গত চার সপ্তাহে চার মহাদেশের চার দেশে জাতীয় নির্বাচন হয়ে গেল। এই নির্বাচনগুলো অনেক নতুন খবরের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিটি দেশের নির্বাচন সেই দেশের জনগণের আশা–আকাঙ্ক্ষাকে তুমুলভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
এই চার দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, ভোটের ধরন ও রাজনীতি অনেকভাবে ভিন্ন। তবে আজকালকার যুগে এক দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও সাফল্য-বিফলতা অন্য দেশেও ছায়া ফেলে।
আমরা এই চার দেশের জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা করে দেখতে পারি ভূরাজনীতির নতুন যুগে কীভাবে বিশ্ব জনমত গঠিত হচ্ছে এবং এক দেশের রাজনৈতিক অবস্থা অন্য দেশের নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলে।
ইউরোপের সার্বিয়ার নির্বাচন কি ইউরোপের অন্যান্য দেশে জেন-জি আন্দোলনের সাফল্যের পূর্বাভাস দিচ্ছে?
দক্ষিণ আমেরিকার ডানপন্থী রাজনীতিকে অগ্রাহ্য করে ব্রাজিলের লুলার পুনর্নির্বাচন কি ট্রাম্পের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদ?
এশিয়ায় ইসরায়েলের নির্বাচন কি নেতানিয়াহুর ৩০ বছরের যুদ্ধনীতিতে ইসরায়েলিদের অতিষ্ঠ হওয়ার লক্ষণ? ৩ নভেম্বরের আমেরিকার নির্বাচনে মানুষ কি ‘ট্রাম্প ফার্স্ট’-এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে?
এই সব প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো সহজ ‘হাঁ’ বা ‘না’-তে দেওয়া যাবে না। তবে উত্তরগুলো খুঁজে দেখলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কিছু সাধারণ সূত্র আমরা খুঁজে পেতে পারি।
৩ নভেম্বর হয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তীকালীন সাধারণ নির্বাচন। সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নির্বাচন দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্পের বেলুন গত দুই বছর শুধু ওপরেই উঠছিল, এই নির্বাচনে তা ধপাস করে নিচে পড়ে গেল।
তবে এতে আশ্চর্যের কিছু ছিল না। কয়েক সপ্তাহ ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জনমত জরিপ রিপাবলিকান দলের এই ভরাডুবির পূর্বাভাস দিয়ে আসছিল।
নির্বাচনে ট্রাম্প ও তাঁর দলের চূড়ান্ত ভরাডুবি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৫৪ আসনে জয়লাভ করেছে। নিম্ন পরিষদ কংগ্রেসে তারা ৪৩৫ আসনের মধ্যে ২৫৩ আসনে বিজয়ী হয়েছে।
এই নির্বাচন এমন সব খবরের জন্ম দিয়েছে, যা আলোচনা করতে গেলে বেশ কয়েকটা কলামের প্রয়োজন হবে। টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটা অঙ্গরাজ্য।
যে টেক্সাসকে রিপাবলিকানদের দুর্গ বলে মনে করা হতো, সেখানে কংগ্রেস, সিনেট এবং গভর্নর সর্বত্রই তাদের সিংহাসন ভেঙে পড়েছে।
কানসাস অঙ্গরাজ্যে গত এক শ বছরে এই প্রথম একজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মানচিত্রে যেসব অঙ্গরাজ্য লাল রঙে রিপাবলিকানদের জন্য সংরক্ষিত করে রাখা হতো, সেগুলোও এবারের নির্বাচনে নীলের প্লাবনে ভেসে গিয়েছে।
এই নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হারার কারণ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। কেউ বলেছেন ইরান যুদ্ধ, কেউ বলেছেন কানাডার মতো বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ, আবার কেউবা বলেছেন জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি।
