সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে আর্মি এভিয়েশন স্টলে রাখা একটি ড্রোন।
সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে আর্মি এভিয়েশন স্টলে রাখা একটি ড্রোন।

অভিমত

প্রতিরক্ষা খাতের সংস্কারে এত ধীরগতি কেন

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা ভাবার সময় কোনো দেশ শুধু সামরিক সক্ষমতা দেখে না। অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া কতটা নির্ভরযোগ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা কতটা সুশৃঙ্খল, প্রতিষ্ঠানের সততা কতটা দৃঢ় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা ধারাবাহিক, এসব বিষয়ও সহযোগিতার ধরন নির্ধারণ করে। সে অর্থে সুশাসন এখন কৌশলগত সক্ষমতারও একটি মাপকাঠি। প্রতিরক্ষা খাতের সংস্কার নিয়ে লিখেছেন রিজওয়ান-উল-আলম

জননীতির ক্ষেত্রে ১৪ বছর দীর্ঘ সময়। এ সময়ের মধ্যে একটি সমস্যা চিহ্নিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা যায় এবং সমাধানের পথে দৃশ্যমান অগ্রগতিও দেখানো সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের সুশাসনের চিত্রে এখনো অস্বস্তিকর ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্য ২০১২, ২০১৫ ও ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাত মূল্যায়ন করেছে। তিনবারই বাংলাদেশ ‘উচ্চ দুর্নীতির ঝুঁকি’র শ্রেণিতে থেকেছে।

এই দুর্বলতাগুলো নিয়ে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার। কারণ, প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা বাংলাদেশের নিজের স্বার্থেই প্রয়োজন। এ সমস্যাকে শুধু সক্ষমতার ঘাটতি বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অগ্রাধিকার স্পষ্ট হলে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী যে জটিল সাংগঠনিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে পারে, তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আধুনিকায়ন, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রম এবং পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তারা সফলভাবে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছে।

২.

তাহলে প্রতিরক্ষা খাতের সুশাসন সংস্কারে এত ধীরগতি কেন? প্রশ্নটি এখন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। কারণ, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা ২০২৭ সালে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের অনেক দেশীয় চ্যাপ্টারের মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যই প্রতিরক্ষা খাতের সুশাসন নিয়ে কাজ করে। ন্যাটোর সঙ্গেও তাদের কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

সংসদীয় তদারকি হতে পারে সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। প্রতিরক্ষা খাতের কার্যক্রম পর্যালোচনার সাংবিধানিক ব্যবস্থা বাংলাদেশে রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও আছে। তবে শুধু একটি কমিটির অস্তিত্বই কার্যকর তদারকির নিশ্চয়তা দেয় না। আসল প্রশ্ন হলো, প্রতিরক্ষা ব্যয়, সরঞ্জাম কেনাকাটা ও নীতি যথাযথভাবে পর্যালোচনা করার মতো তথ্য ও বিশেষায়িত জ্ঞান সংসদ সদস্যদের কাছে আছে কি না।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাধারণ সরকারি কেনাকাটার সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতের ক্রয়প্রক্রিয়ার পার্থক্য রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু তথ্য গোপন রাখার প্রয়োজন হতে পারে। কোনো কোনো প্রযুক্তির সরবরাহকারীও খুব সীমিত। আবার কৌশলগত সম্পর্ক অনেক সময় কেনাকাটার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

কিন্তু গোপনীয়তা ও জবাবদিহি পরস্পরের বিপরীত নয়। প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিশেষ পরিস্থিতির জন্য রাখা ব্যতিক্রম যেন নিয়মিত চর্চায় পরিণত না হয়। যেখানে প্রতিযোগিতার সুযোগ আছে, সেখানে প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং সিদ্ধান্তের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে। আর যেখানে একক উৎস থেকে কেনাকাটা অপরিহার্য, সেখানে সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা, অনুমোদন ও নিরীক্ষার ব্যবস্থা আরও কঠোর হওয়া দরকার।

বাংলাদেশের সামনে মূল কাজটি হলো গোপনীয়তা ও জবাবদিহির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রতিরক্ষা স্বচ্ছতা ও সুশাসনবিষয়ক একটি ছোট সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেল নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয়, কেনাকাটার প্রবণতা, নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে অসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

৩.

জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমও বাংলাদেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। কয়েক দশক ধরে শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের হাজারো সদস্য বিদেশে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় দেশের সবচেয়ে দৃশ্যমান অবদানগুলোর একটি এখন এই শান্তি রক্ষা কার্যক্রম।

শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই শান্তিরক্ষীদের প্রস্তুতিতে সততা ও জবাবদিহির বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে যুক্ত করা দরকার। বিদেশে মোতায়েনের আগে দেওয়া প্রশিক্ষণে দুর্নীতির ঝুঁকি মোকাবিলা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং বা বিপসট একটি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে পারে।

এসব উদ্যোগ নিতে সামরিক অভিযানের গোপন তথ্য প্রকাশের কোনো প্রয়োজন নেই। প্রতিরক্ষা খাতে স্বচ্ছতার অর্থ সংবেদনশীল সামরিক তথ্য জনসমক্ষে নিয়ে আসা নয়। সামরিক পরিকল্পনা গোপন রেখেই সরকার প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রধান খাতগুলো প্রকাশ করতে পারে। গোপনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করেও ক্রয়প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা সম্ভব। একইভাবে নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখেই নিরীক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে জনগণকে আরও বেশি তথ্য দেওয়া যায়।

সংস্কার শুরু করতে রাতারাতি পুরো কাঠামো বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। আরও বেশি প্রকাশযোগ্য তথ্য সরবরাহ, সংসদের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্রয়পদ্ধতি সুস্পষ্ট করা, নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণে সততা ও জবাবদিহির বিষয় যুক্ত করা—এসব পদক্ষেপই পরিবর্তনের সদিচ্ছা ও দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে পারে।

বাংলাদেশের সামনে মূল কাজটি হলো গোপনীয়তা ও জবাবদিহির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রতিরক্ষা স্বচ্ছতা ও সুশাসনবিষয়ক একটি ছোট সেল গঠন করা যেতে পারে। এই সেল নিয়মিতভাবে প্রতিরক্ষা ব্যয়, কেনাকাটার প্রবণতা, নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগ সম্পর্কে অসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটকেও আরও তথ্যসমৃদ্ধ ও জনবান্ধব করা প্রয়োজন। বাজেট বরাদ্দ, ক্রয়পদ্ধতি, নারীর অংশগ্রহণ, সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং প্রকাশযোগ্য নিরীক্ষা তথ্য সেখানে সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত।

সংসদীয় সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পেশাগত সহায়তা ছাড়া প্রতিরক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্যদের কাছ থেকে সামরিক বাজেট, প্রতিরক্ষা ক্রয়ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা অর্থনীতির মতো জটিল বিষয়ে পূর্ণ দক্ষতা আশা করা বাস্তবসম্মত নয়। স্বাধীন বিশ্লেষণী সহায়তা ও কারিগরি ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা গেলে সামরিক বাহিনীর পরিচালনাগত কর্তৃত্বে হস্তক্ষেপ না করেই সংসদীয় তদারকি আরও কার্যকর করা সম্ভব।

৪.

প্রতিরক্ষা ক্রয়ব্যবস্থার সংস্কারকে সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে। ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’–এর আওতায় বাংলাদেশ সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। সুশাসনের সংস্কার এই আধুনিকায়নের বাধা নয়; বরং এর অপরিহার্য অংশ।

বর্তমান সরকারি ক্রয়নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিরক্ষা ক্রয় বিধিমালা পুনর্বিবেচনা করা তাই জরুরি। এর অর্থ সামরিক কেনাকাটার ওপর হুবহু বেসামরিক ক্রয়বিধি চাপিয়ে দেওয়া নয়। এমন একটি কাঠামো দরকার, যেখানে নিরাপত্তার যৌক্তিক ব্যতিক্রমগুলো স্বীকৃতি পাবে। একই সঙ্গে যেখানে সম্ভব, প্রতিযোগিতা, নথি সংরক্ষণ, পর্যালোচনা ও নিরীক্ষার মানও বাড়বে।

প্রতিরক্ষা সম্পদের স্বাধীন নিরীক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। সম্পদ নিষ্পত্তির প্রকাশযোগ্য নথি সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি যথাযথ সংসদীয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দেবে, এমন একটি অন্তর্বর্তী বাহ্যিক নিরীক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব। এতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন না করেও জবাবদিহি বাড়ানো যাবে।

এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার একটি কৌশলগত কারণও রয়েছে। বাংলাদেশ ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এশিয়াজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ছে, কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে এবং ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রধান শক্তিগুলোর তৎপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

৫.

