আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে ‘গ্র্যাজুয়েট’ করবে—এ কথা এখন সর্বজনবিদিত। সরকারি বক্তব্য, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন এবং মূলধারার সংবাদমাধ্যম একে ‘উন্নয়নের মাইলফলক’ হিসেবে চিত্রিত করছে।
কিন্তু এই আপাতসফলতার আখ্যানের নিচে লুকিয়ে আছে এমন কিছু অস্বস্তিকর সত্য, যা কদাচিৎ আলোচিত হয়। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা থেকে শুরু করে শ্রমশোষণের ধরন, বৈষম্যের গভীরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠছে: আমরা কি সত্যিই প্রস্তুত, নাকি কেবল একটি ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করা হয়েছে?
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রথম ও সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি তথ্যের সততা নিয়ে। সাম্প্রতিক হোয়াইট পেপার এবং একাধিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপের মুখে বিকৃত হয়েছে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, জনসংখ্যা—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে প্রশ্ন উঠেছে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার আগে নির্ধারণ করা হতো, পরে ব্যাক ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে হিসাব মেলানো হতো।’ বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বারবার বাংলাদেশের সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে তাদের প্রাক্কলনের বড় পার্থক্য তুলে ধরেছে।
এই তথ্যসংকট কেবল একাডেমিক বিতর্ক নয়। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের তিনটি মানদণ্ড—মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক—প্রতিটিই নির্ভর করে এই তথ্যের ওপর। যদি ভিত্তিমূলক তথ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে ‘উত্তরণ’-এর দাবি কতটা সুদৃঢ়? জনসংখ্যার হিসাবেও বিতর্ক রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন প্রকৃত জনসংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি, যা মাথাপিছু আয়ের হিসাবকে কৃত্রিমভাবে উঁচু দেখায়।
দ্বিতীয় যে বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, তা হলো বাংলাদেশের রপ্তানি সাফল্যের প্রকৃত মূল্য কারা দিচ্ছে। তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি) মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশ এবং এই খাতই দেশকে এলডিসি থেকে বের হওয়ার যোগ্য করে তুলেছে—এই আখ্যান সর্বত্র শোনা যায়। কিন্তু খুব কমই আলোচিত হয় যে এই সাফল্য নির্মিত হয়েছে বিশ্বের সর্বনিম্ন মজুরির একটির ওপর।
নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় ও গুডউইভ ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ৩২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পোশাকশ্রমিক ন্যূনতম মজুরির চেয়েও কম পাচ্ছেন। শিশু শ্রমিক নিয়োগ—বিশেষত সাবকন্ট্রাক্ট ফ্যাক্টরিগুলোয়—এখনো চলমান। জরিপে অংশ নেওয়া শতভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক আইনবিরোধীভাবে নিয়োজিত ছিল।
এখানে একটি কাঠামোগত দ্বন্দ্ব স্পষ্ট: বাংলাদেশের ‘তুলনামূলক সুবিধা’ আসলে সস্তা শ্রম সরবরাহের ক্ষমতা। ইকোনমিকস অবজারভেটরি ভাষায়, ‘বাংলাদেশের বিশ্ববাজারে সাফল্য সর্বদা নির্ভর করেছে সর্বনিম্ন সম্ভাব্য শ্রম খরচ সরবরাহের ওপর।’ বর্তমান ন্যূনতম মাসিক মজুরি প্রায় ১১৩ ডলার, যেখানে স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয় অনুযায়ী ন্যূনতম ৪৬০ ডলার প্রয়োজন। এই ব্যবধান কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি লাখ লাখ পরিবারের দৈনন্দিন বঞ্চনার প্রতিফলন।
তৃতীয় অস্বস্তিকর সত্য হলো বৈষম্যের ক্রমবর্ধমান গভীরতা। প্যারিস স্কুল অব ইকোনমিকসের গ্লোবাল ইনইকুয়ালিটি রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবার মোট সম্পদের ৫৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, আর শীর্ষ ১ শতাংশ একাই প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অন্যদিকে নিচের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে মাত্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ সম্পদ। গত এক দশকে এই বৈষম্য কমেনি, বরং কিছুটা বেড়েছে। গিনি সহগ ২০১০ সালের শূন্য দশমিক ৪৬ থেকে ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৫৭-তে উন্নীত হয়েছে।
