মাহে রমজান

পবিত্র রমজান গুনাহ মোচনের সেরা সোপান

‘ইস্তিগফার’ মানে ক্ষমাপ্রার্থনা করা আর ‘তওবা’ অর্থ ফিরে আসা। ‘নাস’ মানে মানব। মানবমাত্রেই ভুল। ‘ইনসান’ মানেও মানব তথা মানুষ, যে কিনা ভুলে যায়।

প্রথম মানুষ আদম (আ.) প্রথম ভুল করেছিলেন। পরে তওবা করায় পরম ক্ষমাশীল ও অতীব করুণাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে ক্ষমা করেছিলেন।

আল্লাহ বান্দার ভুলত্রুটি, পাপ–তাপ ও যাবতীয় অপরাধ ক্ষমা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা, সম্পদহানি, প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে। তুমি সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের, যারা তাদের প্রতি মসিবত আপতিত হলে বলে, “নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।” তাদের প্রতি তাদের রবের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও রহমত এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা–২ বাকারা, আয়াত: ১৫৫–১৫৭)

বান্দা ইস্তিগফার করলে আল্লাহ আজাব দূর করে দেন। পবিত্র কোরআনের বর্ণনা, ‘আপনি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না এবং তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করলে তখনো আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না।’ (সুরা–৮ আনফাল, আয়াত: ৩৩)

প্রথম মানুষ আদম (আ.) প্রথম ভুল করেছিলেন। পরে তওবা করায় পরম ক্ষমাশীল ও অতীব করুণাময় মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে ক্ষমা করেছিলেন

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘সব মানুষই অপরাধী, তবে তাদের মধ্যে উত্তম হলো তওবাকারী।’ (তিরমিজি: ২৪৯৯, মুসনাদে আহমাদ: ১৩০৪৯, ইবনে মাজাহ: ৪২৫১) ‘যদি কেউ গুনাহ মাফের উদ্দেশ্যে ইস্তিগফার করাকে নিজের ওপর আবশ্যক করে নেয়, তাহলে আল্লাহ–তাআলা তাকে তিনটি পুরস্কার দেবেন—তার জীবনের দুরবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করবেন, তাকে দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন, তাকে অচিন্তনীয় ও অকল্পনীয় স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (মুসলিম ও তিরমিজি)

দোষে–গুণে মানুষ; মানুষের মধ্যে পাপ ও পুণ্যের সম্ভাবনা বিদ্যমান। পবিত্র কোরআন মাজিদে আছে, ‘অতঃপর আল্লাহ তাতে (মানব সত্তায়) অপরাধপ্রবণতা ও তাকওয়া বা সতর্কতার জ্ঞান দান করলেন।’ (সুরা–৯১ শামস, আয়াত: ৮) ‘আর আমি তাকে (ভালো–মন্দ, সত্যাসত্য, ন্যায়–অন্যায়) দুটি পথ দেখিয়ে দিয়েছি (যাতে সে সঠিক পথে চলতে পারে)।’ (সুরা–৯০ বালাদ, আয়াত: ১০)

হাদিসে কুদসিতে রয়েছে, ‘বান্দা যদি দৈনিক ৭০ বার অপরাধ করে এবং ৭০ বার ক্ষমা চায়, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) দৈনিক ৭০ বারের অধিক বা ১০০ বার ইস্তিগফার পড়তেন বা ক্ষমাপ্রার্থনা করতেন। অথচ তিনিসহ সব নবী–রাসুল ছিলেন মাসুম বা সম্পূর্ণ নিষ্পাপ। তারপরও প্রিয় নবী (সা.) ইস্তিগফার পড়তেন। কারণ, তওবা ও ইস্তিগফার স্বতন্ত্র ইবাদত। এতে আল্লাহ বেশি খুশি হন।

পবিত্র কোরআন মাজিদ ও হাদিস শরিফে বর্ণিত তওবা ও ইস্তিগফারের দোয়াগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ দোয়াটিকে বলা হয় ‘সাইয়েদুল ইস্তিগফার’ বা ক্ষমার সেরা আবেদন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কেউ সকাল–সন্ধ্যায় বিশ্বাসের সঙ্গে সাইয়েদুল ইস্তিগফার পাঠ করে, সে যদি ওই দিন রাতে বা দিবসে ইন্তেকাল করে, তাহলে সে জান্নাতি হবে।’

সাইয়েদুল ইস্তিগফার হলো, ‘আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাততু আউযুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া, ওয়া আবুউ লাকা বিযাম্বি; ফাগফিরলি, ফা ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয-যুনুবা ইল্লা আন্তা।’ অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রভু, আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ বা মাবুদ নেই; আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনারই বান্দা, আর আমি আছি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের ওপর আমার সাধ্যমতো; আমি আপনার কাছে পানাহ ও আশ্রয় চাই আমার অনাসৃষ্টির অকল্যাণ এবং অপকার ও ক্ষতি হতে। আমি স্বীকার করছি আমার প্রতি আপনার সব নিয়ামত, আরও স্বীকার করছি আপনার সমীপে আমার সব অপরাধ। সুতরাং আমাকে মাফ করে দিন; আর অবশ্যই আপনি ছাড়া ক্ষমা করার আর কেউ নেই।’ (বুখারি: ৬৩২৩ ও মুসলিম)

রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজানে অগণিত মানুষকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেবেন। পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘তিনি (আল্লাহ) গুনাহ ক্ষমাকারী।’ (সুরা-৪০ মুমিন, আয়াত: ৩) ‘জেনে রেখো, তিনি পরাক্রমশালী পরম ক্ষমাশীল।’ (সুরা-৩৯ জুমার, আয়াত: ৫) ‘হে নবী (সা.)! আপনি আমার বান্দাদের বলে দেন, আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সুরা–১৫ হিজর, আয়াত: ৪৯)

  • অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

  • সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

  • smusmangonee@gmail.com