সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

কৃষকের সার ও বীজ আত্মসাৎ

জড়িত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

একটি দেশ আমদানিনির্ভর হলে কী করুণ পরিস্থিতি হয়, সেটি গত কয়েক মাসে কিছুটা হলেও আমরা দেখলাম। পরনির্ভরশীলতা কমাতে দেশের উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। সেখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। সরকারও বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। এর জন্য কৃষকদের সার, বীজ ও জ্বালানি তেলে নানা প্রণোদনা ও ভর্তুকি দেওয়া হয়। এরপরও আমরা দেখি, উৎপাদনের খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয় কৃষককে। তখন প্রশ্ন ওঠে, সরকারের দেওয়া প্রণোদনা ও ভর্তুকি কৃষকদের হাতে কি ঠিকঠাক পৌঁছায়? আমরা দেখছি পাবনার সুজানগরের কৃষকদের বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য সার ও বীজ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করে নিয়েছেন। একে তো তাঁরা রক্ষক হয়ে ভক্ষকের কাজ করেছেন, সেই সঙ্গে বঞ্চিত করেছেন সুবিধাভোগীদেরও। এমন ঘটনা আগেও আমরা দেখেছি। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক কোনো শাস্তি না হওয়ায় বারবার এমনটি ঘটছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সুজানগরের ১০টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার কৃষকের জন্য উন্নত জাতের পেঁয়াজ, গম, ধান, ভুট্টাসহ নানা বীজ এবং এর জন্য সার বরাদ্দ দেওয়া হয়। জমি বিবেচনায় বীজের বরাদ্দ ছিল ১ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত, সারের ক্ষেত্রে ছিল ২০ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত। উপজেলা পরিষদ থেকে এ সার ও বীজ বিতরণ করা হয়। বরাদ্দ কমিটির সভাপতি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সদস্যসচিব ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে কৃষকদের তালিকা তৈরি করেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। কিন্তু সেই তালিকায় দেখা গেছে, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের নাম ও মুঠোফোন নম্বর। 

বীজ ও সার আত্মসাৎ করেও ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বলেছেন, ‘এখানে অনিয়ম হয়নি, কোনো কৃষক অভিযোগও করেননি।’ অথচ কৃষকদের বক্তব্য, প্রণোদনার সার ও বীজের বিষয়ে কিছু জানেন না, কোনো কৃষক এমনটি পেয়েছেন, তা-ও তাঁরা কেউ শোনেননি। 

এখানে অনিয়ম ও লোপাটের ঘটনা ঘটেছে, সেটি স্পষ্ট। এর দায় ইউএনও ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। হয় তঁারা এ অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, নয়তো তঁাদের চরম গাফিলতি বা দায়িত্বহীনতা ছিল। এখন তাঁদের বক্তব্য, সার ও বীজের আত্মসাতের কোনো অভিযোগ পাননি, কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। 

তার মানে কি কেউ অভিযোগ না করলে অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে তঁারা কোনো ব্যবস্থা নেবেন না? তাঁদের এমন বক্তব্য আমরা ক্ষুব্ধ। অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধি ছাড়াও এ প্রণোদনা কর্মসূচির সঙ্গে প্রশাসনের যাঁরা যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এখন সংশ্লিষ্ট ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিচ্ছে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।