
ইরানে আবারও হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সমঝোতা স্মারকটি সপ্তাহখানেক ঝুলন্ত অবস্থায় থাকার পর অবশেষে ভেঙেই গেল। ৮ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমার মনে হয় এটি শেষ। আমি আর (ইরানের সঙ্গে) কোনো আলোচনায় যেতে চাই না।’
এটা অপ্রত্যাশিত ছিল না। চুক্তির শর্ত, বিশেষত হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। এত বড় বড় মতপার্থক্য নিয়ে চুক্তি টিকে থাকা অসম্ভব ছিল। তাই আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার ছিল।
তারপরও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কারোর জন্যই লাভজনক নয়। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পরপর কয়েকটি সরকার একটি মূল লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। সেটি হলো পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বোঝা কমিয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মনোযোগ দেওয়া। ইরান–সম্পর্কিত যুক্তরাষ্ট্রের আগের সব নীতি ছিল মূলত এই লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার। তবে সাম্প্রতিক সংঘাত পরিষ্কার করে দিয়েছে যে ওয়াশিংটন ইরান সরকারকে মুছে ফেলতে পারবে না।
গত বছরের সামরিক সংঘাতগুলো কেবল ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্যের পরীক্ষা নেয়নি। এগুলো জোরজবরদস্তি, প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত পুরোনো সব ধারণা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর নজিরবিহীন হামলা এবং দেশটির অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষতি করার পরও কোনো পদক্ষেপই তেহরানকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। তাদের ভূখণ্ড ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা টিকে রয়েছে। সবচেয়ে চরম পরিস্থিতিতেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার ক্ষমতা এবং ইরানি জাতির সহনশীলতার প্রমাণ তারা দিয়েছে।
বাইরের পরাশক্তিগুলোকে অবশ্যই এই বাস্তব সত্য উপলব্ধি করতে হবে এবং এর গুরুত্ব বুঝতে হবে। টানা সামরিক চাপ সহ্য করার যে ক্ষমতা ইরান দেখিয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে কোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা থেকে তেহরানকে বাদ দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদ পরিবহনে ইরানের মূল ভূমিকা।
তেহরান আবারও হরমুজ প্রণালির বেশির ভাগ পথ বন্ধ করে দিয়েছে। যুদ্ধ ইরানকে এখন বাধ্য করেছে এই প্রণালিকে নিজেদের বেঁচে থাকার নিরাপত্তার বিষয় হিসেবে দেখতে। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে, ইরান সাধারণত এই জলপথে নৌচলাচলে কোনো বাধা দেয়নি।
কিন্তু মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা ইরানের সামরিক কমান্ডারদের পাশাপাশি দেশটির সাধারণ মানুষের সহনশীলতার শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। আজ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো শত্রুপক্ষ যেন এই জলপথ ব্যবহার করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকভাবে নতুন কোনো চাপ বা সংঘাতের প্রস্তুতি নিতে না পারে।
আগে বাণিজ্যিক জাহাজ আর সামরিক জাহাজের চলাচলের মধ্যে একটি পার্থক্য মেনে নেওয়া হতো, যা এখন মুছে গেছে। শান্তির সময়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন সবকিছু নির্ধারণ করে। কিন্তু যুদ্ধের সময়ে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনও নিজের দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করাকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়।
ইরান এখন এই দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে কাজ করছে যে জলপথগুলো আর রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকতে পারে না। কারণ, যেসব অস্ত্র ও প্রযুক্তি দিয়ে পরবর্তী সময়ে ইরানের ভূখণ্ড, অবকাঠামো ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়েই এসেছে।
