১৯৮৪ সালে পাউবো বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে চারঘাটে বড়ালের মুখে তিন কপাটসম্পন্ন মোট মাত্র ২৪ ফুট প্রস্থের একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে।
১৯৮৪ সালে পাউবো বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে চারঘাটে বড়ালের মুখে তিন কপাটসম্পন্ন মোট মাত্র ২৪ ফুট প্রস্থের একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে।

অভিমত–বিশ্লেষণ

পাউবোর প্রকল্পে উপকার নাকি অপকার হচ্ছে

বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা-উপজেলা নেই, যেখানে পাউবো পোল্ডার কিংবা বেষ্টনী (বেড়িবাঁধ) নির্মাণ করেনি এবং এমন কোনো প্রণিধানযোগ্য নদী নেই, যার ওপর স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট (একমুখী স্লুইসগেট) ইত্যাদি কাঠামো নির্মাণ করেনি। কিন্তু বাংলাদেশ তাতে কতটা উপকৃত হয়েছে? পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দুই পর্বে লিখেছেন নজরুল ইসলাম। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম পর্ব

১৯৫৯ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড’ (পাউবো) প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন এর নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। ইংরেজিতে ‘ইপিওয়াপদা’।

১৯৫৫ ও ১৯৫৬ সালের বন্যার কারণে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ‘জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তা সংস্থা’র (ইউএনটিএ) কাছে দেশের বন্যা সমস্যার সমাধানে সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠান। তার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনটিএ ১৯৫৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অভ্যন্তরীণ–বিষয়ক সচিব জে ক্রুগের নেতৃত্বে একটি কমিশন পাঠায়।

এই কমিশনের সুপারিশক্রমেই ‘ইপিওয়াপদা’ গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর ইপিওয়াপদাকে পাউবোতে রূপান্তর করা হয়। সুতরাং পাউবোর বয়স হয়েছে প্রায় ৬৫ বছর। দীর্ঘ এ সময়ে পাউবোর সাফল্য কতটুকু?

২.

১৯৫৭ সালে ক্রুগ কমিশনের মনে হয়েছিল যে পানি উন্নয়নের কর্মপন্থা নির্ধারণে পর্যাপ্ত দেশীয় কারিগরি সক্ষমতা নেই। সেহেতু কমিশনের দ্বিতীয় সুপারিশ ছিল যে এই কর্মপন্থা নির্ণয়ের জন্য একটি বিদেশি পরামর্শক সংস্থাকে নিয়োগ করা হোক।

এই সুপারিশ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহরের ইন্টারন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (আইইসিও) নিয়োজিত করা হয়। এই কোম্পানি ১৯৬৪ সালে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে।

এটা ছিল একটি বেষ্টনী-পন্থাভিত্তিক একটি মহাপরিকল্পনা, যার লক্ষ্য ছিল দেশের সব বড় নদ–নদীর দুই তীরে বেড়িবাঁধ (বেষ্টনী) নির্মাণের মাধ্যমে প্লাবনভূমিকে নদী খাত থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা।

একটি এলাকার চারদিকে বেষ্টনী নির্মিত হলে তাকে ‘পোল্ডার’ বলা হয়। সে কারণে বিশ্বব্যাংক মাস্টার প্ল্যানকে বাংলাদেশের ‘পোল্ডারকরণের’ কর্মসূচি বলে আখ্যায়িত করে।

পাউবো এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে চায়। তবে বিশ্বব্যাংক বেষ্টনী-পন্থার সমর্থক হলেও আইইসিও যত দ্রুততার সঙ্গে সব বড় নদীর দুই তীরে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করেছিল, তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করে।

বিশ্বব্যাংক বরং প্রথমাবস্থায় দেশের যে অংশ বন্যাসীমার ঊর্ধ্বে সেখানে স্থানীয়ভাবে লভ্য পানি দ্বারা সেচ সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদনের ওপর জোর দেয় এবং পরে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ক্রমান্বয়ে বড় নদ–নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করে।

সরকার ও পাউবোর পক্ষে বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। ফলে পাউবো আইইসিওর মাস্টারপ্ল্যানে যেসব ছোট ও মাঝারি আকারের বেষ্টনী প্রকল্প প্রস্তাবিত হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়।

৩.

