ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে সাগরের পানি থেকে লবন আলাদা করে মিঠা পানি বানানো হচ্ছে। এই প্ল্যান্টগুলো যদি হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে রাতারাতি ‘কারবালা’ হয়ে যাবে।
ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে সাগরের পানি থেকে লবন আলাদা করে মিঠা পানি বানানো হচ্ছে। এই প্ল্যান্টগুলো যদি হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে রাতারাতি ‘কারবালা’ হয়ে যাবে।

মতামত

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘আসল কথাডা কেউ কইলেন না’

নব্বই দশকে বিটিভিতে বৃক্ষরোপন নিয়ে হুমায়ুন আহমেদের বানানো একটা বিজ্ঞাপনচিত্র দেখা যেত। তাতে অভিনেতা আবুল খায়ের একজন কবিরাজের ভূমিকায় ছিলেন।

দেখা যেত—ফুটপাতের মজমায় ‘লেকচার’ দিয়ে গাছ–গাছড়ায় বানানো কবিরাজি ওষুধ বিক্রি করেন কবিরাজ। তিনি হাতে একটা ঔষধি গাছের ডাল নিয়ে বৃত্তাকার জটলায় দাঁড়ানো লোকদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করেন, ‘বলেন তো দেখি গাছ আমাগো কী উপকার করে?’

একজন বলে, ‘গাছ আমাগো ছায়া দেয়।’
একজন বলে, ‘গাছ আমাগো কাঠ–লাকড়ি দেয়।’
একজন বলে, ‘গাছ আমাগো ফলমূল দেয়, ফসল দেয়’।
এই ধরনের বিভিন্ন জবাব আসে।

ক্লাসভর্তি ছাত্রদের কারও জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়া শিক্ষকের মতো করে কবিরাজ তখন একটি গভীর হতাশাসূচক দীর্ঘশ্বাস মোচন করে গম্ভীর প্রজ্ঞাসঞ্জাত কণ্ঠে বলেন, ‘আসল কথাডা কেউ কইলেন না! দমের কথা। শ্বাসের কথা। এই যে প্রতিডা শেকেন্ডে আমরা দমের সাথে যে অক্সিজেনডা লই, তা কে দেয়?’

এই প্রশ্ন করে কবিরাজ সেকেন্ডখানিক পাবলিকের দিকে চেয়ে থাকেন। তারপর নিজের উরুতে কষে একটা শশব্দ থাপ্পড় মেরে নিজেই প্রায় চিৎকারের মতো করে জবাব দেন, ‘দেয় গাছ!’

আজকে ইরান যুদ্ধে যখন একের পর এক আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে মিসাইল পড়ছে; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন তেল শোধনের প্ল্যান্টগুলো দাউ দাউ করে জ্বলতে দেখা যাচ্ছে; বিমানবন্দরগুলোতে যখন হলিউডের সিনেমার কায়দায় বিষ্ফোরণ ঘটতে দেখা যাচ্ছে; তখন সারাবিশ্বে জ্বালানি তেল–সংকট বিষয়ক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে।

সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, আবুধাবী, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের তেল কূপ কিংবা শোধনাগার ধ্বংস হলে কীভাবে পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শিল্প খাত ক্ষতির মুখে পড়বে, কীভাবে বহু লোক চাকরি হারাবে, কীভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের দাম গরিব মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাবে—এইসব নিয়ে চায়ের দোকান থেকে টক শো—সবখানে আলোচনা হচ্ছে।

তাদের সেসব আলোচনা দেখে সেই বিজ্ঞাপনের কথা মনে পড়ছে। মনে পড়ছে কবিরাজের সংলাপ, ‘আসল কথাডা কেউ কইলেন না!’

