ইউক্রেন এই বছর ৫০ হাজারের বেশি রোবটযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।
ইউক্রেন এই বছর ৫০ হাজারের বেশি রোবটযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে।

মতামত

ইউক্রেনের রোবট বাহিনী যেভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ক্রমান্বয়ে সম্মুখসমরের বিপজ্জনক কাজগুলো স্থলভাগের রোবট বা চালকবিহীন যান দিয়ে প্রতিস্থাপন করছে। এগুলোকে সামরিক ভাষায় বলা হয় ‘আনম্যান্ড গ্রাউন্ড ভেহিকেল’ বা সংক্ষেপে ইউজিভি।

গত এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেন যেন ২০২৬ সালের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে অন্তত ৫০ হাজার চালকবিহীন স্থলযান নামানো হয়। সৈন্যদের মূল্যবান জীবন বাঁচানোর জন্য একে তিনি প্রযুক্তির ‘পরবর্তী বড় পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাবিষয়ক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম ‘ব্রেভ১’-এর ইউজিভি বিভাগের প্রধান ইহোর শ্মিরিওভ মনে করেন, বিভিন্ন সেনাদলের সরাসরি কেনাকাটা হিসাব করলে ইউক্রেন জেলেনস্কির লক্ষ্যমাত্রা সহজেই ছাড়িয়ে যাবে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধেই ফ্রন্টলাইনে ব্যবহারের জন্য ২৫ হাজার রোবটযানের চুক্তি সম্পন্ন হবে, যা ২০২৫ সালের পুরো সময়ের চুক্তির তুলনায় দ্বিগুণ।

বর্তমানে ইউক্রেনে এই রোবটশিল্পের এক অভূতপূর্ব জোয়ার এসেছে। কেএসই ইনস্টিটিউট, ব্রেভ১ এবং ডিফেন্স বিল্ডার যৌথভাবে একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছে, ২০২৫ সালে ইউক্রেনের এই রোবটযানের বাজার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৪৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মার্চ মাসে ইউক্রেনের ৩ নম্বর আর্মি কোরের কমান্ডার অ্যান্ড্রি বিলেটস্কি বলেছিলেন, এই চালকবিহীন রোবটযানগুলো একসময় সম্মুখসমরের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত সৈন্যের জায়গা বা দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়ে নিতে পারে।

শ্মিরিওভ বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধক্ষেত্রের একদম সামনে থাকা পদাতিক সৈন্যদের কাজ ড্রোন দিয়ে যতটা সম্ভব প্রতিস্থাপন করা।’ এর অর্থ হলো আকাশের ড্রোনের সঙ্গে স্থলপথের এই রোবটযানগুলোর একটি চমৎকার সমন্বয় তৈরি করা। কিয়েভ ইতিমধ্যেই সেই দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ দিতে শুরু করেছে। শ্মিরিওভ জানান, শুধু এপ্রিল মাসেই ইউক্রেনীয় রোবটযানগুলো ১০ হাজারের বেশি মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যার বড় অংশই ছিল ফ্রন্টলাইনের অবস্থানগুলোয় রসদ সরবরাহ করা। যুদ্ধক্ষেত্র যতই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, সৈন্যদের বিকল্প হিসেবে এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের চাহিদাও দিন দিন ক্রমাগত বাড়ছে।

টেকনোলজি ইউনাইটেড ফর ইউক্রেনের প্রকৌশলী হেইনার ফিলিপ বলেন, ‘ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রের মাটিকে মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে পারে।’ ইউক্রেনীয় বাহিনী এখন দিন ও রাত—সব সময়েই রুশ সৈন্যদের অবস্থান নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে আঘাত করতে পারছে। পদাতিক বাহিনী ভেতরে ঢোকার আগেই তারা দূর থেকে শত্রুর অবস্থান গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। আর তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এখন সবার আগে কোনো রক্ত-মাংসের সৈন্য নয়, বরং একটি রোবট এগিয়ে যাচ্ছে।

