এই রকম ফোর–টোয়েন্টি সরকার জীবনে দেখিনি: মান্না

পেশাজীবীদের সংগঠন প্রফেশনালস মুভমেন্ট অব বাংলাদেশ আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন বক্তারা
ছবি: প্রথম আলো

এই সরকারের বিরুদ্ধে পেশাজীবীরা একা কিছু করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘এই রকম ফোর–টোয়েন্টি সরকার জীবনে দেখিনি। যখন ক্লাস ওয়ানের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, এ রকম প্রশ্নপত্র ফাঁস তো বহু আগে থেকেই হচ্ছে, কত নির্বিকার! চট্টগ্রামে টিসিবির ট্রাকের পেছনে নারী-পুরুষ দৌড়াচ্ছে।’

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আজ শনিবার দুপুরে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। ‘দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের ভূমিকা’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বিএনপি সমমনা পেশাজীবীদের সংগঠন প্রফেশনালস মুভমেন্ট অব বাংলাদেশ।

সেমিনারে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনীতির লড়াইয়ে পেশাজীবীদের ভূমিকা আছে। এই সরকারের অধীনে ভোট হবে না। এই সরকারকে অপসারণ করতে হবে, এই সরকারকে সরিয়ে কাকে আনবেন, সেটাও নির্ধারণ করতে হবে পেশাজীবীদের।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। তিনি সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা একটা অমানবিক, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপদার্থ স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে বাস করছি এ দেশে। আগামী কয়েক মাসে তাঁদের ওপর আরও আন্তর্জাতিক চাপ আসবে এবং বাংলাদেশের মানুষ মিছিল করে এ কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়বেন।’

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা কেউ করতে পারেন না বলে অভিযোগ করেন সেমিনারে অংশ নেওয়া বক্তারা। তাঁরা বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ে প্রতিবাদ করাটা এ দেশে এখন অন্যায়। ব্যাংকিং খাতকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে লুট করেছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের সরকার। এগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরাটা পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

পেশাজীবীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ বলেন, রাজনীতিবিদ নাকি পেশাজীবী—কে আন্দোলন করবেন, এ প্রশ্ন এসেছে। পেশাজীবীরা আন্দোলনের সহায়ক শক্তি। তাঁরা একধরনের স্ফুলিঙ্গ তৈরি করতে পারেন। তবে এ স্ফুলিঙ্গের পরিণতি রাজনীতিবিদদের হাতে। পেশাজীবীরা নীরব হয়ে বসে থাকতে পারেন না। তিনি আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো নিকৃষ্ট স্বৈরাচার, দুর্নীতিবাজের পতন ঘটানো দরকার। আমরা আন্দোলন করব। এ আন্দোলন থেকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম তৈরি হবে।’

সেমিনারে মূল বক্তব্য পাঠকালে প্রফেশনালস মুভমেন্ট অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, টিসিবির ট্রাকের লাইনে কারা দাঁড়াচ্ছেন, তা দেখে দেশের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বোঝা যায়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আজ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, লাঠিপেটা করা হচ্ছে। দেশকে দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করতে পেশাজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে অংশ নেবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।