বিজ্ঞাপনের ‘আসল কথাডা’ ছিল ‘দমের কথা’; আর আজকের বিবেচনায় ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে অনালোচিত অথচ সবচেয়ে ‘আসল কথাডা’ হলো ‘পানির কথা’।

আসল কথা হলো, আজকের আরব দুনিয়ায় মানুষ যে পানি খাচ্ছে, যে পানি দিয়ে ওজু–গোসল করছে, ঘর–গেরস্থালির ধোয়ামোছার কাজ করছে, কৃষিকাজ করছে, সে পানি আগেকার আমলের মতো কূপ কিংবা ওয়াদি বা মৌসুমি নদীর পানি না; তার প্রায় সবটাই সাগরের নোনা পানি।

মানে, সাগরের নোনা পানি তুলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ঢেলে সেই পানি থেকে নুন আলাদা করে মিঠা পানি বানানো হচ্ছে। সেই মিঠা পানি তাঁরা ব্যবহার করছে।

এই প্ল্যান্টগুলো যদি হামলা চালিয়ে ধ্বংস করা হয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে রাতারাতি ‘কারবালা’ হয়ে যাবে, তা নিয়ে এখনও তেমন কোনো আলোচনা শোনা যাচ্ছে না।

তবে পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে এই আলোচনাটিই খুব শিগগির একেবারে সামনের সারির আলোচনা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

কারণ যুদ্ধের আগুন যতই পারস্য উপসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে, ততই পরিষ্কার হচ্ছে—এই অঞ্চলের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো আসলে তেলক্ষেত্র নয়, সেটি আসলে ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেভাবে হামলা চালাচ্ছে তাতে ইরান বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো কি নিশানায়?

গোটা মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে চার শ ছোট–বড় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট আছে। এই প্ল্যান্টগুলোর টিকে থাকার সঙ্গে সেখানকার কয়েক কোটি মানুষের বাঁচা–মরার প্রশ্ন জড়িয়ে আছে। সে কারণে জেনেভা কনভেনশনের অধীনে এগুলো সুরক্ষিত।

যেহেতু এখানে হামলা চালানোকে কোটি মানুষকে রাতারাতি পানির তৃষ্ণায় মেরে ফেলার চেষ্টা হিসেবে দেখা হয়ে থাকে, সেহেতু বিশ্বজনমত বিপক্ষে চলে যাওয়ার ভয়ে কেউ এখানে হামলা করতে চাইবে না—এই ধারণা এতদিন প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু সে ধারণার ভিত নড়ে গেছে।

ইরান যুদ্ধের বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে জেনেভা কনভেনশনকে পাত্তা দেওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় পানি শোধনাগারে হামলা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও এমনসব বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হচ্ছে যা কিনা এই শোধনাগারকে চালু রাখে।

কোন কোন প্ল্যান্টে হামলা হয়েছে?

গেল ৭ মার্চ শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে বলেছেন, আমেরিকা আর ইসরায়েল মিলে ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাঁর দেশের কাসেম আইল্যান্ড নামের একটি বড় দ্বীপের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস করে দিয়েছে।

এতে ওই দ্বীপের অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ পানি পাচ্ছে না। ওই মানুষগুলোকে পানির অভাবে এখন সেখান থেকে অন্যত্র সরে যেতে হবে।

আরাগচি বলেছেন, এটি মানবিকতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন। তিনি বলেছেন, ‘এই নজির যুক্তরাষ্ট্রই সৃষ্টি করল, ইরান নয়।’

আরাগচির বক্তব্যে একটি মারাত্মক হুমকির ইঙ্গিত আছে। সম্ভবত এর মধ্য দিয়ে তিনি বলে রাখলেন—এখন ইরান যদি মনে করে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি দেওয়া আরব দেশগুলোর ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালানো দরকার, তাহলে তারা সে ধরনের হামলা করে বসতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইরানকে দোষারোপ করা যাবে না, কারণ হামলার ‘এই নজির যুক্তরাষ্ট্রই সৃষ্টি করল, ইরান নয়।’

আরাগচির বক্তব্যের হুমকির সত্যতা দেখা গেছে তার পরদিন ৮ মার্চ রোরবার। কারণ ওইদিন বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় এক্স হ্যান্ডেলে বলেছে, ইরান তাদের একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দিয়েছে।