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার কথা ভাবার সময় কোনো দেশ শুধু সামরিক সক্ষমতা দেখে না। অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া কতটা নির্ভরযোগ্য, আর্থিক ব্যবস্থাপনা কতটা সুশৃঙ্খল, প্রতিষ্ঠানের সততা কতটা দৃঢ় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা ধারাবাহিক, এসব বিষয়ও সহযোগিতার ধরন নির্ধারণ করে। সে অর্থে সুশাসন এখন কৌশলগত সক্ষমতারও একটি মাপকাঠি।

দেশের প্রতিরক্ষা সম্পদ যথাযথভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে। প্রতিরক্ষা ব্যয় পর্যালোচনার দায়িত্ব সংসদের। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল নয়, এমন তথ্য পাওয়ার যৌক্তিক সুযোগ সাংবাদিক ও গবেষকদের থাকা উচিত।

জবাবদিহি সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে না; বরং প্রতিষ্ঠানকে আরও সুরক্ষিত করে। গুজব, অনুমাননির্ভর আলোচনা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্যের বিকল্প নেই। তথ্য না থাকলে সেই শূন্যস্থান জল্পনাই পূরণ করে। স্বচ্ছতা তাই শুধু সুশাসনের বিষয় নয়, প্রতিষ্ঠানের জনযোগাযোগ ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় এই দিকটির গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের প্রতিটি সূচক বা মূল্যায়নপদ্ধতি বাংলাদেশকে বিনা প্রশ্নে মেনে নিতে হবে, এমন নয়। কোনো আন্তর্জাতিক মূল্যায়নই নিখুঁত নয়। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়, এমন ধারণা বা অনুমানকে জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো অবশ্যই প্রশ্ন করতে পারে।

কিন্তু মূল্যায়নপদ্ধতি নিয়ে মতভেদকে প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ না নেওয়ার অজুহাত করা উচিত নয়। কোনো মূল্যায়ন ভুল হলে বাংলাদেশকে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে তা দেখাতে হবে। আর কোনো দুর্বলতা সঠিকভাবে চিহ্নিত হলে সেটি দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। নীরবতার চেয়ে তথ্যপ্রমাণ সব সময় বেশি গ্রহণযোগ্য।

৬.

বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পালাবদল সংস্কারের একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। নতুন সংসদ ও পরিবর্তিত নেতৃত্বের সামনে দুটি পথ রয়েছে। তারা চাইলে পুরোনো চর্চার পুনরাবৃত্তি করতে পারে, আবার চাইলে নতুন মানদণ্ড ও প্রত্যাশাও প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

সংস্কার শুরু করতে রাতারাতি পুরো কাঠামো বদলে ফেলার প্রয়োজন নেই। আরও বেশি প্রকাশযোগ্য তথ্য সরবরাহ, সংসদের গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্রয়পদ্ধতি সুস্পষ্ট করা, নিরীক্ষার সুপারিশ বাস্তবায়নে নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণে সততা ও জবাবদিহির বিষয় যুক্ত করা—এসব পদক্ষেপই পরিবর্তনের সদিচ্ছা ও দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করতে পারে।

সংস্কারের সবচেয়ে বড় কারণ আন্তর্জাতিক চাপ নয়, যেমনটি যুক্তরাষ্ট্র ১০ দিন আগে সরকারি ক্রয়চুক্তির তথ্য প্রকাশ করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশের নিজের স্বার্থেই এমন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যা পেশাদারভাবে পরিচালিত, আর্থিকভাবে জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্বাসযোগ্য।

সমস্যা চিহ্নিত করার মতো তথ্যপ্রমাণ বহু বছর ধরেই রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অধিকাংশও আছে। এখন দরকার সিদ্ধান্ত নেওয়া। ২০২৭ সালে পরবর্তী মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে মূল প্রশ্নটি বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে যেতে পেরেছে কি না, তা নয়। আসল প্রশ্ন হবে, ১৪ বছর ধরে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রতিরক্ষা খাতের সুশাসন শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে কি না। এই খাতের সংস্কারের ব্যাপারে বাংলাদেশের হাতে খুব বেশি সময় কি আছে?

  • রিজওয়ান-উল-আলম সহযোগী অধ্যাপক, মিডিয়া, কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগ, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

  • মতামত লেখকের নিজস্ব