‘উন্নয়নের রোল মডেল’, ‘২০৪১ সালে উন্নত দেশ’—এই স্লোগানগুলো তৈরি হয়েছে এই গ্র্যাজুয়েশনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আখ্যান নির্মিত হয়েছিল, সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল? হোয়াইট পেপার বা শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, ‘উন্নয়নের গল্প পরিসংখ্যানগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যতিক্রমী ছিল, কিন্তু সেগুলো ছিল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’।
এই পরিসংখ্যানের রাজনৈতিক অর্থনীতি বোঝা জরুরি। বাংলাদেশের উন্নয়নকৌশল মূলত রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন ও ‘ট্রিকল-ডাউন’ তত্ত্বের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, প্রবৃদ্ধির সুফল ‘ট্রিকল আপ’ করেছে—নিচে নামেনি, বরং ওপরে উঠেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি যখন উচ্চ হারে দেখানো হচ্ছিল, তখনো কর্মসংস্থান বাড়ছিল না সেই অনুপাতে। এটি ‘জবলেস গ্রোথ’-এর ধ্রুপদি উদাহরণ।
চতুর্থ উপেক্ষিত বিষয় হলো এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী ওষুধশিল্পের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত দেশের ৯৮ শতাংশ ওষুধের চাহিদা মেটায় এবং ১৫০টির বেশি দেশে রপ্তানি করে। এই সাফল্যের পেছনে আছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ট্রিপস চুক্তির বিশেষ ছাড়, যা এলডিসি দেশগুলোকে পেটেন্ট ওষুধ অনুকরণ করে জেনেরিক তৈরির অনুমতি দেয়। গ্র্যাজুয়েশনের পর এই ছাড় শেষ হবে ২০২৬ সালে, যদিও মূল মেয়াদ ছিল ২০৩৩ সাল পর্যন্ত। এর ফলে ইনসুলিন, ক্যানসারের ওষুধসহ জীবনরক্ষাকারী ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
পঞ্চম যে বিষয় খুব কমই আলোচিত হয়, তা হলো জলবায়ু অর্থায়নের সংকট। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, অথচ বৈশ্বিক নির্গমনে এর অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এলডিসি থাকাকালে বাংলাদেশ গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড, এলডিসিএফসহ বিভিন্ন তহবিল থেকে রেয়াতি হারে অর্থায়ন পেয়েছে। গ্র্যাজুয়েশনের পর এই সুবিধা কমবে বা বন্ধ হবে। আইএমএফের প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশ রেয়াতি জলবায়ু অর্থায়নে প্রবেশাধিকার হারাতে পারে।’ একই সময়ে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৮ থেকে ৯ শতাংশ—উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় ১৫ শতাংশের অনেক নিচে। এ পরিস্থিতিতে জলবায়ু অভিযোজনের বিপুল ব্যয় কীভাবে বহন করা হবে?
ষষ্ঠ এবং সম্ভবত সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের রাজনৈতিক ব্যবহার। বিগত সরকার এই ‘উত্তরণ’-কে তাদের উন্নয়ন আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যবহার করেছে।
‘উন্নয়নের রোল মডেল’, ‘২০৪১ সালে উন্নত দেশ’—এই স্লোগানগুলো তৈরি হয়েছে এই গ্র্যাজুয়েশনকে কেন্দ্র করে। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে, যে তথ্যের ভিত্তিতে এই আখ্যান নির্মিত হয়েছিল, সেই তথ্য কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল? হোয়াইট পেপারে বলা হয়েছে, ‘উন্নয়নের গল্প পরিসংখ্যানগত দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যতিক্রমী ছিল, কিন্তু সেগুলো ছিল জনগণের সঙ্গে প্রতারণা’।
সপ্তম অগোচর বিষয় হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার গভীর ঘাটতি। বিশ্বব্যাংকের সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রণমূলক গুণমান এবং সরকারি কার্যকারিতায় বেশ পিছিয়ে। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যবসায়িক পরিবেশ এখনো জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ। একজন বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন, ‘যখন সংস্কারের কথা আসে, গতি যন্ত্রণাদায়কভাবে ধীর এবং এখানেই প্রকৃত ঝুঁকি।’ গ্র্যাজুয়েশনের প্রস্তুতি স্কোর ১০-এর মধ্যে মাত্র ৪ দশমিক ২।
অষ্টম উপেক্ষিত দিক হলো রপ্তানি বহুমুখীকরণের ব্যর্থতা। দশকের পর দশক ধরে রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথা বলা হলেও বাস্তবে মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশ এখনো তৈরি পোশাক থেকে আসে। চামড়া, আইটি, হালকা প্রকৌশল—কোনো খাতই প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। রপ্তানির গন্তব্যও সীমিত: মাত্র ৯ থেকে ১০টি দেশে যায় বেশির ভাগ রপ্তানি। আরও উদ্বেগের বিষয়, মোট রপ্তানিকারকের ৯৩ শতাংশ নিম্ন প্রযুক্তির উৎপাদক, যেখানে ভিয়েতনাম ও ভারতে এই হার যথাক্রমে ৩৩ ও ২১ শতাংশ।
নবম বিষয়টি ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েশন ঘটছে এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা নিজেই সংকটে। যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্কনীতি, ইউরোপের কার্বন সীমান্ত সমন্বয় (সিবিএএম) এবং সামগ্রিকভাবে সংরক্ষণবাদী প্রবণতা—সবকিছু বাংলাদেশের রপ্তানিনির্ভর মডেলকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ও ভূ–অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা—এ দুই বিঘ্নকারী শক্তির সংযোগ বাংলাদেশের উন্নয়ন পথে এক যৌগিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’
দশম এবং সম্ভবত সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন হলো: এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন কার জন্য? যে শ্রমিক এখনো জীবনধারণ মজুরির চার ভাগের এক ভাগ পান, তাঁর জীবনে এই ‘উত্তরণ’ কী পরিবর্তন আনবে? যে কৃষক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তার জন্য রেয়াতি অর্থায়ন বন্ধ হলে কী হবে? যে রোগী সাশ্রয়ী মূল্যে জেনেরিক ওষুধ কিনতেন, ট্রিপস সম্মতির পর তাঁর খরচ কতটা বাড়বে? এ প্রশ্নগুলো মূলধারার আলোচনায় প্রায়ই অনুপস্থিত।
প্রকৃতপক্ষে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন একটি প্রশাসনিক শ্রেণিবিভাগ মাত্র। এটি একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের উন্নতি বা কাঠামোগত রূপান্তরের সূচক নয়। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি নিজেই স্বীকার করেছে যে গ্র্যাজুয়েশনের মানদণ্ডগুলো ‘অনেক অন্তর্নিহিত দুর্বলতা ধরতে পারে না—কাঠামোগত দুর্বলতা, দুর্বল শিল্প ভিত্তি, নিম্ন দক্ষতা, শ্রম ও পুঁজির নিম্ন উৎপাদনশীলতা’। তা ছাড়া, গড় সংখ্যা বিপুল বৈষম্যকে আড়াল করে।
সমালোচকেরা প্রায়ই যুক্তি দেন, গ্র্যাজুয়েশন স্থগিত করা উচিত। কিন্তু এই যুক্তিতেও সমস্যা আছে। স্থগিত করলে বাংলাদেশ এই অঞ্চলে শুধু আফগানিস্তানের সঙ্গে এলডিসি তালিকায় থাকবে—এটি আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য সুখকর নয়; বরং প্রকৃত প্রয়োজন হলো গ্র্যাজুয়েশনকে সামনে রেখে কাঠামোগত সংস্কার ত্বরান্বিত করা এবং যে সুবিধাগুলো হারাচ্ছি, তার বিকল্প খুঁজে বের করা।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে আলোচনায় একটি বড় অনুপস্থিতি হলো ‘কার উন্নয়ন’-এর প্রশ্ন। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মূলত একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির হাতে সম্পদ কেন্দ্রীভূত করেছে। অবৈধ আর্থিক প্রবাহ, মূলধন পাচার, কর ফাঁকি—এগুলো নিয়ে আলোচনা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ সীমিত। আল–জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্যান্ডোরা পেপারসে ১১ জন বাংলাদেশির নাম এসেছে, যাঁরা অফশোর অ্যাকাউন্টে সম্পদ লুকিয়ে রেখেছেন। এই পলায়নকৃত সম্পদ যদি দেশে থাকত, তাহলে উন্নয়নের চিত্র হয়তো ভিন্ন হতো।
পরিশেষে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনকে আমরা যদি সৎভাবে মূল্যায়ন করি, তাহলে এটি একই সঙ্গে একটি অর্জন এবং একটি সতর্কবার্তা। অর্জন এই অর্থে যে কিছু সূচকে অগ্রগতি হয়েছে, সতর্কবার্তা এই অর্থে যে এই অগ্রগতির ভিত্তি নড়বড়ে। তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ, প্রবৃদ্ধি অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়, শ্রমশোষণ অব্যাহত, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দুর্বল এবং বহুমুখীকরণ ব্যর্থ। এই বাস্তবতাগুলো স্বীকার করে সামনে এগোনোই হবে প্রকৃত পরিপক্বতার পরিচয়—কেবল গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেট নয়।
সত্যিকারের প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই ‘উত্তরণ’-কে একটি সূচনা হিসেবে দেখব, নাকি একটি গন্তব্য হিসেবে? যদি সূচনা হিসেবে দেখি, তাহলে এখনই শুরু করতে হবে কঠিন সংস্কার—করব্যবস্থায়, শ্রম অধিকারে, সুশাসনে, রপ্তানি বহুমুখীকরণে। যদি গন্তব্য হিসেবে দেখি, তাহলে আমরা কেবল একটি প্রশাসনিক লেবেল পরিবর্তন করব, আর বাস্তব সমস্যাগুলো আড়ালেই থেকে যাবে। সিদ্ধান্ত আমাদের।
সৈয়দ আবুল বাশার অর্থনীতিবিদ ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। ই-মেইল: syed.basher@gmail.com
*মতামত লেখকের নিজস্ব