গত দুই দশকে বাংলাদেশ সরকার ডিজিটালাইজেশনে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, সংস্থা ও প্রকল্পের অধীনে তৈরি হয়েছে সফটওয়্যার, পোর্টাল, মোবাইল অ্যাপ, ডেটাবেজ ও ডিজিটাল সেবা। নাগরিকের কিছু সেবা অনলাইনে এসেছে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অনেক কাজও সফটওয়্যারনির্ভর হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে এখন প্রশ্ন শুধু আর কী কী সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, সরকারি সফটওয়্যারগুলো কোন জাতীয় আর্কিটেকচার, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও অভিন্ন নীতির ভিত্তিতে তৈরি হবে।
এসব বিষয় আগে নির্ধারণ না করে নতুন নতুন সফটওয়্যার তৈরি করা হলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা, তথ্য বিনিময় ও বিভিন্ন সিস্টেমের সমন্বয়ের খরচ বাড়তে পারে। পরে সফটওয়্যার পরিবর্তন বা পরিমার্জনও ব্যয়বহুল হতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশলে ভবিষ্যতের এ ধরনের ব্যয় ও জটিলতাকে প্রযুক্তিগত দায় বা টেকনিক্যাল ডেট বলা হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তিতে সফটওয়্যার তৈরি করবে, এটি স্বাভাবিক। কোনো সিস্টেম জাভায়, কোনোটি ডটনেটে, কোনোটি পাইথনে তৈরি হতে পারে। শুধু প্রোগ্রামিং ভাষার ভিন্নতা বড় সমস্যা নয়। সমস্যা তৈরি হয় যখন প্রতিটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, প্রকল্প বা ভেন্ডর নিজেদের মতো করে ডেটাবেজ, এপিআই, পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তাকাঠামো, অডিট লগ ও ডেটার সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
তখন আলাদা সফটওয়্যারগুলো নিজ নিজ কাজ ঠিকভাবে করলেও তাদের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও যৌথ ব্যবহারে অতিরিক্ত কাজের প্রয়োজন হয়। আজ একটি সফটওয়্যার ভালোভাবে কাজ করলেও পাঁচ বা দশ বছর পর সেটিকে অন্য সরকারি সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতে গেলে ডেটার সংজ্ঞা, পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা, এপিআই ও ডেটাবেজের কাঠামোর পার্থক্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তখন ইন্টিগ্রেশন নিজেই আলাদা প্রকল্পে পরিণত হতে পারে।
বিষয়টি একটি শহরের সঙ্গে তুলনা করা যায়। একটি শহরের হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, শপিং মল ও বাসাবাড়ির নকশা এক হবে না। কিন্তু রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি, অগ্নিনিরাপত্তা ও ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিন্ন কিছু নিয়ম প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভবন নির্মাণের জন্য যেমন বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বা বিএনবিসি আছে, সরকারি সফটওয়্যারের ক্ষেত্রেও তেমন একটি রেফারেন্স কাঠামো প্রয়োজন হতে পারে। এটি বিএনবিসির সরাসরি সমতুল্য নয়; বরং সফটওয়্যার উন্নয়ন, ক্রয়, নিরাপত্তা, তথ্য বিনিময় ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি জাতীয় কাঠামো।
সরকার এখন ডেটা ইন্টার–অপারেবিলিটিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনের একটি মৌলিক দুর্বলতা হলো, এর শুরুটা কোনো সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল আর্কিটেকচার বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে হয়নি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করেছে।
ফলে একটি নির্দিষ্ট কাজ অটোমেশন করা বা কোনো সেবা অনলাইনে নিয়ে আসাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু সফটওয়্যারটি ভবিষ্যতে কীভাবে টিকে থাকবে, অন্য সিস্টেমের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবে, তার ডেটা কীভাবে পুনর্ব্যবহার হবে এবং দীর্ঘ মেয়াদে কে এটি রক্ষণাবেক্ষণ করবে, এসব প্রশ্ন অনেক ক্ষেত্রে শুরুতে যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
