
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার–প্রচরাণা শুরুর এখনো কয়েক দিন বাকি। তবে বসে নেই প্রার্থীরা। নিজেদের মতো করে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তাঁরা। আড্ডা–গল্প ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ভোটদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন প্রার্থীরা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। ২৬ আগস্ট চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা। অবশ্য ডাকসু নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের বলেছে, ২৬ আগস্টের আগেও ভোটের প্রচারণা না করে প্রার্থীরা শুধু কুশল বিনিময় করলে আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে না।
আজ জুমার নামাজের পর মসজিদ থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন ডাকসু নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম এবং একই পদে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা আবু বাকের মজুমদার।
বিকেলের দিকে এক পর্যায়ে দুজনই অনুসারীদের নিয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে আসেন। এ সময় বাকেরকে দেখে হাসতে হাসতে টিপ্পনী কেটে হামিম বলেন, ‘বাকের, আচরণবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না।’ হামিমের এ কথা শুনে আবু বাকেরও হেসে ফেলেন।
শহীদুল্লাহ হলের পুকুরপাড়ে আসার আগে ফজলুল হক মুসলিম হলে নামাজ পড়ার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে আবু বাকের কথা বলেন। আর হামিম অমর একুশে হলে জুমার নামাজ পড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
জুমার নামাজের পর হলের ক্যানটিনের সামনে যান ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে জিএস প্রার্থী আবু বাকের। এ সময় এই প্যানেলের কয়েকজন প্রার্থী ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা-কর্মীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন। পরে আবু বাকের সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
আবু বাকের বলেন, ‘আজকে পবিত্র জুমার দিন। হলের মসজিদে নামাজ পড়লাম। আমি এই হলেরই শিক্ষার্থী। ফলে আমার বন্ধু, ছোট ভাই, বড় ভাই—সবার সঙ্গে এমনিতেই দেখা হয়, কথা হয়। এরই অংশ হিসেবে কুশল বিনিময় করছি। এটা আমার স্বাভাবিক জীবনের অংশ, প্রচারের অংশ নয়। নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা যখন শুরু হবে, তখনই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা করব।’
ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন অভিযোগ করে এই জিএস প্রার্থী বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট ব্যবস্থা নিতে দেখিনি। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র উত্তোলনের দিন বেশ কয়েকজন মিছিল নিয়ে হাজির হয় এবং প্রার্থীদের নামে স্লোগান দেওয়া হয়।
এদিকে অমর একুশে হলে নামাজ পড়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর ফজলুল হক মুসলিম হলে যান ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি প্রথমে হলের ক্যানটিনে যান। একপর্যায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে তিনিও শহীদুল্লাহ হলে যান। পথে শিক্ষার্থীদের যাঁদের সঙ্গেই দেখা হচ্ছিল, তাঁদের কাছে নিজের পরিচয় দিয়ে দোয়া চান হামিম।
হামিম কবি জসীমউদ্দীন হলের শিক্ষার্থী। শহীদুল্লাহ হলে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে ছাত্রদলের জিএস প্রার্থী বলেন, তিনি আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেননি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন।