জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ।
জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ।

মতামত

সরকারের ১৮০ দিন: প্রতিশ্রুতি থেকে পরিবর্তনের পথে দেশ

রাষ্ট্র পরিচালনায় ১৮০ দিন খুব বেশি সময় নয়। একটি সরকারের সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য তো নয়ই।

কিন্তু এই সময়টুকু অন্তত একটি বিষয় বুঝতে যথেষ্ট যে সরকার কোন পথে হাঁটতে চায়, তার অগ্রাধিকার কোথায় এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া অঙ্গীকারগুলো ক্ষমতায় এসে কতটা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে রূপ পাচ্ছে।

কারণ, নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরিকল্পনা আর রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এক নয়। নির্বাচনে প্রয়োজন মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তা।

রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা, দক্ষ প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি।

দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বড় ধাক্কা এসে পড়ে অর্থনীতিতে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অভিঘাত এসে পড়েছে জ্বালানি, এলএনজি, সার, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ে।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মাথায় শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানিবাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে।

ফেব্রুয়ারিতে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৬ ডলারের ডিজেলের বৈশ্বিক মূল্য এপ্রিলে প্রায় ২৮৫ ডলারে পৌঁছে যায়। একই সময়ে এলএনজি ও ইউরিয়া সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর তৈরি হয় বাড়তি চাপ।

বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় পেট্রোলিয়াম পণ্যের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি শুধু সরকারের আমদানি বিল বাড়ায় না, এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে কৃষকের জমি থেকে কারখানার উৎপাদন খরচ, গণপরিবহন থেকে সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত।

এখানেই শুরু হয় নতুন সরকারের প্রথম বড় পরীক্ষা। স্বাভাবিক সময়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া তুলনামূলক সহজ; কিন্তু বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, বিদ্যুৎব্যবস্থা সচল রাখা, বাজারে পণ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ না দেওয়াই কঠিন কাজ।

সরকার বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেছে।

আগস্টেও ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর অর্থ, আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের পুরোটা সরাসরি ভোক্তার ওপর না চাপিয়ে সরকারকে ভর্তুকি ও অতিরিক্ত রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের দায়ও নিতে হচ্ছে।

একটি সরকারের পরিবর্তনের দর্শন শুধু অর্থনীতির সংখ্যায় ধরা পড়ে না। রাষ্ট্র কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেখানেও পরিবর্তনের রেখা খুঁজতে হয়।

প্রথম ১৮০ দিনে সেই জায়গায় একটি উল্লেখযোগ্য প্রবণতা হলো প্রতিষ্ঠানকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংসদ শুধু আইন পাসের জায়গা নয়; সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলা, ব্যয়ের হিসাব চাওয়া এবং নীতির বিকল্প নিয়ে বিতর্কের প্রধান সাংবিধানিক ক্ষেত্র।

দীর্ঘ সময় পর সংসদে প্রশ্ন, পাল্টা প্রশ্ন, আলোচনা ও জবাবদিহির সংস্কৃতি দৃশ্যমান হওয়ার পাশাপাশি প্রথম অধিবেশনেই ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির উদ্যোগ সেই প্রাতিষ্ঠানিক ধারায় ফেরার ইঙ্গিত বহন করে।

ক্ষমতা ব্যবহারের সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন চোখে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর সীমিত গাড়িবহর কিংবা তাঁর চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ সড়ক বন্ধ না রাখার সিদ্ধান্ত হয়তো দেশের জিডিপি বাড়াবে না, মূল্যস্ফীতিও কমাবে না।

কিন্তু রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর আলাদা তাৎপর্য আছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাহুল্য যত কম প্রদর্শিত হয়, সাধারণ নাগরিকের প্রতি সম্মানের জায়গাটি তত দৃশ্যমান হয়।

সরকারি গাড়ি কেনায় নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ সীমিত করা এবং সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগও একই বার্তা বহন করে।

প্রধানমন্ত্রী নিজের মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এগুলো ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