গত ৬০ বছরে পাউবো এ ধরনের অজস্র প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। পাউবোর হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সাল নাগাদ সংস্থাটি মোট ৬০১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।

এগুলোর অধীন এলাকার আয়তন ৭৩ লাখ ২২ হাজার হেক্টর, যা বাংলাদেশের মোট আবাদি জমির (৯১ লাখ ২০ হাজার হেক্টর) ৮০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ পাউবো দেশের সম্ভাব্য প্রায় সর্বত্র প্রকল্প নির্মাণ করেছে।

বস্তুত বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা-উপজেলা নেই, যেখানে পাউবো পোল্ডার কিংবা বেষ্টনী (বেড়িবাঁধ) নির্মাণ করেনি এবং এমন কোনো প্রণিধানযোগ্য নদী নেই, যার ওপর স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট (একমুখী স্লুইসগেট) ইত্যাদি কাঠামো নির্মাণ করেনি।

কিন্তু বাংলাদেশ তাতে কতটা উপকৃত হয়েছে? পাউবো দেখাতে চায়, বাংলাদেশ প্রভূত উপকৃত হয়েছে। সে জন্য তারা একটি এলাকায় প্রকল্প নির্মাণের আগে কী পরিমাণ কৃষি উৎপাদন হতো, তার সঙ্গে বর্তমানে কত উৎপাদন হয় তার তুলনা করে।

এ ধরনের তুলনার ভ্রান্তি একটি উদাহরণ দিয়েই স্পষ্ট করা যায়। যেমন গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) প্রকল্পের বাস্তবায়ন পঞ্চাশের দশকে শুরু হয়। এ প্রকল্পের অধীনে গঙ্গা থেকে পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করে বৃহত্তর কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনার বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ প্রদানের লক্ষ্য গৃহীত হয়। সে উদ্দেশ্যে ভেড়ামারায় পাম্পহাউস নির্মিত হয় এবং কৃষকদের জমিতে সেচের পানি পৌঁছানোর জন্য খালের নতুন নেটওয়ার্ক খনন করা হয়।

কিন্তু ১৯৭৪ সালে ফারাক্কা বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর গঙ্গায় শুষ্ক মৌসুমে পানির পরিমাণ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। ফলে জি-কে প্রকল্পের কার্যকারিতা বহুলাংশে বিনষ্ট হয়ে যায়। আশির দশক থেকে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো জি-কে প্রকল্প এলাকায়ও অগভীর নলকূপভিত্তিক সেচের বিস্তার ঘটে এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

কিন্তু পাউবো নলকূপজনিত এই বৃদ্ধিকেও জি-কে প্রকল্পের অবদান বলে দাবি করে। এ ধরনের ভ্রান্ত দাবি পাউবো কর্তৃক বাস্তবায়িত অন্যান্য বহু প্রকল্পের জন্যই দেখা যায়। (এসব বিষয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে প্রকাশিত যথাক্রমে ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশধ: পাস্ট, প্রেজেন্ট, অ্যান্ড ফিউচার এবং বাংলাদেশে পানি উন্নয়ন: বর্তমান ধারার সংকট এবং বিকল্প পথের প্রস্তাব গ্রন্থে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আগ্রহীরা তা দেখতে পারেন।)

৪.

আরও বিয়োগান্ত ঘটনা হলো বহু ক্ষেত্রে পাউবোর প্রকল্পগুলো উপকারের পরিবর্তে বরং অপকার করেছে। এর একটি উদাহরণ হলো উপকূলীয় বাঁধ প্রকল্প। এ প্রকল্পের অধীনে প্রায় পাঁচ হাজার মাইল দৈর্ঘ্যের বেড়িবাঁধের মাধ্যমে বাংলাদেশের উপকূলে প্রায় ১৪০টি পোল্ডার নির্মিত হয়েছে।

প্রথম দিকে পোল্ডারের ভেতর শস্য-ঘনত্ব এবং খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও অচিরেই পোল্ডারের নেতিবাচক অভিঘাতগুলো স্পষ্ট হতে থাকে। তার একটি হলো জলাবদ্ধতা। বেড়িবাঁধের ফলে পোল্ডারের ভেতরের পানি বাইরে যেতে পারে না।

তা ছাড়া পোল্ডার নির্মাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নদ–নদীর ওপর বহু স্লুইসগেট, ফ্ল্যাপগেট ইত্যাদি নির্মাণের ফলে প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে; নদীর বুকে পলিপতন ঘটেছে; বহু স্থানে নদীর তলদেশ উপরিস্থ সড়কের সমান হয়ে গেছে!

