খন্দকার এ মামুন
খন্দকার এ মামুন

বিশেষ সাক্ষাৎকার: খন্দকার এ মামুন

রাজনীতিবিদদের মুখে এআই নিয়ে কথা শুনতে চাই

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক। তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নিউরোসায়েন্সের ওপর পিএইচডি ডিগ্রি নেন। বর্তমানে তিনি দেশের স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল।

প্রশ্ন

চিকিৎসক ও রোগী কথা বলবেন, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ব্যবস্থাপত্র তৈরি হবে। এটা নিয়ে আপনি একটি গবেষণা করছেন। বিষয়টি কী, তা সংক্ষেপে ও পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলুন। 

খন্দকার মামুন: আমাদের বর্তমান চিকিৎসাব্যবস্থায় আমরা যখন চিকিৎসকের কাছে যাই, তখন আমরা আমাদের সমস্যাগুলো জানাই। চিকিৎসকেরা দু-তিনটি প্রশ্ন করেন এবং তারপর প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসক পুরোপুরি রোগীর ইতিহাস জানতে পারেন না। কারণ, সময় সীমিত। হেলথ রেকর্ড না থাকায় চিকিৎসক রোগীর আগের চিকিৎসা ও সমস্যা দেখতে পারেন না। এটি একটি বড় সমস্যা।

দ্বিতীয়ত, চিকিৎসক যে ট্রিটমেন্ট বা প্রেসক্রিপশন দেন, সেটি রোগীকে যথাযথভাবে বোঝানোর সুযোগ থাকে না। রোগী জানে না ওষুধ কখন এবং কীভাবে নিতে হবে, আগে বা পরে কী প্রভাব পড়বে, নিয়মিত খাওয়া হচ্ছে কি না, যার ফলে চিকিৎসা পুরোপুরি কার্যকর হয় না।

এ সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের মেডিক্যাল রেকর্ড তৈরি এবং রোগীর সঠিক কাউন্সেলিং নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর অ্যাটেনডেন্টের কথোপকথন রেকর্ড করে তা রিয়েলটাইমে স্পিচ থেকে টেক্সট আলাদা করতে পারব। এখান থেকে কোনটি ডাক্তার বলেছেন, কোনটি রোগী বা তাঁর অ্যাটেনডেন্ট বলছেন, প্রধান সমস্যা কী, ডায়াগনস্টিক টেস্ট, ওষুধ, ডোজ এবং রোগীর জন্য পরামর্শ কী, তা বুঝতে পারব। এখানে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেসক্রিপশন তৈরি করবে। চিকিৎসক সঙ্গে সঙ্গে তা রিভিউ ও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন করতে পারবেন। এ পদ্ধতিকে মেডিক্যাল স্ক্রাইবিং বলা হয়। 

আমেরিকা ও ইউরোপে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক। আগে রোগীর সামনে কথা রেকর্ড করা হতো এবং পরে নোট তৈরি করা হতো। এখন এআইয়ের মাধ্যমে কাজটি অনেক সহজ হয়ে গেছে। মাইক্রোসফট ইতিমধ্যে ইংরেজির জন্য এটি শুরু করেছে। আমরা বাংলাভাষীর জন্য গবেষণা করছি। এ জন্য চিকিৎসক ও রোগীর কথোপকথনের ডেটাসেট তৈরি করা হচ্ছে। ডেটাসেট ছাড়া এটি সম্ভব নয়। 

এআই মেডিক্যাল স্ক্রাইবিংয়ের পাশাপাশি প্রেসক্রিপশনের ভুল ডোজও শনাক্ত করতে পারবে; এটাকে বলা হয় প্রেসক্রিপশন অডিট। আমরা এ বিষয়েও গবেষণা করছি। যেমন আমরা মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে বানান বা ব্যাকরণ ভুল করলে অ্যালার্ট পাই, ঠিক তেমনি এটি চিকিৎসককে অ্যালার্ট করবে। আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নযোগ্য হবে। চিকিৎসক আরও দক্ষ ও কার্যকর হবেন, রোগীর জন্য সঠিক রেকর্ড তৈরি হবে। এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে কাজ করবে।

  • আমেরিকা ও ইউরোপে রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক; আগে রোগীর সামনে কথা রেকর্ড করা হতো এবং পরে নোট তৈরি করা হতো। 

  • স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো প্রযুক্তি শুধু কার্যকর হলেই যথেষ্ট নয়; সেটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কি না, তা প্রমাণিত হতে হবে।

প্রশ্ন

বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কী কী কাজ হচ্ছে, কোন মাত্রায় কাজ হচ্ছে?

