ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি
ছাত্র গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে গিয়ে ৪ জন গ্রেপ্তার, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ফুল নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যাওয়ার পথে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে।

আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের কাছে স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতের সড়ক থেকে তাঁদের আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক প্রথম আলোকে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হাতে ফুল নিয়ে মিছিল করতে করতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতের সড়ক থেকে চারজনকে আটক করা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, এই মিছিলে ১০–১৫ জন ছিলেন। তাঁদের হাতে ছিল ফুলের মালা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় চারজনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন নারী ও একজন পুরুষ।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের কিংবা দলটির নিষিদ্ধ সহযোগী সংগঠনের কোনোটিতে যুক্ত কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐতিহাসিক ভাষণে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তাঁর দুই সপ্তাহ পর ২৬ মার্চ এলেও তাঁর সেই ভাষণেই ছিল স্বাধীনতার দিকনির্দেশনা।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ঘটা করে ৭ মার্চ পালন করা হতো। ২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম রয়েছে নিষিদ্ধ। অভ্যুত্থানের সাত মাস পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন দিবসে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে অনেকে হামলা–হেনস্তার শিকার হন। কাউকে কাউকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করে।