কাস্তুস কালিনোস্কি রেজিমেন্টের পাভেল শুরমেই জানান, তাঁর ইউনিট প্রথমে মেশিনগানযুক্ত রোবটযান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিল। কিন্তু এখন তারা এগুলোকে মূলত রসদ সরবরাহের কাজে ব্যবহার করছে। এই সরবরাহ বা লজিস্টিকসের কাজেই এই সিস্টেমগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও স্পষ্ট ভূমিকা রাখছে।

এই রোবটগুলোর আরেকটি বড় মিশন হলো রাশিয়ার ছোট ছোট অনুপ্রবেশকারী বা গেরিলা দলের মোকাবিলা করা। এতে সুবিধা হলো, ড্রোনের আক্রমণ অঞ্চলের (কিল জোন) ভেতরে নিজেদের সৈন্যদের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র রোবট দিয়ে শত্রুর মুখোমুখি হওয়া যায়।

শ্মিরিওভ বলেন, ‘মূলত রোবটের ওপর বসানো দূরনিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বা ট্যারেটের সাহায্যে শত্রুর সৈন্য ও সরঞ্জামগুলোর ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। এটি ইতিমধ্যেই ফ্রন্টলাইনে বেশ কার্যকর রয়েছে। এই রোবটগুলো একা একাই টহল দিতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে খারতিয়ার লাভা রেজিমেন্ট লক্ষ্যবস্তুতে কোনো পদাতিক সৈন্য না পাঠিয়েই শুধু স্থলভাগের রোবট, কামিকাজে রোবটযান (যা শত্রুর গায়ে গিয়ে সরাসরি বিস্ফোরিত হয়) ও স্ট্রাইক ড্রোন ব্যবহার করে কুপিয়ানস্কের কাছে একটি শক্তিশালী রুশ ঘাঁটি দখল করেছিল। এর দুই মাস পরে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আকাশপথের ড্রোন, স্থলরোবট এবং পদাতিক বাহিনীকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় এনে ‘ড্রোন অ্যাসল্ট ইউনিট’ বা ড্রোন আক্রমণ দল গঠনের ঘোষণা দেয়।

স্থলভাগের এই রোবটগুলো বিভিন্ন প্রকৌশলগত বা ইঞ্জিনিয়ারিং কাজও করছে। ইউক্রেনের ৩ নম্বর অ্যাসল্ট ব্রিগেডসের এক সেনাসদস্য ডিমা বলেন, তাঁর ইউনিট প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের সামনে সুরক্ষামূলক কাঁটাতারের বেড়া এবং বিশেষ ধরনের ব্যারিয়ার (এমজেডপি) স্থাপনের জন্য এই রোবটযান ব্যবহার করে। তিনি বলেন, ‘তবে কাজটি বেশ কঠিন। একটি রোবট ফ্রন্টলাইনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শত্রুর সব এফপিভি ড্রোন (ক্যামেরাযুক্ত বিশেষ ড্রোন, যা দেখে দূর থেকে নিখুঁত নিশানা লাগানো যায়) এটিকে আঘাত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করে।’

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি তোলা

তবে প্রযুক্তি উন্নয়নকারীরা এখন রোবটযানের কাজের পরিধি আরও বাড়াচ্ছেন। রাটেল রোবোটিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া ড্রোনগুলোকে মাঝ আকাশেই আটকে দেওয়ার জন্য গ্রাউন্ড রোবটে বসানো নেট লঞ্চার বা জাল নিক্ষেপকারী প্রযুক্তি পরীক্ষা করা শুরু করেছে।

গত জুনে ৩ নম্বর আর্মি কোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সক্ষম একটি রোবোটিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা উন্মোচন করেছে। এটি কোনো মানুষের সাহায্য ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আকাশের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, ট্র্যাক ও আঘাত করতে পারে। এর থেকে বোঝা যায়, চালকবিহীন এই যানগুলো কত দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রের একটি বহুমুখী প্ল্যাটফর্ম বা প্রধান অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।