খন্দকার এ মামুন: মোটাদাগে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে কাজকে দুটি ধাপে দেখা যায়। একদিকে ডিজিটালাইজেশন, অন্যদিকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইন্টিগ্রেশন। ডিজিটালাইজেশন নিয়ে কমবেশি কাজ হয়েছে। ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন, টেলিমেডিসিন, রোগীর রেকর্ড তৈরি—এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি দুই খাতেই দেখা গেছে। কিন্তু এগুলো হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। সিস্টেমগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত নয়। ডেটা শেয়ারিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং ডেটার মান—এই জায়গাগুলোয় বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে জেনারেটিভ এআই মূলধারায় আসার পর বিশ্বজুড়ে এআই ব্যবহারে গতি এসেছে। বৈশ্বিকভাবে এআই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে তিনটি খাতে, ম্যানুফ্যাকচারিং, ইনফরমেশন ও স্বাস্থ্য খাতে। বিশ্বে যেখানে স্বাস্থ্য খাতে এআই দ্রুত বাস্তব প্রয়োগে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশে এর ব্যবহার এখনো খুবই সীমিত। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়। সেখানে বাস্তব সমস্যার সমাধানে এআই ব্যবহার শুরু হয়েছে। আর আমরা এখনো কোথায় এআই ব্যবহার করা যেতে পারে, এই সম্ভাবনা নিয়েই বেশি আলোচনা করছি। অর্থাৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার জায়গায় কিছু কাজ আছে, কিন্তু বাস্তব জীবনে রোগী ও চিকিৎসকের কী উপকার হবে, সেই প্রয়োগ এখনো খুব সীমিত।

প্রশ্ন

হাসপাতালে এআইয়ের প্রয়োগ কী হতে পারে বা কোথায় কোথায় এআই কাজে লাগতে পারে?

খন্দকার এ মামুন: হাসপাতালে এআইয়ের ব্যবহারকে কয়েকটি স্পষ্ট ক্ষেত্রে ভাগ করে দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসা পরিকল্পনা বা ট্রিটমেন্ট প্ল্যানিং। ধরা যাক, একজন অনকোলজিস্ট গত পাঁচ বছরে ১০ হাজার রোগী দেখেছেন। এই রোগীদের ডিজিজ প্যাটার্ন ৩০ ধরনের এবং তিনি যে ট্রিটমেন্ট প্রটোকল ব্যবহার করেছেন, তার ভেরিয়েশন হয়তো ১০টি। যদি এই ডেটা এআই দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়, দেখা যাবে কোন ধরনের ক্যানসারের জন্য কোন প্রটোকল সবচেয়ে কার্যকর।

আমরা এমন এআই মডেল যদি তৈরি করতে পারি, যেটাকে বলা হবে ‘সেকেন্ড অপিনিয়ন সিস্টেম’, এটি চিকিৎসককে বলবে রোগীর ডিজিজ প্যাটার্ন কী এবং সেই প্যাটার্নে কোন প্রটোকল সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। লক্ষ করুন, এআই এখানে চিকিৎসকের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। রোবোটিক সার্জারিতেও এআই ব্যবহার হচ্ছে। অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারে এটি সাহায্য করে। এ ছাড়া কোন প্রেগন্যান্সিতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন এবং কোথায় প্রয়োজন নেই, তা-ও নির্ধারণে এআই সহায়তা করতে পারে। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান সেকশন কমানো সম্ভব। এভাবে এআই হাসপাতাল ও চিকিৎসক উভয়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করবে।

রোগী ব্যবস্থাপনায়ও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাসায় রোগী পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে এআই, ফলে হাসপাতালে থাকার সময় ও খরচ কমবে। আমরা ‘ভার্চ্যুয়াল হসপিটাল’ নামে এমনই একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছি এবং এটি এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাচ্ছে।

প্রশ্ন

স্বাস্থ্য বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি কী আছে?