এগুলোর সবই হয়তো ঠিক, তবে এত সব ব্যবচ্ছেদ না করে, সংক্ষেপে বলা যায়—ট্রাম্পের জন্যই তারা হেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ধৈর্যশক্তি প্রবল। অন্য অনেক দেশের মতো এখানে কথায় কথায় জনগণ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাবে না বা প্রবল কোনো দাঙ্গা–হাঙ্গামা করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের মোক্ষম অস্ত্র হলো নির্বাচন। আর তারা ভোটের মাধ্যমে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে দিল, এটাকে বলা যায় ভোটবিপ্লব।
এই আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ সমাজ খুব সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে প্রগতিশীলদের নির্বাচিত করতে।
সব বাধা অতিক্রম করে, এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র পেল একজন মুসলমান সিনেটর—ড. আবদুল আল-সাইয়েদ। তাঁর নির্বাচন সহজ ছিল না। কিন্তু তাঁকে নির্বাচিত করে মিশিগানের জনগণ তাঁর প্রগতিশীল ভাবধারা এবং ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে খুব বড়ভাবে সমর্থন জানিয়েছে।
আমেরিকাতে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ মুখোশ খুলে পড়েছে। জনগণ বিপুলভাবে ট্রাম্পের ‘ট্রাম্প ফার্স্ট’ নীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশ কয়জন নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য খোলাখুলিভাবে ট্রাম্প ও তাঁর সরকারের কয়জন সদস্যকে ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসনের কথা বলেছেন।
পরবর্তী দুই বছর ট্রাম্পকে আরও সতর্কভাবে কাজ করতে হবে, নতুবা তিনি নিজের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারেন!
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ঠিক আগে গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হয়ে গেল সাধারণ নির্বাচন।
সাধারণত ইসরায়েলের জনগণ মূলত সেই সরকারকে পছন্দ করে, যারা ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার বঞ্চিত করে তাদের জন্য নতুন ভূমি দখল করতে পারে।
তবে এবার তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ইসরায়েলিদের নিজেদের নিরাপত্তা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তাদের অনবরত বোমা হামলার সম্মুখীন হতে হয়েছিল।
প্রতিদিন বোমা আশ্রয়স্থল কেন্দ্রে দৌড়াতে দৌড়াতে তারা ক্লান্ত। নেতানিয়াহু ইসরায়েলকে ৩০ বছর ধরে শুধু যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এবার নির্বাচনে ইসরায়েলিদের মনে হয়েছে কিছুটা বিভ্রান্ত।
যদিও এই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে, তবে এটাও সম্ভবত বলা যেতে পারে, ইসরায়েলি জনগণ সম্ভবত নেতানিয়াহুকে একদম ছেড়ে দিতেও রাজি নয়।
এই বছরের নির্বাচনে ইসরায়েলিরা দারুণভাবে দ্বিচারিতায় ছিল। তারা পরিবর্তন চেয়েছিল, কিন্তু নির্বাচনে এমন কোনো বিকল্প ছিল না যে যাদের ভোট দিয়ে তারা নিজেদের জন্য নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
নির্বাচনের পূর্বে জনমত যাচাইয়ে নেতানিয়াহুর দলের অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানিয়ে বার্তা দেন।
ট্রাম্পের সমর্থনই কি নেতানিয়াহুকে নির্বাচনে পুরোপুরি ভরাডুবি থেকে রক্ষা করেছে? ট্রাম্প তো তা–ই মনে করেন, ট্রাম্প নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেছেন।
তিনি বলেছেন, তাঁর সমর্থনই নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের কথা সত্যও হতে পারে, কারণ এখনো বিপুলসংখ্যক ইসরায়েলি ট্রাম্পকে তাদের ত্রাণকর্তা মনে করে।
যদিও নেতানিয়াহু–বিরোধীদের মধ্যপন্থী দল বলা হয়, তবে তাদের নীতিতে মধ্যপন্থা খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটকে বলা যায় ফিলিস্তিনি ইস্যুতে নেতানিয়াহুর মতোই কট্টরপন্থী।