এর ফল হলো সফটওয়্যার সাইলো। এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; আর্কিটেকচার ও গভর্ন্যান্সের সমস্যাও। এখন শুধু একটি ইন্টার–অপারেবিলিটি লেয়ার বসিয়ে সব সমস্যার সমাধান করা যাবে না। অভিন্ন ডেটা স্ট্যান্ডার্ড, এপিআই স্ট্যান্ডার্ড, পরিচয়কাঠামো, নিরাপত্তানীতি ও জাতীয় সফটওয়্যার আর্কিটেকচার ছাড়া বিচ্ছিন্ন সিস্টেমগুলোকে শুধু পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করলে ‘কানেক্টেড সাইলো’ তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ সিস্টেমগুলো প্রযুক্তিগতভাবে যুক্ত থাকবে, কিন্তু ডেটার অর্থ, কাঠামো, নিরাপত্তা ও পরিচালনার নিয়মে বিচ্ছিন্ন থাকবে। ইন্টার–অপারেবিলিটি তাই আর্কিটেকচারের বিকল্প নয়; এটি একটি সুপরিকল্পিত আর্কিটেকচারের অংশ।
জাতীয় সফটওয়্যার আর্কিটেকচারে নির্ধারণ করতে হবে সরকারি সফটওয়্যারের মূল কাঠামো কী হবে, কোন কম্পোনেন্ট পুনর্ব্যবহার করা যাবে, সিস্টেমগুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কোন সক্ষমতা কেন্দ্রীয়ভাবে থাকবে। এর অর্থ সব সফটওয়্যার একই প্রযুক্তিতে তৈরি করা নয়; বরং ভিন্ন প্রযুক্তিতে তৈরি সফটওয়্যারগুলো যেন একই ডিজিটাল সরকারের অংশ হিসেবে কাজ করতে পারে, সেই ভিত্তি তৈরি করা।
এর সঙ্গে প্রয়োজন জাতীয় সফটওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড। সরকারি অর্থে তৈরি সফটওয়্যারের কোডের মান, ডকুমেন্টেশন, ভার্সনিং, টেস্টিং, লগিং, ব্যাকআপ, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার, স্কেলেবিলিটি, সোর্স কোড সংরক্ষণ এবং প্রকল্প শেষে হস্তান্তর ও রক্ষণাবেক্ষণের ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে ভিন্ন ভেন্ডরের তৈরি সফটওয়্যারের মানে বড় পার্থক্য কমবে।
এরপর গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ডেটা স্ট্যান্ডার্ড। নাগরিক, প্রতিষ্ঠান, ঠিকানা, ভূমি, ব্যবসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সংজ্ঞা ও কাঠামোয় সামঞ্জস্য না থাকলে শুধু সিস্টেম যুক্ত করলেই কার্যকর ইন্টার–অপারেবিলিটি তৈরি হবে না। একই তথ্য যদি সরকারের একাধিক ডেটাবেজে ভিন্নভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং কোনটি নির্ভরযোগ্য মূল উৎস তা নির্ধারিত না থাকে, তাহলে প্রযুক্তিগত সংযোগ বাড়লেও তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে না।
প্রয়োজন জাতীয় এপিআই স্ট্যান্ডার্ডও। সরকারি এপিআই কীভাবে তৈরি, নথিভুক্ত ও সংস্করণ করা হবে, কীভাবে পরিচয় যাচাই ও অনুমোদন হবে, নিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত কী হবে এবং পুরোনো এপিআই কীভাবে ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে—এসবের অভিন্ন নিয়ম থাকা দরকার। একটি কেন্দ্রীয় এপিআই ক্যাটালগ থাকলে কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে কোন তথ্য বা সেবা পাওয়া যায়, তা অন্য প্রতিষ্ঠান সহজে জানতে পারবে।
বাংলাদেশের সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—নতুন ডিজিটালব্যবস্থা কি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে তৈরি হবে, নাকি একটি নিরাপদ, সমন্বিত ও নমনীয় জাতীয় আর্কিটেকচারের অধীনে গড়ে উঠবে। এ জন্য জাতীয় সফটওয়্যার আর্কিটেকচার ও জাতীয় সফটওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নকে নীতিগত অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল পরিচয়ের ব্যবস্থাকেও এই কাঠামোর অংশ করতে হবে। প্রতিটি সফটওয়্যারে আলাদা লগইনের বদলে অভিন্ন ডিজিটাল পরিচয়, সিঙ্গেল সাইন-অন এবং ভূমিকা ও অনুমতিভিত্তিক প্রবেশাধিকার বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে পরিচয়ের ব্যবস্থার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণে গোপনীয়তা, অপব্যবহার ও একক ব্যর্থতার ঝুঁকি রয়েছে। তাই শক্তিশালী অডিট, বিকল্প প্রবেশপথ ও প্রয়োজনীয় বিকেন্দ্রীকরণ দরকার।