উদাহরণস্বরূপ, জলাবদ্ধতার ফলে ২৪ নম্বর পোল্ডারে অবস্থিত ভবদহ এলাকার মানুষ বহু বছর ধরে পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০২০ সালে এ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবো হরি নদের ওপর দুটি স্লুইসগেট নির্মাণ করেছে। একটির কপাটসংখ্যা ২১ এবং অন্যটির ৯। পলিপতন ও অন্যান্য কারণে প্রায় সব কটিই অকেজো। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে রাস্তার সমান।

স্থানীয় জনগণের মতে, পাউবোর স্লুইসগেটগুলোর কারণেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে তাদের দাবি, এগুলো অপসারণ করে নদীকে উন্মুক্ত করা হোক এবং গঙ্গার বর্ষাকালের প্রবাহ পৌঁছানোর পথ করা হোক। তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে পলি অপসারিত হবে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে।

কিন্তু আপাতদৃষ্টে পাউবো তা করতে নারাজ। শুধু তা–ই নয়, স্থানীয় জনগণ যাতে নিজেদের উদ্যোগে এসব স্লুইসগেট অপসারণ না করে ফেলে, সে জন্য সেখানে বিশেষ পুলিশ ফাঁড়ি বসিয়েছে। ফলে স্থানীয় জনগণের দৃষ্টিতে পাউবো একটি গণবিরোধী সংস্থায় পরিণত হয়েছে।

৫.

পাউবোর গণবিরোধী ভূমিকার আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো উত্তরবঙ্গের বড়াল নদ। রাজশাহীর চারঘাটে গঙ্গা থেকে উৎপত্তি হয়ে এই নদ চলনবিলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়ে শেষ পর্যায়ে হুরাসাগর নাম ধারণ করে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ির কাছে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়েছে। উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত উত্তরবঙ্গের প্রায় সব নদী (যেমন গুমানী, আত্রাই, করতোয়া) বড়াল নদে মিশে।

গোটা চলনবিলের স্বাস্থ্য বড়ালের ওপর নির্ভর করে। চলনবিলকে প্রাকৃতিক পানি-সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহার করে বড়াল নদ গঙ্গা ও যমুনার পানি-উচ্চতার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং তাতে বন্যা প্রশমিত হয়। সুতরাং শুধু উত্তরবঙ্গের জন্য নয়, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের বাকি অববাহিকার জন্যও বড়াল গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৮৪ সালে পাউবো বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে চারঘাটে বড়ালের মুখে তিন কপাটসম্পন্ন মোট মাত্র ২৪ ফুট প্রস্থের একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। স্থানীয় জনগণের মতে, সেখানে নদীর স্বাভাবিক প্রস্থ ছিল কমপক্ষে ৫০০ ফুট। সে জন্য পাউবো গঙ্গা থেকে চারঘাট পর্যন্ত বড়ালকে অত্যন্ত সরু এবং অস্বাভাবিক ৯০ ডিগ্রি কোণসম্পন্ন করে।

চারঘাট থেকে ৪৮.৫ কিলোমিটার ভাটিতে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার আটঘড়িতে পাউবো বড়াল নদের নন্দকুজা অভিমুখী ধারায় ৫ কপাটবিশিষ্ট মোট ৪০ ফুট প্রস্থের আরেকটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে।

আপাতদৃষ্টে এটির উদ্দেশ্য ছিল চারঘাট থেকে আটঘড়ি অংশে বড়ালের পানি সঞ্চিত করে তীরবর্তী এলাকায় সেচ দেওয়া। কিন্তু এর ফলে আরও ভাটিতে বড়ালের কী পরিস্থিতি হবে, সে বিষয়ে পাউবো উদাসীন থাকে।

এ ছাড়া আটঘড়িতে পাউবো বড়ালের আদিধারার মুখে মাত্র ৫ ফুট প্রস্থের এক কপাটবিশিষ্ট একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে।

