে প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী
** মতামত লেখকের নিজস্ব