কোন জাহাজগুলো সাধারণ বাণিজ্যিক পণ্য বহন করছে আর কোনগুলো ইরানের অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করা জিনিস বহন করছে, তা আলাদা করা তেহরানের জন্য খুবই কঠিন। পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক চলাচলকে এখন শান্তির সময়ের আইনের বদলে সশস্ত্র সংঘাতের নিয়ম ও কৌশলগত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতেই দেখতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি শান্তি চায়, তবে তাদের অবশ্যই ইসরায়েলের ভূমিকা দেখতে হবে। যেকোনো নতুন সংঘাত বন্ধ করতে হলে এই বাধা সৃষ্টিকারী দেশটির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ইসরায়েলের এই আচরণ কেবল ইরানের সঙ্গে শান্তির পথই বন্ধ করছে না; এটি পুরো পশ্চিম এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এই চিরন্তন অস্থিরতার উৎস বন্ধ করার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপরই পড়ে।
তবে তেহরানের জন্যও হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের এই সুযোগটি অত্যন্ত নাজুক। ইরান যদি বারবার সামুদ্রিক চলাচলে হুমকি দেয়, তবে বিশ্বের বড় একটি অংশ তাদের বিরুদ্ধে চলে যেতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে জলপথ বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগগুলো দ্রুত বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও স্থলপথের দিকে চলে যাবে, যা এই প্রণালিকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে চলবে।
বিশ্ববাজার যদি সফলভাবে এই প্রণালির বিকল্প তৈরি করে নেয়, তবে ইরান আর প্রণালি বন্ধের ভয় দেখিয়ে অন্য দলকে আটকে রাখতে পারবে না। তাই ইরানকেও সংযম দেখাতে হবে। ঠিক তেমনি অন্যান্য দেশকেও এমন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, যা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের স্বার্থের ক্ষতি করে।
যুদ্ধ থামাতে হলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অন্যান্য গভীর মতপার্থক্যগুলোও সামাল দিতে হবে। তবে দুটি দেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত খুব বাস্তবমুখী। তেহরান ও ওয়াশিংটন কখনোই বন্ধু হতে পারবে না। সাম্প্রতিক সময়ে যে যুদ্ধগুলো হলো—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ও নিরীহ স্কুলশিক্ষার্থীদের হত্যা করেছে—তা দেশটিতে ঐতিহাসিক ক্ষতকে আরও গভীর করেছে।
এই ক্ষোভগুলো ইরানিরা কখনো ভুলবে না বা ক্ষমা করবে না। তবে তার মানে এই নয় যে এতে টানা যুদ্ধ বা উত্তেজনা বাড়িয়ে যেতে হবে। আসল কাজ হলো ভবিষ্যতের কূটনৈতিক আলোচনাকে আগের মতো ব্যর্থ হতে না দিয়ে বাস্তবসম্মতভাবে নিজেদের মতপার্থক্যগুলো সামাল দেওয়া। কিছু রাজনৈতিক বিষয় রয়েছে, যা কৌশলগত সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাস্তবসম্মত নিরাপত্তাব্যবস্থা করতে হলে একটি পারস্পরিক ‘অনাক্রমণ চুক্তি’ দরকার, যেন রাজনৈতিক আদর্শের সংঘাত সহিংসতায় রূপ না নেয়। এরপর তেহরান ও ওয়াশিংটন আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করা, মাদক পাচার রোধ এবং শরণার্থী ব্যবস্থাপনার মতো সাধারণ সমস্যাগুলোতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেবে, ইরান ও তার বিভিন্ন সংস্থার ওপর থেকে সন্ত্রাসবাদের তকমা সরিয়ে নেবে এবং সব নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেবে। চুক্তি স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ওয়াশিংটন তাদের আক্রমণের ফলে ইরানের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে একটি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিল গঠনে রাজি হবে।
এর বিনিময়ে ইরানও স্থায়ী পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর নিশ্চয়তা দেবে। এমনকি প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে দেওয়া ফতোয়াটিকে ইরান আইনের রূপ দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি শান্তি চায়, তবে তাদের অবশ্যই ইসরায়েলের ভূমিকা দেখতে হবে। যেকোনো নতুন সংঘাত বন্ধ করতে হলে এই বাধা সৃষ্টিকারী দেশটির বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। ইসরায়েলের এই আচরণ কেবল ইরানের সঙ্গে শান্তির পথই বন্ধ করছে না; এটি পুরো পশ্চিম এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এই চিরন্তন অস্থিরতার উৎস বন্ধ করার দায়িত্ব এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপরই পড়ে।
