প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

অভিমত–বিশ্লেষণ

ব্যারাজ–বিতর্ক: পদ্মা (গঙ্গা) ব্যারাজ প্রকল্পের পটভূমি

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পপ্রণেতারা দাবি করছেন যে এর ফলে গঙ্গানির্ভর এলাকার বিপুল উন্নতি ঘটবে। গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে সব পানি উন্নয়ন প্রকল্পের এ ধরনের বিপুল সাফল্যের দাবির কথা আমরা শুনে আসছি। পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে দুই পর্বে লিখেছেন নজরুল ইসলাম। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব

১৩ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের কার্যনির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গঙ্গা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বহু আগে থেকেই এ প্রকল্পের জন্য প্রয়াসী ছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে এটাকে গঙ্গা ব্যারাজ নাম দেওয়া হয়েছিল। কারণ, প্রথম থেকেই এটা ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি ভাগাভাগি ইস্যুর সঙ্গে জড়িত ছিল।

ভারতের অনেকের দৃষ্টিতে গঙ্গা শুধু ভাগীরথী দিয়ে কলকাতার দিকে চলে যায়। এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাদের সুবিধা হয়। কারণ, তখন গঙ্গার প্রবাহে বাংলাদেশের হিস্যা প্রত্যাখ্যান করা সহজ হয়। সে কারণে তারা অনেক সময় স্বীকার করতে চায় না যে গঙ্গার মূলস্রোত রাজশাহীর কাছে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং কেবল গোয়ালন্দে যমুনার সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর পদ্মা নাম ধারণ করে।

সুতরাং গঙ্গায় বাংলাদেশের হিস্যা আদায়ের ইস্যুর দৃষ্টিকোণ থেকে এটাকে গঙ্গা ব্যারাজ বলাই ভালো। অন্যদিকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ রাজশাহী থেকেই পদ্মার শুরু বলে মনে করেন। সে জন্য ইদানীং এটাকে পদ্মা ব্যারাজ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। 

২.

যে নামেই ডাকা হোক না কেন, চিন্তাটি একই এবং তা হলো রাজশাহী থেকে গোয়ালন্দের মাঝখানে কোথাও একটি স্থানে ব্যারাজ (কপাটসম্পন্ন বাঁধ) নির্মাণ করা, যাতে শুষ্ক মৌসুমে কপাট বন্ধ করে পানি ধরে রাখা যায় এবং তা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে গড়াই-মধুমতী এবং গঙ্গার অন্যান্য শাখার দিকে প্রবাহিত করা যায়।

ষাটের দশক থেকেই চিন্তাটি শুরু হয়। তবে ১৯৭৪ সালে ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণ করে গঙ্গার পানি ভাগীরথীর দিকে অপসারণ করা শুরু করলে বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানির উচ্চতা হ্রাস পায় এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে নদ–নদীগুলোর সংকট দেখা দেয়। ফলে বাংলাদেশের ভেতরে গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণের প্রয়াস আরও জোরালো হয়।

পাউবো একাধিক সমীক্ষা করায়। তবে সেগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মূলত কোথায় এই ব্যারাজ নির্মাণ করা শ্রেয় হবে, তা নির্ধারণ করা, ব্যারাজ নির্মাণ করা ঠিক হবে কি না, সেটার বস্তুনিষ্ঠ পরীক্ষা নয়। যা–ই হোক, সর্বশেষ ২০১৬ সালে পাউবো আরেকটি সমীক্ষা করিয়েছে এবং তাতে বর্ণিত প্রকল্প নিয়েই এখন অগ্রসর হচ্ছে।

লক্ষণীয়, ‘গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প’ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারে আমলে প্রণীত ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’–তেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেখানে এর বাজেট ধরা হয়েছিল ৫ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ বর্তমান মূল্যে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান বিএনপি সরকার সেই একই প্রকল্প নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। তবে সম্ভবত বাজেটকে ‘গ্রহণযোগ্য’ করার লক্ষ্যে প্রকল্পটিকে দুই পর্যায়ে ভাগ করেছে। আরেকটি বিষয়েও আগের সরকারের সঙ্গে মিল দেখা যায়। সেটা হলো গোপনীয়তা।

আগের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও জনগণকে জানা-বোঝা এবং মতপ্রকাশের সুযোগ না দিয়েই ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকার একটি এই মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছে। যে ‘সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’র (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ভিত্তিতে এ প্রকল্প অনুমোদিত হলো, সেটা কাউকে দেখার সুযোগ দেওয়া হলো না। সংসদেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলো না।

স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ ইত্যাদি যেসব প্রায় দুই বছর ধরে দেশবাসী শুনতে পেল, সেগুলো কি শুধু কথার কথাই ছিল?

৩.

গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পপ্রণেতারা দাবি করছেন যে এর ফলে গঙ্গানির্ভর এলাকার (দেশের দক্ষিণ–পশ্চিম অঞ্চল এবং রাজশাহী বিভাগের গঙ্গা-সংলগ্ন দক্ষিণাংশ) বিপুল উন্নতি ঘটবে। বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ করা যাবে এবং তার ফলে ধানের উৎপাদন প্রায় ২৪ লাখ টন বাড়বে। মাছের উৎপাদনও প্রায় ২ দশমিক ৫ লাখ টন বাড়বে।

এ ছাড়া মূল বাঁধে এবং গড়াইয়ের গ্রহণ-কাঠামোতে টারবাইন বসিয়ে যথাক্রমে ৭৬ দশমিক ৪ এবং ৩৬ দশমিক ৬ (অর্থাৎ মোট ১১৩) মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। সব মিলিয়ে বছরে ৭ হাজার ১২৭ কোটি টাকার ‘অর্থনৈতিক সুবিধা’ অর্জিত হবে। ফলে এ প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রতিদান হবে ১৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পটি অত্যন্ত লাভজনক হবে।

গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশক থেকে সব পানি উন্নয়ন প্রকল্পের এ ধরনের বিপুল সাফল্যের দাবির কথা আমরা শুনে আসছি। বাস্তবে এগুলোর কী পরিণতি হয়েছে, তা নিয়ে ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ: পাস্ট, প্রেজেন্ট অ্যান্ড ফিউচার (২০২২) নামে ৮২২ পৃষ্ঠার এবং বাংলাদেশে পানি উন্নয়ন: বর্তমান ধারার সংকট এবং বিকল্প পথের প্রস্তাব (২০২৩) নামে ৪৮১ পৃষ্ঠার বই লিখেছি। সুতরাং এখানে তার পুনরাবৃত্তিতে না গিয়ে প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজের ভালো–মন্দের দিকেই নজর দেব।

তবে সূচনায় একটি প্রশ্ন উত্থাপন না করলেই নয়। পাউবো, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী-পরামর্শক এবং প্রস্তাবিত ব্যারাজের অন্য সমর্থকদের মতে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের মূল সমস্যা হলো পানির অভাব এবং তাঁরা ব্যারাজ নির্মাণ করছেন এ অভাব ঘোচানোর জন্য।

কিন্তু বাস্তবে তো আমরা দেখছি যে দক্ষিণ-পশ্চিমের মূল সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। মানুষ সেখানে বছরের পর বছর পানিবন্দী। তাঁরা একটু শুকনো মাটিতে হাঁটতে পারেন না। দুর্বিষহ জীবন তাঁদের। মানুষ মারা গেলে কবর দেওয়ার জায়গা পাওয়াও কঠিন।

পানির অভাবই যদি মূল সমস্যা হয়ে থাকে, তাহলে তাঁদের আজ এই পানিবন্দী অবস্থা কেন? এটা কি এই প্রমাণ করে না যে ‘পানি ভবনের’ প্রকৌশলীরা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের সমস্যার মূল চরিত্রটাই বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন না?

স্পষ্টতই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে পানিস্বল্পতার চেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পানিনিষ্কাশনের সমস্যা। এ সমস্যা সৃষ্টি করেছে পাউবো। পাউবো বানিয়েছে পোল্ডার। এখন পোল্ডারের ভেতরের পানি আর নদীতে যেতে পারে না।

পাউবো বানিয়েছে স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর ইত্যাদি নামের অসংখ্য কাঠামো, যার ফলে প্রায় সব নদ–নদী প্রতিবন্ধকতা আর বিঘ্ন দ্বারা আকীর্ণ। অবরুদ্ধ নদ–নদীতে পলিপতনের ফলে এসব নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে অনেক ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী সড়কের সমান হয়ে গেছে। পুরো এলাকার নদীব্যবস্থা আজ বিপর্যস্ত।

পাউবোর ২০১৬ সালের সমীক্ষায় দেখা যায়, ১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৭-২০১০ সময়ে হার্ডিঞ্জ সেতুর নিচে জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন মাসে গঙ্গার গড় প্রবাহ ১৯৩৪-১৯৭৪ সালের (অর্থাৎ ফারাক্কা-পূর্ব সময়ের) একই মাসের গড় প্রবাহের ৯৩ দশমিক ৬ থেকে ১২১ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ ফারাক্কা দিয়ে অপসারণ হওয়া সত্ত্বেও এসব মাসে গঙ্গার প্রবাহে বড় ধরনের কমতি দেখা যায়নি। তাহলে প্রশ্ন হলো, গঙ্গার এই প্রবাহ বিভিন্ন শাখানদীতে ঠিকভাবে পৌঁছাল না কেন?

৪.

এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া এবং সমস্যার সমাধানে পাউবো তেমন আগ্রহী নয়। কারণ, প্রথমত, স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট, রেগুলেটর ইত্যাদি অপসারণ করতে হলে নিজের ভুল স্বীকার করতে হয়। সেটা তারা করতে ইচ্ছুক নয়। বরং তারা নিজেদের বিফল এবং বিকল হয়ে যাওয়া স্লুইসগেটগুলোকে স্থানীয় জনরোষের হাত থেকে রক্ষার জন্য সেগুলোর পাশে পুলিশ ফাঁড়ি বসিয়েছে।

পাউবোর কারণে যে গঙ্গার শাখাগুলো গঙ্গার পানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তার বড় প্রমাণ বড়াল নদ। এই নদের উৎসমুখে রাজশাহীর চারঘাটে পাউবো ১৯৮৪ সালে সর্বমোট ২৪ ফুট প্রশস্ত একটি স্লুইসগেট বসায়, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে এই উৎসমুখের প্রশস্ততা ছিল ৫০০ ফুটের বেশি।

পলিপতনের কারণে এই স্লুইসগেট অচল হয়ে পড়ে এবং বর্ষাকালেও গঙ্গা থেকে বড়ালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। জীবন্ত, সবল, সতেজ বড়াল নদ ‘মরা বড়ালে’ পরিণত হয়। ১৯৯৬ সালে আরও ভেতরে আটঘরিতে পাউবো বড়ালের ওপর মাত্র ৫ ফুট প্রশস্ত এক কপাটবিশিষ্ট আরেকটি স্লুইসগেট বসিয়ে এই নদের মৃত্যু নিশ্চিত করে।

স্থানীয় জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখেও পাউবো এসব স্লুইসগেট সরিয়ে বড়ালের পুনরুজ্জীবনে আগ্রহী হয়নি। বরং ২০ বছরের আন্দোলনের পর মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে এসব স্লুইসগেট অপসারণের সিদ্ধান্ত হলেও সমীক্ষা সম্পাদনের অজুহাতে পাউবো এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হতে দেয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টার চাপে পাউবো চারঘাটের স্লুইসগেটের কপাটগুলো নিচ থেকে কয়েক ফুট ওপরে তুলতে বাধ্য হয় এবং তাতেই গঙ্গা থেকে বড়ালে কলকল করে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। মৃত নদের হঠাৎ এরূপ জীবন্ত হওয়ার ‘অলৌকিক’ ঘটনা দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ চারঘাটের স্লুইসগেটের দুই পাশে ভিড় জমান। বড়ালের এই অলৌকিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করে যে পাউবোর স্লুইসগেটগুলোই বর্ষাকালে বড়ালে গঙ্গার পানি না পৌঁছানোর একমাত্র কারণ।

কিন্তু এই প্রমাণ সত্ত্বেও পাউবো এখনো এসব স্লুইসগেট সরাতে রাজি হয়নি। বরং পাউবো ২০১৫ সালে চারঘাটে আরেকটি স্লুইসগেট নির্মাণের প্রস্তাব করে এবং সে লক্ষ্যে ২০১৮ সালে তাদের পছন্দসই পরামর্শক সংস্থা দ্বারা পাউবো একটি সমীক্ষা প্রণয়ন করায়, যাতে পাউবোর ২০১৫ সালের প্রস্তাবকে সমর্থন করে সুপারিশ করা হয়। উল্লেখ্য, মূলত এই পরামর্শক সংস্থার সমীক্ষার ভিত্তিতেই পাউবো এখন গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইছে। 

৫.

বড়াল একটি উদাহরণমাত্র। বাংলাদেশে গঙ্গার প্রায় প্রতিটি শাখার ইতিহাস দেখায় কীভাবে মূলত পাউবোর কর্মকাণ্ডের জন্য গঙ্গা থেকে সেগুলোতে প্রবাহ কার্যত রুদ্ধ হয়ে যায়। গঙ্গার শাখাগুলোর পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে আন্তরিক হলে পাউবো এসব নদীর ওপর নির্মিত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে সেগুলোয় গঙ্গার প্রবাহ সুগম করত। কিন্তু পাউবো সে পথে হাঁটতে রাজি নয়। আপাতদৃষ্টিতে এর তিনটি কারণ।

প্রথমত, পাউবো প্রায় সম্পূর্ণভাবে একটি প্রকৌশলীনির্ভর সংস্থা। তাদের পেশাই হলো বিভিন্ন কাঠামো নির্মাণ। নদ–নদীকে অবারিত থাকতে দিলে তাদের পেশার উপযোগিতা হ্রাস পায়। ফলে তাদের কাজই হলো যেখানে কাঠামোর প্রয়োজন নেই, সেখানেও কাঠামো নির্মাণ করা।

দ্বিতীয়ত, যেসব কাঠামো তারা এর আগে নির্মাণ করেছে এবং সেগুলো ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোও তারা অপসারণে রাজি নয়; কারণ তাহলে তাদের ভুল প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হবে এবং ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব করা কঠিন হয়ে পড়বে।

তৃতীয়ত, কাঠামো নির্মাণ মানেই বাজেট পাওয়া এবং যত বড় কাঠামো তত বড় বাজেট। পক্ষান্তরে, ভ্রান্ত কাঠামো অপসারণে বাজেট কম।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে ৬৪ হাজার কোটি টাকার গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের চেয়ে আকর্ষণীয় আর কী হতে পারে? এই হলো প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ প্রকল্পের পটভূমি। পরবর্তী পর্বে আমরা এ প্রকল্পের ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনায় করব।

  • ড. নজরুল ইসলাম এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান

    মতামত লেখকের নিজস্ব