সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়

চোখের অস্ত্রোপচার বন্ধ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে সুনজর দিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক–সংকটের কারণে সাড়ে সাত বছরের বেশি সময় ধরে চোখের সব ধরনের অস্ত্রোপচার বন্ধ আছে। এটি খুবই দুঃখজনক। ২৫০ শয্যার এই জেলা সদর হাসপাতালে চক্ষু ওয়ার্ড ও অস্ত্রোপচার কক্ষ (ওটি) বন্ধ রেখে বছরের পর বছর লাখ লাখ মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আধুনিক যন্ত্রপাতিও মরিচা ধরে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এটি খুবই হতাশাজনক।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ২০১৮ সাল থেকে এই হাসপাতালে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্টের দুটি পদই শূন্য আছে। মাঝে দীর্ঘ পাঁচ বছর চোখের কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই কেবল প্রাথমিক মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগের কাজ চালানো হয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন চিকিৎসক নিয়োজিত থাকলেও নষ্ট যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে অস্ত্রোপচার চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এ হাসপাতালেই আগে প্রতি মাসে ২০০ জনের বেশি রোগীর চোখে সফল অস্ত্রোপচার হতো। ছানি পড়া বা চোখের জটিলতায় ভোগা অসহায় রোগীদের এখন চড়া মূল্যে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব।

চিকিৎসকের অভাবে সেবা থমকে থাকা এবং কোটি কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী অব্যবহৃত ফেলে রেখে নষ্ট করা আমাদের সরকারি স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনাকেই নতুন করে উন্মোচিত করেছে। ৯৯ লাখ টাকার লেজার ও ওসিটি মেশিন এবং ১৫ লাখ টাকার অপারেটিং মাইক্রোস্কোপের মতো জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামগুলো অকেজো হয়ে যাওয়া কেবল অবহেলা নয়; এটি প্রশাসনিক জবাবদিহিহীনতার এক চরম বহিঃপ্রকাশ। একজন চিকিৎসক বদলি হওয়ার পর দেড় যুগেও সেখানে কেন স্থায়ী বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা গেল না—এ প্রশ্নের দায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এড়াতে পারে না।

আমরা মনে করি, কেবল প্রকল্প বা আলোচনার আশ্বাস দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা ঢেকে রাখা যাবে না। হাসপাতালটিতে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন করতে হবে। অকেজো হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি অতি দ্রুত প্রতিস্থাপন করে চক্ষু ওয়ার্ড ও ওটি আবার চালু করা এখন সময়ের দাবি। সরকারি সম্পদ এভাবে ফেলে রেখে অকেজো করার পেছনের দায়ী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শুধু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।