সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

হাতিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সেতু

দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সজাগ হোন

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার স্টিমারঘাটের ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ১৪৯ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর ৪২টি পিলারের অর্ধেকের বেশি স্থানে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে কংক্রিট, বেরিয়ে এসেছে ভেতরের রড। ট্রাক উঠলেই সেতুটি থরথর করে কেঁপে ওঠে। গাড়িচালক ও যাত্রী—উভয়ই আতঙ্কে থাকেন, কখন দুর্ঘটনার শিকার হন। একটি সেতুর এতগুলো পিলারে ফাটল ধরেছে অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই নিল না, বিষয়টি খুবই হতাশাজনক।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গত ৩১ জানুয়ারি হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে ফেরি চালু হওয়ার পর থেকে এই সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বহুগুণ বেড়ে গেছে। যে সেতুটি আগে মূলত হালকা যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত হতো, সেখানে এখন ১৫ থেকে ২০ টনের পণ্যবাহী ট্রাক, এমনকি ৩০-৪০ টনের যানবাহনও চলাচল করছে। অথচ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দায় সেরেছে কেবল একটি সতর্কবার্তা টাঙিয়ে, যেখানে পাঁচ টনের বেশি ওজনের যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ সওজের নির্দেশ অমান্য করেই প্রতিদিন একাধিক ২০-৩০ টনের ট্রাক পার হচ্ছে। কেবল চারজন গ্রাম পুলিশ দিয়ে এই বিশাল ঝুঁকি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হাস্যকর এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার নামান্তর।

হাতিয়ার প্রায় সাত লাখ মানুষের জন্য এই সড়ক যোগাযোগ একাধারে আশীর্বাদ ও অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেরি চালু হওয়ায় যাতায়াত সহজ হওয়ার যে আশা জেগেছিল, জরাজীর্ণ এই সেতুর কারণে তা এখন জীবননাশের আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। সওজ বলছে, তারা দ্রুত সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করবে এবং নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক এই ‘দ্রুত’ প্রক্রিয়া শেষ হতে হতে যদি সেতুটি ধসে পড়ে, তবে সেই দায় কে নেবে? দুঃখজনক হচ্ছে, শুরু থেকে এ সেতু সংস্কার বা তদারকিতে যথেষ্ট অবহেলা ছিল। ফেরি চালু হওয়ার পর সেটি এখন আরও বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অবিলম্বে এই সেতুর ওপর দিয়ে পাঁচ টনের অধিক ভারী যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিকল্প ডাইভারশন বা অস্থায়ী বেইলি ব্রিজের ব্যবস্থা করতে হবে। তাসের ঘরের মতো দাঁড়িয়ে থাকা এই পিলারের ওপর দিয়ে বাস-ট্রাক চলতে দেওয়া মানে হলো জেনেশুনে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া।

রাষ্ট্রের উন্নয়ন কেবল বড় বড় প্রকল্পে নয়, বরং বিদ্যমান অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরই নির্ভর করে। আমরা আশা করি, বড় কোনো ট্র্যাজেডি ঘটার আগেই প্রশাসন সজাগ হবে। একটি জনপদের লাখ লাখ মানুষ নিয়ে আর অবহেলার সুযোগ নেই।