খন্দকার এ মামুন: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে আমরা সাধারণত এর সম্ভাবনার কথাই বেশি বলি। কিন্তু এআইয়ের ঝুঁকির দিকটিও একই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমি প্রায়ই বলি, এআই ইজ আ হিলার অ্যান্ড এআই ইজ আ কিলার। মূলত ঝুঁকি তৈরি হয় তখনই, যখন এআই অনিয়ন্ত্রিতভাবে বা যাচাই ছাড়া ব্যবহার করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে যেকোনো প্রযুক্তি শুধু কার্যকর হলেই যথেষ্ট নয়; সেটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কি না, তা প্রমাণিত হতে হবে।

নিয়ন্ত্রিতভাবে এআই ব্যবহারের অর্থ হলো, যেভাবে আমরা ওষুধের কার্যকারিতা পরীক্ষা করি, সেভাবেই এআই ব্যবস্থাকেও মূল্যায়ন করা। কোনো ওষুধ যেমন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া ব্যবহারের অনুমতি পায় না, স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহৃত এআই সলিউশনগুলোকেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ এগুলোর কার্যকারিতা ও ঝুঁকি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। যেমন নকল ওষুধে কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল থাকে না, তাই সেগুলো ব্যবহার করে রোগীর উপকার হয় না, বরং ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ঠিক তেমনি, কোনো এআই সিস্টেম যদি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং রেগুলেশন ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেটিও উপকারের বদলে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য খাতে এআই রেগুলেটেড হতে হবে, কন্ট্রোলড নয়।

তাই স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানবিক তত্ত্বাবধান, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং শক্তিশালী রেগুলেটরি কাঠামো। এগুলো ছাড়া এআইয়ের ব্যবহার সম্ভাবনার চেয়ে ঝুঁকিই বেশি তৈরি করবে।

প্রশ্ন

নিয়ন্ত্রণের কোনো আলোচনায় প্রথমেই আসে নীতির বিষয়গুলো। দেশে স্বাস্থ্য খাতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে কোনো নীতি কি আছে?

খন্দকার এ মামুন: স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেশে এখনো কোনো স্পষ্ট নীতিগত বা রেগুলেটরি কাঠামো নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের জরুরি ভিত্তিতে ভূমিকা নেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারের জন্য কী ধরনের মানদণ্ড প্রযোজ্য হবে, অনুমোদনপ্রক্রিয়া কী হবে এবং কোন কর্তৃপক্ষ তা তদারকি করবে—এসব বিষয়ে এখনো পরিষ্কার নির্দেশনা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মতো দেশে এআই টুলসকে কার্যত ওষুধ বা চিকিৎসা ডিভাইসের মতো বিবেচনা করা হয়। যেভাবে ওষুধ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ও আইনগত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যায়, স্বাস্থ্য খাতে ব্যবহৃত এআই সলিউশনগুলোকেও একই ধরনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো কাঠামো না থাকায় স্বাস্থ্য খাতে এআই ব্যবহারের সম্ভাবনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহারের ঝুঁকিও থেকে যাচ্ছে।

প্রশ্ন

মানুষ তো সরকার কী করছে, তার জন্য বসে নেই। মানুষ তো নিজের বুদ্ধির ওপর ভরসা করে এআই ব্যবহার করে চলেছে?

