
সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছে বললে ভুল হবে না। কারণ, এ উন্নয়ন একটি জনপদকে সহজে পাল্টে দিতে পারে। সেখানকার আর্থসামাজিক অবস্থানে, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে। এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নির্মিত হয়েছে শত শত সেতু ও কালভার্ট। এসব সেতু-কালভার্ট ঘিরে তাই মানুষের উচ্ছ্বাসও দেখা মেলে। আবার অনেক ক্ষেত্রে আলোর নিচেই থেকে যায় অন্ধকার। যেমনটি আমরা দেখতে পাচ্ছি শেরপুর ও নেত্রকোনায়। সেখানে কোটি কোটি টাকায় অনেক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেতুগুলোর সঙ্গে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। ফলে সেতুগুলো পড়েই আছে। মানুষের কোনো কাজে আসছে না। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, নেত্রকোনার মদন উপজেলার মদন-ফতেপুর সড়কে অন্তত ১১টি সেতু আছে, যেগুলোতে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে এসব সেতু দিয়ে ওঠানামা করার জন্য বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। মূলত এক যুগ আগে বন্যায় সেতুগুলোর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে। এরপর থেকে সেতুগুলো বেহাল। এরপর কত বন্যা এল–গেল, কিন্তু সংযোগ সড়ক আর হলো না। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এ কারণে অধিকাংশ গ্রামের মানুষ দীর্ঘ পথ ঘুরে অন্য সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সংযোগ সড়ক না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বোরো মৌসুমে কয়েকটি হাওরের ধান ঘরে তুলতে কষ্ট বেড়ে যায় তঁাদের। ২৫টি গ্রামের মানুষকে এ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
মদন উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘মদন-ফতেপুর রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ডিপিপিতে প্রস্তাব দিয়ে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই কাজ শুরু করা হবে।’ আমরা তাঁর কথায় আশ্বস্ত হতে চাই। আশা করি, ঊর্ধ্বতন মহল বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে।
অন্যদিকে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় সংযোগ সড়কের অভাবে চালু হয়নি ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গড়খাই সেতুটিও। প্রায় এক বছর আগে সেতুটি নির্মিত হলেও ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতায় সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ হয়নি। তবে এলাকাবাসী এর জন্য দায়ী করছেন সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষকেই। তাঁদের ভাষ্য, ভূমি অধিগ্রহণে ধীরগতি আর জমির মূল্য পরিশোধ না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ সড়কটি চালু হলে শেরপুর থেকে জামালপুর ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ অনেকটা সহজ হয়ে যেত। কিন্তু সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুটি কোনো কাজে আসছে না। সওজ কর্তৃপক্ষ ও জেলা
প্রশাসনের বক্তব্য, জমি অধিগ্রহণের জটিলতা প্রায় কেটে গেছে। দ্রুত সংযোগ সড়কের কাজটি করা যাবে।
আমরা তঁাদের কথায় আস্থা রাখতে চাই। দ্রুত গড়খাই সেতুটি চালু হোক।