এখন ইরানে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লাগাতার হামলা চালাচ্ছে তাতে ইরান ইসরায়েলের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে টার্গেট করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি গাড়তে দেওয়া আরব দেশগুলোর প্ল্যান্টগুলোও তার হামলার মুখে পড়ে যেতে পারে।

এর আগে ইরান দুবাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের কাছাকাছি আঘাত হেনেছে। তারা ২ মার্চ দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে হামলা চালায়।

বন্দরটি একটি বিশাল কমপ্লেক্সর কাছে। এই কমপ্লেক্সে ৪৩টি ডিস্যালিনেশন ইউনিট আছে। সেগুলো প্রতি বছর শহরের জন্য ১৬ হাজার কোটি গ্যালনেরও বেশি লবনমুক্ত পানি উৎপাদন করে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এফ-১ বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্র এবং কুয়েতের দোহা ওয়েস্ট প্ল্যান্টেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ফুজাইরাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বিশ্বের বৃহত্তম ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোর একটিকে চালু রাখতে সহায়তা করে।

এখন ইরানে যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লাগাতার হামলা চালাচ্ছে তাতে ইরান ইসরায়েলের ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলোকে টার্গেট করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি গাড়তে দেওয়া আরব দেশগুলোর প্ল্যান্টগুলোও তার হামলার মুখে পড়ে যেতে পারে।

একসময় পানিসংকটে জর্জরিত ছিল ইসরায়েল। কিন্তু এখন দেশটির পানিনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো ডিস্যালিনেশন। ভূমধ্যসাগর উপকূলে তাদের পাঁচটি বৃহৎ প্ল্যান্ট আছে।

পানি যেখানে পানির মতো সহজ না:

মধ্যপ্রাচ্যে নদী কম। বৃষ্টি কম। কিন্তু মানুষ অনেক। আধুনিক শহর, শিল্প, পর্যটন—এসবের কারণে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি এখানে বিপুল পরিমানে বিদেশি কর্মী ও পর্যটক থাকেন।

এই কোটি কোটি মানুষের খাওয়া থেকে শৌচকাজ, শিল্প থেকে কৃষি—সবই টিকে আছে সাগরের পানি লবণমুক্ত করা প্রযুক্তির ওপর।

জিআরসির তথ্য বলছে, বিশ্বে মোট যে পরিমাণ পানি লবনমুক্ত বা ডিস্যালানাইজ করা হয় তার ৬০ শতাংশ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন এবং ওমান।

এই দেশগুলোতে খাবার পানির প্রধান উৎস হলো সাগরের পানি। আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসির ‘দ্য কস্টস অ্যান্ড বেনিফিটস অব ওয়াটার ডিস্যালিনেশন ইন দ্য গালফ’ শিরোনামের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, কুয়েতের খাবার পানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে ডিস্যালিনেশন থেকে।

একইভাবে ওমানের ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবের ৭০ শতাংশ খাবার পানি আসে এই প্রযুক্তি থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের খাবার পানিসহ গৃহস্থালি ব্যবহারের পানির প্রায় ৯৬ শতাংশ আসে এই প্রযুক্তি থেকে।

এই অঞ্চলের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোকে ‘পেট্রো-স্টেট’ বলা হয়। কিন্তু তাদের এখন ‘ল্যান্ড অব সল্ট ওয়াটার’ বলা যায়। কারণ তারা এখন নোনা পানি থেকে মিঠা পানি উৎপাদনের বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে উঠেছে।

ডিস্যালিনেশন প্রযুক্তি দিয়ে তারা এখন মরুভূমির মধ্যে গলফ কোর্স, ফোয়ারা, ওয়াটার পার্ক, এমনকি কৃত্রিম তুষার দিয়ে তৈরি ইনডোর স্কি ঢাল পর্যন্ত গড়ে তুলেছে।

