
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না কিংবা ভোটকেন্দ্রে নির্বিঘ্নে গিয়ে ভোট দেওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে ভোটাররা এখনো শঙ্কিত বলে দাবি করেছেন ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী তাসনিম জারা।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছেড়ে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এই নারী গণসংযোগের সময় এমন বার্তাই পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। আজ বুধবার রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধমন্দির এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগে ছিলেন তিনি।
সেখানে নিরাপত্তা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাসনিম জারা বলেন, ‘নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আছে। আমরা জানি যে তফসিল ঘোষণার পরের দিনই ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। যাঁরা গুলি করেছেন, সেই ব্যক্তিরা কিন্তু গ্রেপ্তার হননি এখনো। ভোটাররা অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন যে ভোটটা সুষ্ঠু হবে কি না? তাঁরা নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন কি না?’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৩৬ দিনে অন্তত ১৫ জন নিহত হন। প্রার্থীদের অনেকেই শঙ্কা প্রকাশের পর তাঁদের নিরাপত্তায় সশস্ত্র দেহরক্ষী দিয়েছে পুলিশ।
অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গেলেও ভোটাররা এখনো আশ্বস্ত হননি বলে মনে হয়েছে তাসনিম জারার।
তাসনিম জারা বলেন, আগের মতো আগেই ভোট দেওয়া হয়ে গেছে কিংবা সুষ্ঠুভাবে গণনা হচ্ছে না—এরকম শঙ্কা অনেকেই প্রকাশ করছেন। এ শঙ্কা অবশ্যই দূর করতে হবে।
নির্বাচনে সবার সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হওয়া খুব প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এনসিপি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তরুণদের ভোট ভাগ হবে কি না, এমন প্রশ্নে তাসনিম জারা বলেন, ‘নির্বাচনে একাধিক দল ও প্রার্থী থাকবে। সুস্থ প্রতিযোগিতাই প্রত্যাশিত। ভোটাররাই তাঁদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেবেন।’
নিজের প্রচারণার ধরন নিয়ে তাসনিম জারা বলেন, ‘আমি ফুটবল মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছি। সচেতনভাবেই আমরা প্রচারণা একটু ভিন্নভাবে করছি। কোনো শোডাউন, মিছিল বা পোস্টার লাগাচ্ছি না। লাউডস্পিকারের ব্যবহারও এড়িয়ে চলছি, যাতে মানুষের ভোগান্তি না হয়।’
অর্থ ও পেশিশক্তির বাইরে গিয়েও রাজনীতি করা যায়, এটি প্রমাণ করতেই ব্যক্তিগত সম্পর্কভিত্তিক প্রচারণায় গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান চিকিৎসা পেশা থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে আসা এই নারী।
তাসনিম জারা বলেন, ‘অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, এমনকি বস্তি এলাকাতেও গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলছি। সাড়া পাচ্ছি কল্পনার বাইরে। মানুষ গাড়ি বা রিকশা থেকে নেমে কথা বলছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। নারী-পুরুষ, তরুণ-বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের কাছ থেকেই ভালোবাসা পাচ্ছি।’
নিজের নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে তাসনিম জারা জানান, শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্কুলগুলোতে আধুনিক বিজ্ঞানাগার ও ভাষাগার স্থাপন, মানসিক স্বাস্থ্য ও সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য এআই ও কোডিং শেখার সুযোগ তৈরি করা।
বেকারত্ব দূর করার জন্য ‘স্টার্টআপ ঢাকা নাইন’ নামে একটি সিড ফান্ড গঠনের পরিকল্পনাও জানান এই প্রার্থী। পাশাপাশি কর্মজীবী মায়েদের জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক ডে-কেয়ার সেন্টার এবং ঘরে বসে কাজ করা নারীদের জন্য ই-কমার্স প্রশিক্ষণ ও মার্কেটপ্লেসে যুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।