সাইবার নিরাপত্তাকে সফটওয়্যার তৈরির শেষ ধাপের পরীক্ষা হিসেবে না দেখে শুরু থেকেই নকশার অংশ করতে হবে। পরিচয় ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা, এনক্রিপশন, লগিং, দুর্বলতা ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং সাইবার ঘটনার প্রতিক্রিয়ার ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি জাতীয় অবজার্ভেবিলিটি প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন হতে পারে। কোনো অনলাইন সেবা বাইরে থেকে সচল মনে হলেও তার পরিচয় যাচাই, এপিআই, ডেটাবেজ বা অন্য নির্ভরশীল সেবায় সমস্যা থাকতে পারে। তাই লগ, মেট্রিকস, ট্রেস, এপিআইয়ের কার্যক্ষমতা, আপটাইম, ত্রুটির হার ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনা পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা থাকা দরকার। তবে সব লগ এক জায়গায় জমা করলে গোপনীয়তা, অপব্যবহার ও সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই তথ্যের শ্রেণিবিন্যাস, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, সংরক্ষণসীমা ও স্বাধীন অডিট প্রয়োজন।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো একই জিনিস বারবার তৈরি করা। প্রায় সব সরকারি সিস্টেমেই লগইন, পরিচয় যাচাই, নোটিফিকেশন, ডিজিটাল স্বাক্ষর, পেমেন্ট, সম্মতি ব্যবস্থাপনা, অডিট লগ ও ডকুমেন্ট আদান-প্রদানের মতো সক্ষমতা প্রয়োজন। এগুলোর কিছু অনুমোদিত পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিল্ডিং ব্লক হিসেবে তৈরি বা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে সময় ও খরচ কমতে পারে। তবে শেয়ার্ড কম্পোনেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা ও দায়িত্ব বণ্টনও প্রয়োজন।
সফটওয়্যার কেনার সময় শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন নয়; ভবিষ্যৎ রক্ষণাবেক্ষণ, ডেটা পোর্টেবিলিটি, আন্তসংযোগ, ভেন্ডর পরিবর্তন এবং পুরো জীবনচক্রের ব্যয় বিবেচনা করতে হবে। এতে ভেন্ডর লক-ইন কমানো সম্ভব হতে পারে। তবে ওপেন স্ট্যান্ডার্ড থাকলেই তা পুরোপুরি দূর হবে না। দক্ষ জনবল, চুক্তির শর্ত, মালিকানা, লাইসেন্স ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই কাঠামো বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও আছে। সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও আইনগত ক্ষমতা এক নয়। তাই অভিন্ন কাঠামো থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রয়োগের সুযোগ রাখতে হবে। পুরোনো লিগ্যাসি সিস্টেম রাতারাতি বদলানো সম্ভব নয়। ডেটা হারানো, সেবা ব্যাহত হওয়া, অতিরিক্ত ব্যয় ও প্রকল্প বিলম্বের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ধাপে ধাপে আধুনিকায়ন বেশি বাস্তবসম্মত। পাশাপাশি সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট, সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও ডেটা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে।
ডেটা আদান-প্রদানের সঙ্গে নাগরিকের গোপনীয়তা ও অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। কোন তথ্য কে, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন আইনি ভিত্তিতে ব্যবহার করতে পারবে, তা স্পষ্ট থাকা জরুরি। আবার অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা তৈরি করলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যর্থ হওয়ার প্রভাব একসঙ্গে অনেক সেবায় পড়তে পারে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা ও দুর্যোগ পুনরুদ্ধারের সক্ষমতাও রাখতে হবে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তি দ্রুত বদলায়। তাই জাতীয় সফটওয়্যার আর্কিটেকচারকে স্থির কোনো নথি না বানিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদের সুযোগসহ একটি চলমান কাঠামো হিসেবে তৈরি করতে হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড, ডেটানির্ভর সেবা ও সাইবার নিরাপত্তা আগামী দিনের ডিজিটাল সরকারের ভিত্তি। ফলে সরকারি সফটওয়্যার এখন শুধু প্রযুক্তির বিষয় নয়; এর সঙ্গে ডেটা নিরাপত্তা, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িত। বাংলাদেশের সামনে এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়—নতুন ডিজিটালব্যবস্থা কি বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে তৈরি হবে, নাকি একটি নিরাপদ, সমন্বিত ও নমনীয় জাতীয় আর্কিটেকচারের অধীনে গড়ে উঠবে। এ জন্য জাতীয় সফটওয়্যার আর্কিটেকচার ও জাতীয় সফটওয়্যার স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়নকে নীতিগত অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
রূপায়ন চৌধুরী সহপ্রতিষ্ঠাতা, সিনেসিস আইটি; তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।