খন্দকার এ মামুন: মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এআই ব্যবহার করছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা জরুরি, চ্যাটজিপিটি বা এমন এআই টুলস কোনোভাবেই মেডিক্যাল টুল নয় এবং চিকিৎসা সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এটি তৈরি করা হয়নি। চ্যাটজিপিটির মতো জেনারেটিভ এআই টুলগুলো সাধারণ তথ্যের ওপর প্রশিক্ষিত। এটি নির্দিষ্ট রোগীর শারীরিক অবস্থা, আগের রোগ ইতিহাস বা ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে পারে না। ফলে চিকিৎসা বা ডায়েটসংক্রান্ত পরামর্শে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বাস্তবে এমন উদাহরণও আছে, যেখানে একজন ব্যক্তি এআইয়ের দেওয়া ডায়েট বা স্বাস্থ্য পরামর্শ অনুসরণ করে গুরুতর শারীরিক জটিলতায় পড়েছেন। সমস্যাটি ছিল, ওই পরামর্শ তাঁর শরীরের প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ কারণেই চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার অবশ্যই চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে এবং অনুমোদিত মেডিক্যাল সিস্টেমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

প্রশ্ন

কিন্তু মানুষ চিকিৎসার জন্য তো এআই ব্যবহার করছেন!

খন্দকার এ মামুন: চিকিৎসার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য আমরা তৈরি করেছি মেডিক্যাল জিপিটি। এটি একটি এআই মডেল, যা ক্লিনিক্যাল ডেটা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে সাহায্য করে। এটি আমরা গেটস ফাউন্ডেশন ও আইডিআরসি কানাডার অর্থায়নে বাংলা ভাষায় তৈরি করছি। এর নলেজ-বেজড ক্লিনিক্যালি ভ্যালিডেটেড ডেটা থেকে তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, ৮০-৯০ শতাংশ সঠিকতা থাকলেই এটি গ্রহণযোগ্য। আমরা প্রাথমিকভাবে সেক্সুয়াল, রিপ্রোডাকটি এবং মেন্টাল হেলথে ফোকাস করছি। পরে আমরা অন্য বিষয়ও সংযুক্ত করব। এটি বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায় কাজ করবে এবং এটিকে আমরা বাংলা মেডিক্যাল জিপিটি বলছি।

প্রশ্ন

আপনি যখন মেডিক্যাল জিপিটির কথা বলছেন, তখন তো এর সঙ্গে মেডিক্যাল শিক্ষার যোগসূত্রের বিষয়টি চলে আসে। বর্তমান ব্যবস্থায় কি তা করা সম্ভব? 

খন্দকার এ মামুন: বর্তমান মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেকটা পুরোনো পাঠ্যসূচির ওপর নির্ভরশীল। এখানে দুটি বিষয় জরুরি। প্রথমত, শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নত করা। দ্বিতীয়ত, এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তি শিক্ষাব্যবস্থায় যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা। এআই ব্যবহার করে বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা যদি এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারি, তবে পিছিয়ে পড়ব। লক্ষ রাখতে হবে যে এআই কোনোভাবেই চিকিৎসক বা নার্সকে প্রতিস্থাপন করবে না; বরং এটি তাদের দক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। মেডিক্যাল ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষ থেকেই এআইয়ের ব্যবহার শেখা জরুরি। 

প্রশ্ন

নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে এআই নিয়ে কোনো আওয়াজ শুনতে পান? শুনতে চান?

খন্দকার এ মামুন: মানুষকে এগিয়ে নিতে, দেশে পরিবর্তন আনতে রাজনৈতিক দলগুলো, রাজনৈতিক নেতারা, প্রার্থীরা অনেক কথা বলছেন, প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কিন্তু দুনিয়াকে অতি দ্রুত পাল্টে দিচ্ছে যে প্রযুক্তি, তার ব্যবহারের কথা কেউ মুখেই আনছেন না। আপনি স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে চান, কিন্তু এআই কীভাবে ব্যবহার করবেন, বলবেন না, তা কী করে হয়? রাজনীতিকদের এটা বুঝতে হবে যে আপনি যা করতে চান, তা করতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা করবে এআই। আপনি বলুন আপনি কীভাবে দেশের মানুষের জন্য এআই ব্যবহার করবেন। রাজনীতিবিদদের মুখে এআই নিয়ে কথা শুনতে চাই।

প্রশ্ন

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

খন্দকার এ মামুন: প্রথম আলোকে ধন্যবাদ।