গাদি আইজেনকট বলেছেন, ‘ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমার অবস্থান সর্বদাই অপরিবর্তিত রয়েছে: দুই জাতির জন্য দুই রাষ্ট্রের নীতিটি একটি ভুল।’ শুধু বলা যায় গাদি আইজেনকট নেতানিয়াহু নন, হয়তো ক্ষমতায় এলে তিনি আরও বাস্তববাদী ও নমনীয় হবেন।
মনে করা হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সম্ভবত শিগগির বিরোধী দলের নেতা গাদি আইজেনকটকে সরকার গঠন করার জন্য ডাকবেন।
কারণ, নেসেটের ১২০ জন সদস্যের মধ্যে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য ৬৭ সদস্যের সমর্থন রয়েছে; তার মধ্যে রয়েছে ১৯ জন ইসরায়েলি আরব সদস্য।
গাদি আইজেনকট তাঁদের সরকারে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে তাঁরা বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দেবেন, কারণ তাঁরাও চান নেতানিয়াহুকে হটাতে।
তবে এটাও বলে রাখা ভালো যে ইসরায়েলের এই জগাখিচুড়ির সরকার যে তত দিন টিকবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
নেতানিয়াহু ঘাপটি মেরে বসে রয়েছেন পরবর্তী সুযোগের অপেক্ষায়। গত তিন দশকে নেতানিয়াহু অনেকবার ডুবে গিয়েও আবার ভেসে উঠেছেন। এবার কি তার ব্যতিক্রম হবে? তা জানতে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনের আগের দিন ট্রাম ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪ বিলিয়ন ডলার বন্ধ করে দেবে।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট প্রগতিশীলদের বিরাট জয় আঁচ করতে পেরেই হয়তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তবে এটা ইসরায়েলে দারুণভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাহলে আমেরিকা কি সামনে ইসরায়েল থেকে চোখ ফিরিয়ে নেবে?
ব্রাজিলের জনগণ লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে আবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। তিনি ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করেছেন।
এই নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের দুই আঞ্চলিক প্রবণতাকে রুখে দিয়েছে—দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণপন্থী রাজনৈতিক প্রবণতা ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার মনোভাব, দুইটাই প্রচণ্ডভাবে হোঁচট খেয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির বামপন্থী নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা মোট বৈধ ভোটের ৫১ দশমিক ৭৯ শতাংশ পেয়েছেন, অন্যদিকে বলসোনারো পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট।
৮১ বছর বয়সের লুলা যে খুব জনপ্রিয় তা বলা যাবে না, প্রকৃতপক্ষে প্রথম পর্বের ভোটে বলসোনারো প্রথম হয়েছিলেন, কিন্তু যেহেতু দুজনের কেউই ৫০ শতাংশ ভোট পাননি তাই দ্বিতীয় পর্বের ভোট অনুষ্ঠিত হয়, যাতে লুলা জয়লাভ করেছেন।
বলসোনারো প্রথমে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেননি, কিন্তু ট্রাম্প যখন মেনে নিলেন তখন বলসোনারোর কিছু করার ছিল না।
লুলা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় এবং বর্তমানে ব্রাজিলে যে অর্থনৈতিক সংকট এবং জিনিসপত্র দামের ঊর্ধ্বগতি তার জন্য জনগণ লুলাকে দায়ী করছে।
কিন্তু ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব ও আত্মসম্মানবোধের প্রতি লুলার অবিচল মনোভাব ব্রাজিলবাসীকে লুলাকে আবার বিবেচনা করতে তাড়িত করেছে। ভেনেজুয়েলাতে ট্রাম্পের নগ্ন হস্তক্ষেপ ব্রাজিলের জন্য ছিল এক বড় সতর্কবার্তা।
অনেক ব্রাজিলবাসী শেষ মুহূর্তে লুলার প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছে, তারা ব্রাজিলকে দ্বিতীয় ভেনেজুয়েলা বানাতে চায়নি।