বিএনপির নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

তবে এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে প্রধানমন্ত্রীর এসব দৃষ্টান্ত প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ধারণ করতে পারেন কি না, তার ওপর।

ব্যক্তি চলে যায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠান থেকে যায়। তাই টেকসই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় নিশ্চয়তা হলো প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ।

এই সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বড় অংশজুড়ে ছিল সরাসরি মানুষের জীবন। সেই প্রতিশ্রুতির অন্যতম দৃশ্যমান রূপ ‘ফ্যামিলি কার্ড’। পরীক্ষামূলকভাবে হাজার হাজার পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এখানে শুধু টাকার অঙ্কটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সামাজিক নিরাপত্তাকে আরও লক্ষ্যভিত্তিক, নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক করার চেষ্টা।

একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের সব প্রয়োজন হয়তো এই অর্থে মিটবে না, কিন্তু খাদ্য, শিক্ষা কিংবা চিকিৎসার মতো কোনো একটি জরুরি খাতে এটি স্বস্তি দিতে পারে।

বিশেষ করে নারীপ্রধান ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা অনিশ্চয়তা কমানোর একটি কার্যকর উপায় হয়ে উঠতে পারে।

একইভাবে কৃষক কার্ডের ধারণাটিও বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। কৃষি এখনো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

কৃষি উপকরণ, ঋণ এবং সরকারি সেবা সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন জেলায় কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের কৃষিঋণ ও সংশ্লিষ্ট সুদ মওকুফের উদ্যোগ তাদের আর্থিক চাপ কমানোর প্রচেষ্টা।

একজন প্রান্তিক কৃষকের কাছে ঋণের বোঝা কমা শুধু হিসাবের খাতায় কয়েকটি সংখ্যা মুছে যাওয়া নয়; কখনো কখনো সেটিই নতুন মৌসুমে আবার জমিতে নামার সাহস জোগায়।

স্বাস্থ্য খাতেও একই দর্শনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ‘হেলথ কার্ড’, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য করার উদ্যোগ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সবকিছুর পরও সরকারের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার নাম অর্থনীতি। কারণ, মানুষ জিডিপির পরিসংখ্যান দিয়ে বাজার করে না। মাস শেষে তার হাতে কত টাকা থাকছে, চাল-ডাল-তেল কিনতে কত খরচ হচ্ছে, সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয় করা যাচ্ছে কি না, সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির সবচেয়ে বাস্তব সূচক এগুলোই। এই জায়গায় সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও সবচেয়ে বেশি।

তবে এখানেও কার্ড চালু করাই শেষ কথা নয়। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা, চিকিৎসকের উপস্থিতি, ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর সঙ্গে পুরো ব্যবস্থাকে যুক্ত করতে পারলেই উদ্যোগটির প্রকৃত অর্থ তৈরি হবে। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

সবকিছুর পরও সরকারের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার নাম অর্থনীতি। কারণ, মানুষ জিডিপির পরিসংখ্যান দিয়ে বাজার করে না।

মাস শেষে তার হাতে কত টাকা থাকছে, চাল-ডাল-তেল কিনতে কত খরচ হচ্ছে, সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় মিটিয়ে কিছু সঞ্চয় করা যাচ্ছে কি না, সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির সবচেয়ে বাস্তব সূচক এগুলোই।

এই জায়গায় সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জও সবচেয়ে বেশি।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটাতে হবে, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপও সামলাতে হবে।

অর্থাৎ একই সময়ে অনেকগুলো কঠিন সমীকরণের সমাধান করতে হবে সরকারকে।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সরকার ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের দর্শন হিসেবে সামনে এসেছে ‘থ্রি আর’, অর্থাৎ রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রেস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসিলারেশন।

সহজ ভাষায় এর অর্থ প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, তারপর ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো পুনরুদ্ধার এবং সেই ভিত্তির ওপর দ্রুততর প্রবৃদ্ধির পথে যাওয়া।

