সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনতে হবে

ধান কেনার পদ্ধতি সংস্কার

সরকারিভাবে ধান কেনা শুরু হবে ২৬ এপ্রিল থেকে। প্রশ্ন হলো প্রতিবারের মতো এবারও কি ফড়িয়া ও চালকলমালিকদের দৌরাত্ম্য চলবে? সরকারঘোষিত প্রতি কেজি ধানের দামের (২৬ টাকা) ওপর যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা ভাগ বসাতে না পারে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আর চাল ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ধানের দামের পতন ঠেকানো না গেলে সরকারের দেওয়া ‘মূল্যসহায়তা’ কৃষক পাবেন না।

এ বছর সরকার কিনবে আট লাখ টন ধান, যা গত বছরের দ্বিগুণ। দেখা যায়, লটারি ব্যবস্থায় নাম তোলা, সরকারি গুদামে ধান তোলার সুযোগ কুক্ষিগত করে রাখে একশ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল। তারা কৃষকের নামে কৃষকের কার্ড ব্যবহার করে সরকারি গুদামে ধান দেয়। দ্বিতীয়ত, চালকলমালিকেরা সরকারের কাছে চাল বিক্রির সময় যাতে নিশ্চিত করা হয় যে ওই চাল কৃষকের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে সরাসরি কিনে ভাঙিয়ে তবে সরকারি গুদামে আনা হয়েছে।

এ দুই সমস্যা কাটিয়ে সরকারি গুদামে ধান দিতে গেলেও কৃষকের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে। গুদামের সামনে কৃষকদের জটলা করোনাকালে ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য গুদামের টালি খাতায় নাম লেখাতে আসামাত্রই কৃষকদের বিনা মূল্যে গ্লাভস ও মাস্ক দিতে হবে।

হাওর অঞ্চলে এখন যে বোরো ধান কাটা হচ্ছে, সরকারকে তা দ্রুত কিনতে হবে। নইলে অন্যান্য জায়গার ধান আসামাত্রই দাম পড়ে যাবে এবং পড়তি দামের সুযোগ নেবেন চাল ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ৫০টির মতো বড় চালকল কোম্পানি। তারাই বিভিন্ন সময় জটিলতা তৈরি করে থাকে। তাদের নিয়মের মধ্যে রাখা গেলে বাজার সুষ্ঠুভাবে চলতে পারবে এবং সরকারও কৃষককে লাভের মুখ দেখিয়ে খাদ্যনিরাপত্তা বজায় রাখতে পারবে। ধানের আর্দ্রতা বেশি বলে কৃষককে বিড়ম্বনায় ফেলা যাবে না। সরকারি গুদামে আর্দ্রতা কমানোর যন্ত্র বসিয়ে এর সমাধান করা যায়। এ যন্ত্র মিলারদের কাছেও রয়েছে।

বিভিন্ন জায়গায় খাদ্যসামগ্রী পরিবহনে বাধা দেওয়া এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আছে। এখনই চালের বড় বড় মোকাম ও বাজারে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের কেন্দ্র বসানো এবং সরকারিভাবে ধান পরিবহন করে গুদামজাত করাই এর সমাধান। স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মীদের এ কাজে লাগানো যায়।