দুনিয়ার সবচেয়ে বড় দশটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের আটটিই রয়েছে আরব উপদ্বীপে। বাকি দুটি আছে ইসরায়েলে। আরব উপদ্বীপের দেশগুলোর হাতে রয়েছে বিশ্বের মোট ডিস্যালিনেশন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ।

আর ইরানের কাছাকাছি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের তীরবর্তী প্ল্যান্টগুলো উৎপাদন করে বিশ্বের ৩০ শতাংশের বেশি লবণমুক্ত পানি।

উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এসব ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। এগুলো না থাকলে কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে-এমনকি সৌদি আরবের অনেক অঞ্চলে আধুনিক কায়দায় বসবাস করা সম্ভব হতো না।

এই বাস্তবতা বোঝায়, ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট এখন আর শুধু শিল্প স্থাপনা নয়; এটি আধুনিক মরুভূমি সভ্যতার জীবনরেখা।

আবুধাবীতে মরুর বুকে কৃত্রিমভাবে গড়ে তোরা হয়েছে স্কি রিসোর্ট।

ইসরায়েল: প্রযুক্তি দিয়ে পানির রাজনীতি বদল

একসময় পানিসংকটে জর্জরিত ছিল ইসরায়েল। কিন্তু এখন দেশটির পানিনীতির কেন্দ্রবিন্দু হলো ডিস্যালিনেশন। ভূমধ্যসাগর উপকূলে তাদের পাঁচটি বৃহৎ প্ল্যান্ট আছে।

সেগুলো হলো: আশকেলন ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, হাদেরা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, সোরেক ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট, পালমাখিম ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ও আশদোদ ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট।

বর্তমানে ইসরায়েলের গৃহস্থালি পানির প্রায় ৫০–৬০ শতাংশ সরাসরি ডিস্যালিনেশন থেকে আসে। নতুন আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। সেগুলো চালু হলে এই হার ৮৫–৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। যে ইসরায়েল এক সময় সবচেয়ে বেশি পানি সংকটে ছিল, ডিস্যালিনেশনের কল্যানে এখন তারা পানির দিক থেকে সবচেয়ে আত্মনির্ভর দেশ।

যদি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস হয়?

যুদ্ধের সময় একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ধ্বংস হওয়া মানে কেবল একটি স্থাপনা নষ্ট হওয়া নয়। এর সাথে বহু কিছু জড়িত। তাই এর প্রভাব পড়বে বহু ক্ষেত্রে।

সৌদি আরবের উপসাগর উপকূলে অবস্থিত জুবাইল ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট–এর কথাই ধরা যাক। এই প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে রাজধানী রিয়াদে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়।

২০০৮ সালে রিয়াদ থেকে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন কূটনৈতিক নথিতে বলা হয়েছিল, জুবাইল ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট রিয়াদের পানীয় জলের ৯০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ করে।

যদি এই প্ল্যান্ট, এর পাইপলাইন বা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অবকাঠামো গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে রাজধানী শহরটিকে এক সপ্তাহের মধ্যেই খালি করতে হতে পারে।

নথিতে আরও বলা হয়েছিল, ‘জুবাইল ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট ছাড়া বর্তমান কাঠামোর সৌদি সরকার টিকে থাকতে পারবে না।’

একইভাবে, যদি ইসরায়েলের প্ল্যান্টগুলোর একটি বড় আঘাতে অচল হয়ে যায়, তাহলে কয়েক কোটি মানুষের পানির সরবরাহে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হবে। যদিও দেশটি পানি পুনর্ব্যবহার ও বিকল্প ব্যবস্থায় দক্ষ, তবু দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন একটি জাতীয় সংকটে রূপ নেবে।

উপসাগরীয় ছোট দেশগুলোর ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও ভয়াবহ। কারণ সেখানে প্রাকৃতিক নদী বা হ্রদ নেই। কোনো বড় প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই নগর জীবনে বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। সেই বিপর্যয়ের ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে সারা দুনিয়াতে।

  • সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর সহকারী সম্পাদক
    ই–মেইল: sarfuddin2003@gmail.com