বাজেটের লক্ষ্য আর মানুষের জীবনের বাস্তবতার মধ্যে দূরত্ব কমাতেও সরকারের উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি সত্যিই ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নানিয়ে আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সরকারকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পথ চলতে হচ্ছে। চীন, মালয়েশিয়া, ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ককে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শ্রমবাজার ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য একমুখী কূটনীতির সুযোগ কম। ফলে জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক ও ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি উন্নয়নভাবনায় পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রশ্নটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জলবায়ু বাজেট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নদী-খাল পুনঃখনন এবং বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু কোনো দূরবর্তী ভবিষ্যতের সমস্যা নয়। কৃষি, উপকূল, নগরজীবন, জীবিকা ও মানুষের স্থানান্তর সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অগ্রাধিকারমূলক কাজের মধ্যে পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষার বিষয়টি তাই বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাড়ানো এবং নদী-জলাশয়ের প্রাণ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন সরকারপ্রধান।

তাহলে ১৮০ দিন শেষে প্রশ্নটি আবারও সামনে আসে, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ থেকে পরিবর্তনের রেখা কতটা দৃশ্যমান?

উত্তরটি সম্ভবত সাদা-কালো নয়। ১৮০ দিনে একটি দেশ বদলে দেওয়া যায় না। দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা প্রশাসনিক সংস্কৃতি রাতারাতি পাল্টানোও সম্ভব নয়।

কিন্তু একটি সরকার কোন দিকে যেতে চাইছে, কোন সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে কীভাবে দেখতে চাইছে, তার কিছু রেখাচিত্র এই সময়ের মধ্যেই ফুটে ওঠে।

প্রথম ১৮০ দিনে সেই রেখার দৃশ্যমান—সামাজিক নিরাপত্তায় লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ, কৃষকের জন্য প্রত্যক্ষ সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবায় নতুন ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা, রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সংযম, সংসদ ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা বাড়ানোর প্রচেষ্টা এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করে পুনর্গঠনের পরিকল্পনাসহ অনেক কিছু।

শেষ পর্যন্ত কোনো সরকারের সাফল্য তার স্লোগান, বাজেটের আকার কিংবা কর্মসূচির সংখ্যায় নির্ধারিত হয় না। নির্ধারিত হয় মানুষের জীবনে পরিবর্তনের গভীরতা দিয়ে।

কৃষক যদি উৎপাদনে স্বস্তি পান, তরুণ যদি কাজের সুযোগ পান, নিম্ন আয়ের পরিবার যদি নিরাপত্তা পায়, রোগী যদি কম খরচে চিকিৎসা পান, ব্যবসায়ী যদি আস্থা নিয়ে বিনিয়োগ করতে পারেন এবং সাধারণ মানুষ যদি রাষ্ট্রকে নিজের কাছাকাছি অনুভব করেন, তবেই পরিবর্তনের রেখাটি পূর্ণতা পাবে।

১৮০ দিনে সব কাজ শেষ হয়ে যায়নি। সব সমস্যার সমাধানও হয়নি। কিন্তু সরকারের একটি মহাপরিকল্পনা দৃশ্যমান যাত্রায় রূপ নিয়েছে।

প্রতিশ্রুতি থেকে কর্মসূচি, কর্মসূচি থেকে বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়ন থেকে মানুষের জীবনে পরিবর্তন—এ পথেই এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।

তবে রাষ্ট্র পরিবর্তন কোনো স্বল্প দূরত্বের দৌড় নয়; এটি দীর্ঘ পথের যাত্রা। সেই যাত্রায় প্রথম ১৮০ দিন কোনো গন্তব্য নয়; বরং এটি একটি সূচনার সুবর্ণরেখা।

এখন দেখার বিষয়, সেই রেখা আগামী দিনে কতটা দীর্ঘ হয়, কতটা গভীর হয় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের জীবনে কতটা স্থায়ী পরিবর্তনের ছাপ রেখে যেতে পারে।

  • হাসান শিপলু প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।

* মতামত লেখকের নিজস্ব।