
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার দাবি জানিয়েছে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নেটওয়ার্ক ফর পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)। পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে তারা।
ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গ্রেপ্তারের খবর ভারত নিশ্চিত করার পর আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানান এনপিএর মুখপাত্র নাজিফা জান্নাত, তুহিন খান ও ফেরদৌস আরা রুমী।
গত শনিবার রাতে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশে হত্যা মামলার এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ।
এনপিএর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হত্যাকারীদের ভারতে গ্রেপ্তারের খবর আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এই গ্রেপ্তার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা।’
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম ও তাঁর সহযোগী আলমগীরকে দেশে ফেরাতে এরই মধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে আজই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, এ জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ শুরু হয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর আক্রান্ত হন ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। গুলিবিদ্ধ হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলেও বাঁচানো যায়নি। ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।
এনপিএর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। হাদি হত্যা, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, ছায়ানট ও উদীচীর মতো সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সংঘটিত হামলা—এই প্রতিটি ঘটনার বিচার হতে হবে। এই ঘটনাগুলো একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা উচিত বলে আমরা মনে করি।’
হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদেরও দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা গেলে এই পুরো ষড়যন্ত্রের নেপথ্যের শক্তিগুলোও উন্মোচিত হবে বলে মনে করছে এনপিএ।
বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে তিনটি দাবি জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। এগুলো হলো ভারতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া; হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা ও অর্থদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, তা তদন্ত করে ১৭ জনকে আসামি করে গত ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ১৭ জনের মধ্যে ১২ জন গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে।
এদিকে এই অভিযোগপত্র নিয়ে মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন দেওয়ায় এখন আদালতের আদেশে সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে।