নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন

বিজয়ী কাউন্সিলরদের মধ্যে মাদক ও হত্যা মামলার আসামি

নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সরকারদলীয় সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারী বলে পরিচিত মোট ১৩ জন কাউন্সিলর পদে জিতেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে বোমা, মাদক ও হত্যা মামলা রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭টি সাধারণ কাউন্সিলর পদের মধ্যে ১৩ জনই শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ। তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নেতারাও আছেন।
বিজয়ীরা হলেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতা হাজি মো. ওমর ফারুক, ২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির নেতা ও ৭ খুন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) ইকবাল হোসেন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের নেতা ও ৭ খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল (বাদল), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের আরিফুল হক হাসান, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মতিউর রহমান (মতি), ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী হাসান আলা, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ইফতেখার আলম (খোকন), ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপির শকওত হাশেম (শকু), ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নেতা শফিউদ্দিন প্রধান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবদুল করিম বাবু ওরফে ডিশ বাবু, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে সাইফুদ্দিন আহম্মদ (দুলাল)।
তিন নেতার আত্মীয় হেরেছেন, জিতেছেনও তিনজনের: নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর ভাগনে মিনহাজুল কাদির পরাজিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপির সাবেক সাংসদ আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউসার এবং খুন হওয়া কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম হেরেছেন।
তবে বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকারের ভাই মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও বিএনপির সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের ছেলে গোলাম মুহাম্মদ সাদরিল এবং ৭ খুন মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা নূর হোসেনের ভাতিজা শাহজালাল বাদল জিতেছেন।
কাউন্সিলরদের দলীয় পরিচয়: নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ১৩ জন এবং বিএনপি-সমর্থিত ১২ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন ও বাসদ-সমর্থিত ১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। আর সংরক্ষিতÿনারী কাউন্সিলরের ৯টি পদের ৬টিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ও এবং বাকি ৩টিতে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ মোট ৩৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৯ জন, বিএনপির ১৫ এবং জাপা ও বাসদের একজন করে প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর: সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে বিজয়ীরা হলেন (১, ২ ও ৩) নম্বর ওয়ার্ডে মাকসুদা মোজাফফর (আওয়ামী লীগ), (৪, ৫ ও ৬) নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ারা বেগম (আওয়ামী লীগ), (৭, ৮ ও ৯) নম্বর ওয়ার্ডে আয়েশা আক্তার (বিএনপি), (১০, ১১ ও ১২) নম্বর ওয়ার্ডে মিনায়ারা বেগম (আওয়ামী লীগ), (১৩, ১৪, ১৫) নম্বর ওয়ার্ডে শারমিন হাবিব (আওয়ামী লীগ), (১৬, ১৭, ১৮) নম্বর ওয়ার্ডে আফসানা আফরোজ (বিএনপি), (১৯, ২০, ২১) নম্বর ওয়ার্ডে শিউলী নওশাদ (আওয়ামী লীগ), (২২, ২৩, ২৪) নম্বর ওয়ার্ডে শাওন অংকন (আওয়ামী লীগ) এবং (২৫, ২৬, ২৭) নম্বর ওয়ার্ডে হোসনে আরা (বিএনপি)।
বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের দ্বিতীয় তলায় রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান তালুকদার তাঁর কার্যালয়ে বেসরকারিভাবে তাঁদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।