ব্রেভ১-এর একজন প্রতিনিধি জানান, এআই-সক্ষম রোবটযানগুলো ইতিমধ্যেই ফ্রন্টলাইনে দূর থেকে গোলাবর্ষণ করা থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন জটিল মিশনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি রাশিয়ার তৈরি ‘শাহেদ’ কামিকাজে ড্রোনের বিরুদ্ধে লড়াইয়েও এগুলো সফলভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এত উন্নত রোবট আসার অর্থ এই নয় যে রক্ত-মাংসের পদাতিক বাহিনী বা সাধারণ সেনাদল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সামরিক বিশ্লেষক জর্জ বারোস বলেন, ‘এই রোবটযানগুলো সম্মুখ আক্রমণকে জোরদার করতে পারে এবং শত্রুবাহিনীকে দুর্বল করে দিতে পারে।’

তবে বড় পরিসরে এই রোবট মোতায়েনের অন্যতম বড় বাধা হলো দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা। অপারেটর ও রোবটের মধ্যে একটি মাত্র রেডিও সংযোগের ওপর নির্ভর করলে শত্রুপক্ষ সহজেই তা জ্যাম বা অচল করে দিতে পারে। তাই বর্তমানে ‘মেশ নেটওয়ার্ক’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে ড্রোন, রোবটযান ও গ্রাউন্ড স্টেশনগুলো একে অপরের মাধ্যমে সিগন্যাল আদান-প্রদান করতে পারে। এটি রোবটগুলোকে শত্রুর জ্যামিং প্রতিরোধী করে তোলে। ইউক্রেনের চোজেন কোম্পানি ভলান্টিয়ার ইউনিটের সাবেক কমান্ডার রায়ান ও’লেরি বলেন, ‘বড় পরিসরে রোবটযান ব্যবহারের জন্য এই মেশ নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থাটি অন্যতম প্রধান একটি পূর্বশর্ত।’

রাশিয়াও একই ধরনের অনেকগুলো প্রযুক্তি নিয়ে সমান্তরালে কাজ করছে। সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির গবেষক স্যামুয়েল বেন্ডেট বলেন, রুশ বাহিনীও রসদ সরবরাহ, আহত সেনাদের উদ্ধার এবং যুদ্ধের কাজে নিজস্ব রোবটযান মোতায়েন করছে। এর মধ্যে কুরিয়ার, দেপেশা ও ইমপালসের মতো সিস্টেম রয়েছে। পাশাপাশি ফ্রন্টলাইনের ইউনিটগুলোর নিজেদের তৈরি অস্থায়ী বা ইম্প্রোভাইজড রোবটও রয়েছে।

তবে বেন্ডেট বিশ্বাস করেন, মোতায়েন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইউক্রেন বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ফ্রন্টলাইনে ব্যবহৃত সামগ্রিক রুশ রোবটযানের সংখ্যা সম্ভবত ইউক্রেনীয়দের চেয়ে কম।’ তিনি আরও যোগ করেন, মূলত যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়া এর ব্যাপক ব্যবহার করতে পারছে না। তা সত্ত্বেও উভয় সামরিক বাহিনীই এখন পরিষ্কার দেখছে যে ড্রোনের আধিপত্য থাকা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এ স্থলভাগের রোবটগুলো অপরিহার্য হয়ে উঠছে।

ইউক্রেনীয় কমান্ডাররা এখন সৈন্যরা এগিয়ে যাওয়ার আগে রোবটগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে কী কী সুবিধা তৈরি করতে পারে, তা মাথায় রেখে আক্রমণের মূল পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। ৩ নম্বর অ্যাসল্ট ব্রিগেডসের একটি স্ট্রাইক রোবট কোম্পানির কমান্ডার গত ডিসেম্বরে ইউক্রেনীয় সামরিক সংবাদমাধ্যম মিলিটার্নিকে বলেছিলেন, তাঁর ইউনিট ইতিমধ্যেই একসঙ্গে একাধিক সশস্ত্র রোবট ব্যবহার করে সফল আক্রমণাত্মক অভিযান পরিচালনা করেছে। পরবর্তী পদক্ষেপ হলো, এ ধরনের রোবোটিক আক্রমণকে ব্যতিক্রমী কিছু না রেখে একটি নিয়মিত বা রুটিন কাজে পরিণত করা।

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ

তবে এত উন্নত রোবট আসার অর্থ এই নয় যে রক্ত-মাংসের পদাতিক বাহিনী বা সাধারণ সেনাদল বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের সামরিক বিশ্লেষক জর্জ বারোস বলেন, ‘এই রোবটযানগুলো সম্মুখ আক্রমণকে জোরদার করতে পারে এবং শত্রুবাহিনীকে দুর্বল করে দিতে পারে।’

বারোস আরও বলেন, ‘কিন্তু এগুলো পদাতিক বাহিনীর নিখুঁত বিকল্প নয়। দিন শেষে কোনো ভূখণ্ড বা এলাকা দখল এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুরোনো ধাঁচের পদাতিক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা সব সময়ই থাকবে।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, বর্তমান সিস্টেমগুলো এফপিভি ড্রোন এবং মাটির নিচে থাকা মাইনের মুখে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তা ছাড়া সশস্ত্র রোবটগুলোর গোলাবারুদ শেষ হওয়ার পর সেগুলোকে মানুষের হাত দিয়েই পুনরায় লোড বা রিলোড করতে হয়।

ইউক্রেনকেন্দ্রিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম গ্রিন ফ্ল্যাগ ভেঞ্চারসের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার ডেবোরা ফেয়ারল্যাম্ব বলেন, ‘এখানে অগ্রগতি হার্ডওয়্যারের মতোই সফটওয়্যারের ওপরও নির্ভর করে।’

সফটওয়্যার ও এআইয়ের এই দ্রুত অগ্রগতির কারণে রোবটগুলো আরও দক্ষ হয়ে উঠছে। কারণ, দিন দিন আরও উন্নত হার্ডওয়্যার যুদ্ধক্ষেত্রে এসে পৌঁছাচ্ছে। আহত সেনাদের দ্রুত উদ্ধারের সময়, একজন আহত সেনার প্রাণ বাঁচাতে গিয়ে সফল হওয়ার আগে শত্রুর আঘাতে বেশ কয়েকটি রোবট ধ্বংস হতে পারে। যেমনটা নিউমো রোবোটিকসের ইউলিয়া ট্রিবুশনা বলেন, ‘একজন প্রকৃত সৈন্য বা মানুষ হারানোর চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে চারটি রোবট বা মেশিন হারানো অনেক ভালো।’

ইউক্রেন এই বছর ৫০ হাজারের বেশি রোবটযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে। তবে ট্রিবুশনা অনুমান করেছেন, ফ্রন্টলাইনের বেশির ভাগ পজিশন বা অবস্থান মানুষের বদলে রোবট দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে হলে শেষ পর্যন্ত বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ রোবটযানের প্রয়োজন হবে।

যুদ্ধাভিযানের সরাসরি কাজে এই রোবটগুলো এখনো তুলনামূলকভাবে কম দেখা যায়। তবে এগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে এমন নয়; বরং বড় পরিসরে এগুলোকে যুদ্ধকৌশলে কীভাবে কাজে লাগানো হবে, তার প্রয়োজনীয় সামরিক নীতি বা ডকট্রিন এখনো তৈরি হচ্ছে বলে জানান ট্রিবুশনা। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বা একক কোনো ইউনিটের সাফল্য প্রথমে আসে, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকে সুনির্দিষ্ট বড় সামরিক কৌশলগুলো তৈরি হয় পরে।

স্থলভাগের রোবটগুলো এখনই পদাতিক বাহিনীকে পুরোপুরি মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না। তবে তারা ক্রমান্বয়ে এমন অনেক কাজ নিখুঁতভাবে করছে, যা একসময় কেবল সেনারা সশরীর করতেন। এটি আসলে ভবিষ্যতের এক আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের প্রাথমিক আভাস দিচ্ছে, যেখানে রোবট বা যন্ত্রগুলো বুক চিতিয়ে এগিয়ে যাবে আর রক্ত-মাংসের সেনারা থাকবে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে, পেছনে।

  • ডেভিড কিরিচেঙ্কো একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক এবং হেনরি জ্যাকসন সোসাইটির একজন সহযোগী গবেষণা ফেলো।

    এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