সারা দেশে বিস্তার ঘটাতে হবে

কালিয়াকৈরে মৌ চাষ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি চাষ এবং বিদেশে মধু রপ্তানির খবরটি নিঃসন্দেহে আশাজাগানিয়া ও উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী। বৃহস্পতিবার প্রথম আলোর খবরে প্রকাশ, লাভজনক হওয়ায় কালিয়াকৈর উপজেলায় মৌচাষির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সেখানে গড়ে উঠেছে মধু সংগ্রহের একাধিক কারখানা। মৌমাছি চাষের ফলে মৌচাষিরা যেমন লাভবান হচ্ছেন, তেমনি সরিষাসহ নানা ধরনের রবিশস্যের ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হচ্ছে। মৌমাছি এসব রবিশস্যের ফুলের পরাগায়ন ঘটানোর ফলে ফলন বেশি হচ্ছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে গত মৌসুমে ভারতে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন এবং জাপানে প্রায় ২০০ মেট্রিক টন মধু রপ্তানি করা হয়। রপ্তানি করা মধুর মধ্যে কালিয়াকৈর থেকে উৎপাদিত মধু ছিল প্রায় ১০ মেট্রিক টন।

ষড়্ঋতুর বাংলাদেশে প্রায় প্রতিটি ঋতুতে কোনো না কোনো ফুল ফোটে। আর এসব ফুল থেকে মধু আহরণের বিরাট সুযোগ রয়েছে। এ কারণে আমাদের দেশ মৌ চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। একটা সময় মধু আহরণ ছিল শুধু সুন্দরবনকেন্দ্রিক। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে তা দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। মধুর উৎপাদন ও ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ।

সম্ভাবনাময় এই খাতের দিকে সরকারের এখন নজর বাড়াতে হবে। কৃষি ও উদ্ভিদবিজ্ঞানের এক গবেষণা অনুযায়ী, উদ্ভিদের পরাগায়নে মৌমাছির গুরুত্ব অপরিসীম। মৌমাছির মাধ্যমে বাক্স পদ্ধতিতে মধু চাষের কারণে কৃষি খাতে উৎপাদন ১০ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব বলে ওই গবেষণায় জানানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের ধারণা স্পষ্ট নয়। তাই মৌ চাষের ব্যাপারে তাঁদের খুব একটা আগ্রহ নেই। মৌ চাষের উপকারিতা সম্পর্কে স্থানীয় কৃষি অফিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে এবং এ ব্যাপারে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, বাংলাদেশে এখন প্রায় সাড়ে ৬ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। তার মাত্র ১০ শতাংশ থেকে এখন মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কালিজিরা, ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে ধনে, ২০ হাজার হেক্টর জমিতে তিল এবং বিপুল পরিমাণ জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে। এই পুরো সেক্টরটিকে মধু আহরণের আওতায় আনতে পারলে এসব ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি হবে।

দেশের অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য সরকারকে মৌ চাষের উপকারিতা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, যাতে অনেক বেশি মানুষ মৌ চাষে উৎসাহিত হয়। সারা দেশে মৌ চাষের বিস্তার ঘটাতে হবে। এর ফলে দেশে মধু উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। এতে মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং কৃষি অর্থনীতিতে নতুন লাভজনক খাত তৈরি হবে।