বলসোনারো ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক অংশীদারত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে লুলা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের একজন কট্টর সমালোচক। লুলা বিশ্বের প্রগতিশীল জনগণের কাছে বেশ সম্মানিত, কিন্তু ব্রাজিলে তাঁর সরকারকে অনেক প্রতিকূলতা সামলাতে হবে।
যদিও নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তাঁর সমর্থকের সংখ্যাও কম নয়। তাঁর বাবাও এককালে প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বর্তমানে লুলা দুর্নীতির দায়ে তাঁকে বিচার করে জেলে রেখেছেন।
এত শক্তিশালী বিরোধী দলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ৮১ বছর বয়স্ক লুলার পক্ষে দেশ শাসন করা খুব সহজ হবে না।
অন্যদিকে লুলা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের একজন কট্টর সমালোচক। লুলা বিশ্বের প্রগতিশীল জনগণের কাছে বেশ সম্মানিত, কিন্তু ব্রাজিলে তাঁর সরকারকে অনেক প্রতিকূলতা সামলাতে হবে।
সার্বিয়ার নির্বাচন ছিল দুই বছর ধরে চলা একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি। এই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল দেশটির সর্বক্ষমতাধর শাসক আলেকসান্দার ভুচিচের পদত্যাগ এবং দেশটিতে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক দুর্নীতির অবসান।
নির্বাচনের রাতেই ভুচিচ জেন-জি প্রতিষ্ঠিত ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’-এর কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। ‘তবে তিনি ট্রাম্পের ডিপ স্টেট’ বা যুক্তরাষ্ট্রের পর্দার পেছনের অদৃশ্য শক্তিকে তাঁর পরাজয়ের জন্য দায়ী করেছেন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৫০ সদস্যবিশিষ্ট আইনসভায় ‘স্টুডেন্টস লিস্ট’ (শিক্ষার্থীদের তালিকা) গোষ্ঠীর ১৪০ জন আইনপ্রণেতা থাকবে এবং ভুচিচের ‘সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’র থাকবে ১০৩ জন আইনপ্রণেতা।
‘স্টুডেন্টস লিস্ট’-এর প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মূলত অধ্যাপক, শিক্ষক এবং পেশাজীবী, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ—আমাদের দেশে আমরা যাঁদের বলি ‘সুশীল সমাজ’; এখন সার্বিয়াতে তাঁরাই সংসদে জেন-জিদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।
এই জোট আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার এবং ভুচিচের শাসনামলে গড়ে ওঠা দুর্নীতি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও চলছে জেন-জিদের আন্দোলন। সম্প্রতি ফ্রান্স ও ইতালিতে এই আন্দোলন গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।
এসব দেশেও শিক্ষার মান, জীবনযাত্রার ব্যয় ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জেন-জিরা আন্দোলন করছে। একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সার্বিয়ার স্টুডেন্ট লিস্টের সুশীল সমাজের সাফল্য বা ব্যর্থতা ভবিষ্যতে দারুণভাবে প্রভাব ফেলবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের আন্দোলনে।
সাম্প্রতিক এই নির্বাচনগুলোতে জনগণ লৌহমানবদের শক্তিকে দারুণভাবে চ্যালেঞ্জ করেছে। এবং প্রতিটি নির্বাচনেই জনগণ একনায়কবাদী শক্তিকে পরাস্ত করেছে।
আবার শুধু পরিবর্তনের জন্য তারা পরিবর্তন চায়নি, পরিবর্তনের মূল চালক শক্তি ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব।
আরেকটা বিষয় এই চার দেশের নির্বাচনে লক্ষ করা গেছে, প্রতিটি নির্বাচনেই ট্রাম্পের নাম কোনো না কোনো ভাবে প্রভাব ফেলেছে।
সালেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষক, লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।