কিন্তু পলিপতনের কারণে অচিরেই চারঘাটের স্লুইসগেট অকেজো হয়ে যায় এবং এমনকি ভরা মৌসুমেও গঙ্গা থেকে বড়ালে প্রবাহ বহুলাংশে রুদ্ধ হয়ে যায়। ফলে আটঘড়ি স্লুইসগেটও অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং আদি বড়াল, পাউবোর ভাষায়, ‘মরা বড়ালে’ পরিণত হয়, যার জন্য পাউবোই দায়ী। পানিশূন্য বড়াল দখলের শিকার হয় এবং বিভিন্ন স্থানে বড়ালের বুক চিরে বাঁধ-সড়ক নির্মাণের ফলে বড়াল খণ্ড খণ্ড পুকুরে পরিণত হয়।

স্থানীয় জনগণের মতে, দুর্নীতিগ্রস্ত স্থানীয় প্রশাসন লোভী প্রভাবশালীদের সুবিধা করে দেওয়ার জন্য বড়ালকে ‘অবক্ষয়িত জলাশয়’ হিসেবে ভূমিশ্রেণি পরিবর্তন করে।

বড়ালপারের জনগণ এই পরিণতি মেনে নিতে পারেন না। তাঁরা স্লুইসগেট ও অন্যান্য বাঁধ অপসারণ করে বড়ালকে উন্মুক্ত করার আন্দোলন শুরু করেন। সে লক্ষ্যে তাঁরা ২০০৬ সালে ‘বড়াল রক্ষা আন্দোলন’ গঠন করেন।

সময়ে এ আন্দোলন বেগবান হয়। অসংখ্য সভা-সমাবেশ, লক্ষাধিক মানুষের স্বাক্ষরসহ স্মারকলিপি প্রদান, নদীর তীরে ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আদালতে মামলা করে বড়ালের ভূমিশ্রেণি পরিবর্তন ঠেকানো হয় এবং অবশেষে ২০১৪ সালে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়।

এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত প্রশাসনকে বড়ালকে অবমুক্ত করার নির্দেশ দেয়। এ অবস্থায় নদীবিষয়ক টাস্কফোর্সের সভা বড়ালকে সম্পূর্ণরূপে অবমুক্তকরণের পক্ষে মত দেয়। কিন্তু পাউবো বাদ সাধে।

এর আগেই ২০১২ সালে, পাউবো যুক্তি দেখায় যে স্লুইসগেটগুলো অপসারণের আগে এ বিষয়ে একটি কারিগরি সমীক্ষা করা প্রয়োজন। পাউবোর আপত্তির মুখে টাস্কফোর্স পাউবোকে সমীক্ষা করার অনুমতি দেয়।

২০১৫ সালে পাউবো এক পরামর্শক সংস্থাকে এই সমীক্ষা সম্পাদনের জন্য নির্বাচিত করে এবং ২০১৮ সালে এই সংস্থা প্রতিবেদন পেশ করে। দেখা যায়, পাউবো ২০১৫ সালে যেসব প্রস্তাব করেছিল এই সমীক্ষার প্রতিবেদনে সেসব সুপারিশই করা হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ যে এই সমীক্ষায় মোট ১০টি সম্ভাব্য দৃশ্যকল্প পরীক্ষা করা হলেও চারঘাট ও আটঘড়ির স্লুইসগেটগুলো অপসারণের অভিঘাত কী হবে, সেই দৃশ্যকল্পই বিবেচনা করা হয় না।

অর্থাৎ, যে মূল উদ্দেশ্যে এই সমীক্ষা করার কথা হয়েছিল, সেটাই অবহেলিত হয়। বরং এই সমীক্ষার প্রণেতারা আরও একটি রেগুলেটর নির্মাণের সুপারিশ করেন এবং তার সঙ্গে ব্যাপক পরিধির নদী খনন যোগ করে পাউবোর জন্য ১ হাজার ৩৬ কোটি টাকার এক প্রকল্প প্রস্তাব করেন।

ফলে অনেকের কাছেই সমীক্ষাটি একটি ফরমায়েশি কাজ বলে প্রতিভাত হয়। ফলে স্লুইসগেটগুলো অপসারণে আর অগ্রগতি হতে পারে না।

(এসব বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য উৎসাহীরা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত বড়াল রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব এস এম মিজানুর রহমান এবং আমার লেখা বড়াল: একটি নদী হত্যার কাহিনী ও পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম নামের পুস্তকটি দেখতে পারেন)

  • ড. নজরুল ইসলাম অধ্যাপক, এশীয় প্রবৃদ্ধি গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং জাতিসংঘের উন্নয়ন গবেষণার সাবেক প্রধান

মতামত লেখকের নিজস্ব