১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে কয়েক দশকের উত্তেজনা চলে আসছে, তা দূর করতে ইরান ও তার পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশীদেরও একটি পরিকল্পনা তৈরি করা উচিত। এই দীর্ঘ অস্থিরতা সবার জন্যই ক্ষতিকর হয়েছে।
এর অর্থ হলো, পশ্চিম এশিয়াকে এখন বহিরাগত পরাশক্তিদের ওপর নির্ভরশীল নিরাপত্তাব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই নির্ভরশীলতাই মার্কিন বাহিনীকে এই অঞ্চলে টেনে এনেছে এবং একের পর এক যুদ্ধ তৈরি করেছে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর ইরাকের কুয়েত আক্রমণ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোই তার বড় প্রমাণ। বাইরের পরাশক্তিদের কাছে নিরাপত্তা ইজারা দিয়ে প্রকৃত নিরাপত্তা তো দূরের কথা, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতাও অর্জন করা সম্ভব নয়।
এর বদলে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মেলবন্ধন বাড়ানো, যাতে একটি দেশের শক্তি অন্য দেশের স্থিতিশীলতাকে আরও মজবুত করে। ইরানিরা ইতিমধ্যে এ ধরনের নতুন ব্যবস্থার বেশ কিছু প্রস্তাব তৈরি করেছে।
২০২৪ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। এটি তৈরি হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পরবর্তী সময়ে অনাক্রমণ চুক্তির ভিত্তিতে। এর মধ্যে থাকবে আস্থা বাড়ানোর নানা পদক্ষেপ। যেমন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, যৌথভাবে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং পারস্পরিক সহাবস্থান বাড়াতে যৌথ মিডিয়া প্রচারণা।
আমি একটি আঞ্চলিক পারমাণবিক নেটওয়ার্কের প্রস্তাবও দিয়েছিলাম। এর মধ্যে থাকবে কেবল শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক গবেষণার জন্য একটি যৌথ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র। এতে সদস্যদেশগুলো তাদের বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে এবং যৌথ তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করবে যে কোনো দেশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।
একটি দেশের সাফল্য যেন অন্য দেশের কাজে আসে, সে জন্য পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোকে একটি সমন্বিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন পুঁজি ও পণ্যের অবাধ চলাচল সহজ করতে পারে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি–সংকটের মতো জটিল সমস্যাগুলো একসঙ্গে মেটাতে দেশগুলো যৌথ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে।
এই অঞ্চল যদি শক্তিশালী এবং টেকসই যৌথ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে, তবে এখানে অভাবনীয় উন্নয়ন সম্ভব। এই অঞ্চলে প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রাচীন সভ্যতা এবং তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী রয়েছে। ইরান বিশাল ভূখণ্ড, উন্নত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষ মানবসম্পদ নিয়ে আসতে পারে। আরব দেশগুলোর রয়েছে বিপুল অর্থ, বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নেটওয়ার্ক।
অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্ক দিতে পারে বড় শিল্পকারখানা এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাব। কয়েক দশকের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সন্দেহের কারণে এসব কাজ মোটেও সহজ হবে না। কারণ, আরব দেশগুলোর নিজেদের মধ্যেও কোন্দল রয়েছে এবং তাদের অনেকের সঙ্গেই ইরানের দূরত্ব অনেক।
তবে পশ্চিম এশিয়াকে তার সহিংস অতীতের বন্ধনে আটকে থাকলে চলবে না। সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো কেবল সামরিক সংঘাতের ভয়াবহ ক্ষতিকেই তুলে ধরেনি, জোরজবরদস্তির নীতির সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এম জাওয়াদ জারিফ তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক এবং পূর্বে ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত।